ঢাকা ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজায় পানি সংগ্রহের সময় ৭০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরায়েল

২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পানি সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে ৭০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই শিশু। সর্বশেষ গতকাল রোববার (১৩ জুলাই) গাজার মধ্যাঞ্চলে একটি পানি সংগ্রহস্থলে ইসরায়েলি হামলায় ৮ শিশুসহ কমপক্ষে ১২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

সোমবার (১৪ জুলাই) গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় পানির জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে একটি ‘পরিকল্পিত এবং ইচ্ছাকৃত তৃষ্ণা যুদ্ধ’ চালিয়ে যাচ্ছে, যা সমস্ত আন্তর্জাতিক এবং মানবাধিকার চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন

পানিকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজাবাসীদের পানি সংগ্রহের সময় ১১২টি গণহত্যা চালিয়েছে। এতে ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই শিশু।

মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে গাজায় ৭২০টিরও বেশি পানির কূপ ধ্বংস করেছে। যার ফলে ১২ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গাজায় প্রতি মাসে ন্যূনতম সংখ্যক নলকূপ, পয়ঃনিষ্কাশন স্টেশন, বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাত পরিচালনার জন্য ১ কোটি ২০ লাখ লিটার জ্বালানি প্রয়োজন। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অবরোধের কারণে উপত্যকার পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে অচল হয়ে পড়েছে এবং মহামারী ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে।

ইসরায়েলি বাহিনীর পানিকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পানির কূপ ও পয়ঃনিষ্কাশন স্টেশনগুলোকে চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণে জ্বালানি ও ভারী সরঞ্জাম সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছে মিডিয়া অফিস।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা সীমান্তে খাদ্য, চিকিৎসা এবং মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর পথ বন্ধ করে রেখেছে, যার ফলে উপত্যকাজুড়ে চলমান তীব্র মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ইতোমধ্যেই গাজার ২০ লাখের বেশি বাসিন্দা দুর্ভিক্ষের মধ্যে জীবনযাপন করছেন, প্রায় প্রতিদিনিই ক্ষুধার কারণে অনেক ফিলিস্তিনির মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতির আন্তর্জাতিক আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় বর্বর ও নৃশংস হামলা অব্যাহত রেখেছে। এতে প্রতিদিন শতশত ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হচ্ছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৫৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ জন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

গাজায় পানি সংগ্রহের সময় ৭০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরায়েল

আপডেট সময় : ০৮:১২:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পানি সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে ৭০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই শিশু। সর্বশেষ গতকাল রোববার (১৩ জুলাই) গাজার মধ্যাঞ্চলে একটি পানি সংগ্রহস্থলে ইসরায়েলি হামলায় ৮ শিশুসহ কমপক্ষে ১২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

সোমবার (১৪ জুলাই) গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় পানির জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে একটি ‘পরিকল্পিত এবং ইচ্ছাকৃত তৃষ্ণা যুদ্ধ’ চালিয়ে যাচ্ছে, যা সমস্ত আন্তর্জাতিক এবং মানবাধিকার চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন

পানিকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজাবাসীদের পানি সংগ্রহের সময় ১১২টি গণহত্যা চালিয়েছে। এতে ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই শিশু।

মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে গাজায় ৭২০টিরও বেশি পানির কূপ ধ্বংস করেছে। যার ফলে ১২ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গাজায় প্রতি মাসে ন্যূনতম সংখ্যক নলকূপ, পয়ঃনিষ্কাশন স্টেশন, বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাত পরিচালনার জন্য ১ কোটি ২০ লাখ লিটার জ্বালানি প্রয়োজন। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অবরোধের কারণে উপত্যকার পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে অচল হয়ে পড়েছে এবং মহামারী ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে।

ইসরায়েলি বাহিনীর পানিকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পানির কূপ ও পয়ঃনিষ্কাশন স্টেশনগুলোকে চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণে জ্বালানি ও ভারী সরঞ্জাম সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছে মিডিয়া অফিস।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা সীমান্তে খাদ্য, চিকিৎসা এবং মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর পথ বন্ধ করে রেখেছে, যার ফলে উপত্যকাজুড়ে চলমান তীব্র মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ইতোমধ্যেই গাজার ২০ লাখের বেশি বাসিন্দা দুর্ভিক্ষের মধ্যে জীবনযাপন করছেন, প্রায় প্রতিদিনিই ক্ষুধার কারণে অনেক ফিলিস্তিনির মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতির আন্তর্জাতিক আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় বর্বর ও নৃশংস হামলা অব্যাহত রেখেছে। এতে প্রতিদিন শতশত ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হচ্ছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৫৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ জন।