ঢাকা ০৮:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরাকে ১২ তুর্কি সেনার মৃত্যু

উত্তর ইরাকে একটি গুহায় অনুসন্ধান অভিযান চালানোর সময় মিথেন গ্যাসের বিষক্রিয়ায় তুরস্কের ১২ সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।

তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার (৭ জুলাই) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গুহায় গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে আমাদের চার সাহসী সৈনিক আরও প্রাণ হারিয়েছেন, ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ জনে।’

এর আগে, রোববার (৬ জুলাই) প্রথম দফায় মৃতের সংখ্যা ৮ বলে জানানো হয়েছিল।

মিথেন একটি বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং দাহ্য গ্যাস, যা উচ্চ মাত্রায় উপস্থিত থাকলে শ্বাসরোধজনিত মৃত্যু ঘটাতে পারে।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
তুরস্ক জানিয়েছে, উত্তর ইরাকে একটি গুহায় ১৯ জন সেনা একটি অনুসন্ধান অভিযানে অংশ নেন। ওই গুহাটি আগে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)-র দ্বারা মাঠ হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

তারা তিন বছর আগে পিকেকে গুলিতে নিহত এক তুর্কি সেনার মৃতদেহ উদ্ধারে সেখানে অভিযান চালাচ্ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গুহার ভেতরে প্রবেশের পর সেনারা দ্রুত শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করেন এবং কয়েকজন অচেতন হয়ে পড়েন।

দুর্ঘটনার পর বাকি সেনাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

‘ক্লাও-লক’ অপারেশন এলাকা
তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে “ক্লাও-লক অপারেশন অঞ্চলে”—যা ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে পিকেকে’র বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের অংশ। অভিযানের লক্ষ্য ছিল সীমান্তবর্তী গুহাগুলো থেকে পিকেকে জঙ্গিদের হটানো।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, গুহাটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮৫২ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এবং এটি অতীতে পিকেকে’র ফিল্ড হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

পিকেকে ও তুরস্কের দীর্ঘ সংঘাত
তুরস্ক ও পিকেকে’র মধ্যে চলমান ৪০ বছরের সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই সংঘাত ইরাক ও সিরিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে বর্তমানে তুরস্ক ও পিকেকে’র মধ্যে অস্ত্রবিরতির সম্ভাব্য আলোচনা চলছে, যেহেতু পিকেকে সামরিক কর্মকাণ্ড স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে।

উদ্ধার কাজ এখনও চলছে
তিন বছর ধরে ওই অঞ্চলে মৃত সৈনিকের দেহ উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে তুরস্কের সেনাবাহিনী। গ্যাস দুর্ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়, তবে ধারণা করা হচ্ছে, গুহার ভেতরে জমে থাকা মিথেন গ্যাস দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

তুরস্কে এই ঘটনা ব্যাপক শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। নিহত সেনাদের মরদেহ নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তুর্কি সরকার জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

ইরাকে ১২ তুর্কি সেনার মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
উত্তর ইরাকে একটি গুহায় অনুসন্ধান অভিযান চালানোর সময় মিথেন গ্যাসের বিষক্রিয়ায় তুরস্কের ১২ সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।

তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার (৭ জুলাই) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গুহায় গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে আমাদের চার সাহসী সৈনিক আরও প্রাণ হারিয়েছেন, ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ জনে।’

এর আগে, রোববার (৬ জুলাই) প্রথম দফায় মৃতের সংখ্যা ৮ বলে জানানো হয়েছিল।

মিথেন একটি বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং দাহ্য গ্যাস, যা উচ্চ মাত্রায় উপস্থিত থাকলে শ্বাসরোধজনিত মৃত্যু ঘটাতে পারে।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
তুরস্ক জানিয়েছে, উত্তর ইরাকে একটি গুহায় ১৯ জন সেনা একটি অনুসন্ধান অভিযানে অংশ নেন। ওই গুহাটি আগে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)-র দ্বারা মাঠ হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

তারা তিন বছর আগে পিকেকে গুলিতে নিহত এক তুর্কি সেনার মৃতদেহ উদ্ধারে সেখানে অভিযান চালাচ্ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গুহার ভেতরে প্রবেশের পর সেনারা দ্রুত শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করেন এবং কয়েকজন অচেতন হয়ে পড়েন।

দুর্ঘটনার পর বাকি সেনাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

‘ক্লাও-লক’ অপারেশন এলাকা
তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে “ক্লাও-লক অপারেশন অঞ্চলে”—যা ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে পিকেকে’র বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের অংশ। অভিযানের লক্ষ্য ছিল সীমান্তবর্তী গুহাগুলো থেকে পিকেকে জঙ্গিদের হটানো।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, গুহাটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮৫২ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এবং এটি অতীতে পিকেকে’র ফিল্ড হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

পিকেকে ও তুরস্কের দীর্ঘ সংঘাত
তুরস্ক ও পিকেকে’র মধ্যে চলমান ৪০ বছরের সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই সংঘাত ইরাক ও সিরিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে বর্তমানে তুরস্ক ও পিকেকে’র মধ্যে অস্ত্রবিরতির সম্ভাব্য আলোচনা চলছে, যেহেতু পিকেকে সামরিক কর্মকাণ্ড স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে।

উদ্ধার কাজ এখনও চলছে
তিন বছর ধরে ওই অঞ্চলে মৃত সৈনিকের দেহ উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে তুরস্কের সেনাবাহিনী। গ্যাস দুর্ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়, তবে ধারণা করা হচ্ছে, গুহার ভেতরে জমে থাকা মিথেন গ্যাস দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

তুরস্কে এই ঘটনা ব্যাপক শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। নিহত সেনাদের মরদেহ নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তুর্কি সরকার জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।