ঢাকা ০৬:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজের দাবি করে সড়কের পাশের গাছ কেটে নিলেন দুই বিএনপি নেতা

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৫
  • ২৮০ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বাঁকড়া বাজার-রায়পুর সড়ক সংলগ্ন আটটি বিশাল সাইজের মেহগনি গাছ কেটে নিয়ে গেছেন স্থানীয় বিএনপির দুই নেতা। তাদের দাবি, গাছগুলো তাদের জমিতে লাগানো, তাই তারা কেটে নিয়েছেন।

উপজেলার ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নের বাঁকড়া বাজার এলাকায় সোমবার এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্তরা হলেন, ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ হিল কাফি ও একই ইউনিয়েনের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আকবর আলী।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকাল থেকে কড়া বাজার এলাকায় রাস্তার পাশে থাকা গাছ কাটতে শুরু করেন কাফি ও আকবর। খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে সেখানে আসেন উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা তাদের গাছ কাটতে নিষেধ করে চলে যান। তবে তাদের নিষেধ অমান্য করে আরও বেশি শ্রমিক লাগিয়ে ও মেশিন দিয়ে গাছ কাটা চলমান রাখেন তারা।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে বাঁকড়া-রায়পুর গ্রামীণ সড়কের পাশে মেহগনি গাছগুলো রোপণ করা হয়। সেই গাছগুলোর এখন প্রতিটির বাজার মূল্য প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা।

অভিযোগের বিষয়ে আকবর বলেন, ‘২০১৭ সালে জমিগুলো আমাদের বলে ভূমি অফিস রায় দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার থাকায় এতদিন গাছ কাটতে পারিনি। এখন কাটছি। জমি আমাদের হওয়ার কারণে প্রশাসন থেকে বাধা দেওয়ার কিছু নেই।’ একই ধরণের কথা বলেছেন আরেক বিএনপি নেতা কাফি।

উপজেলা বন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়ে আমরা কিছুই জানতাম না। গাছগুলো সড়ক বিভাগ কিংবা আমাদের লাগানো। সরকারের রোপণকৃত গাছ এভাবে কেটে নেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। গাছ কাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘গাছগুলো একেবারে সড়কের সঙ্গে ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন ও বন বিভাগের লোকজন গাছকাটা বন্ধ করে আসেন। তারপরেও নির্দেশনা অমান্য করে তারা গাছ কাটা শুরু করে। তবে গাছ কাটা আবারও বন্ধ করা হয়েছে। নিজেদের জমিতে গাছ রয়েছে বলে যারা দাবি করছেন, তাদেরকে কাগজপত্র দেখাতে বলা  হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

নিজের দাবি করে সড়কের পাশের গাছ কেটে নিলেন দুই বিএনপি নেতা

আপডেট সময় : ০৬:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৫

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বাঁকড়া বাজার-রায়পুর সড়ক সংলগ্ন আটটি বিশাল সাইজের মেহগনি গাছ কেটে নিয়ে গেছেন স্থানীয় বিএনপির দুই নেতা। তাদের দাবি, গাছগুলো তাদের জমিতে লাগানো, তাই তারা কেটে নিয়েছেন।

উপজেলার ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নের বাঁকড়া বাজার এলাকায় সোমবার এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্তরা হলেন, ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ হিল কাফি ও একই ইউনিয়েনের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আকবর আলী।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকাল থেকে কড়া বাজার এলাকায় রাস্তার পাশে থাকা গাছ কাটতে শুরু করেন কাফি ও আকবর। খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে সেখানে আসেন উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা তাদের গাছ কাটতে নিষেধ করে চলে যান। তবে তাদের নিষেধ অমান্য করে আরও বেশি শ্রমিক লাগিয়ে ও মেশিন দিয়ে গাছ কাটা চলমান রাখেন তারা।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে বাঁকড়া-রায়পুর গ্রামীণ সড়কের পাশে মেহগনি গাছগুলো রোপণ করা হয়। সেই গাছগুলোর এখন প্রতিটির বাজার মূল্য প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা।

অভিযোগের বিষয়ে আকবর বলেন, ‘২০১৭ সালে জমিগুলো আমাদের বলে ভূমি অফিস রায় দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার থাকায় এতদিন গাছ কাটতে পারিনি। এখন কাটছি। জমি আমাদের হওয়ার কারণে প্রশাসন থেকে বাধা দেওয়ার কিছু নেই।’ একই ধরণের কথা বলেছেন আরেক বিএনপি নেতা কাফি।

উপজেলা বন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়ে আমরা কিছুই জানতাম না। গাছগুলো সড়ক বিভাগ কিংবা আমাদের লাগানো। সরকারের রোপণকৃত গাছ এভাবে কেটে নেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। গাছ কাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘গাছগুলো একেবারে সড়কের সঙ্গে ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন ও বন বিভাগের লোকজন গাছকাটা বন্ধ করে আসেন। তারপরেও নির্দেশনা অমান্য করে তারা গাছ কাটা শুরু করে। তবে গাছ কাটা আবারও বন্ধ করা হয়েছে। নিজেদের জমিতে গাছ রয়েছে বলে যারা দাবি করছেন, তাদেরকে কাগজপত্র দেখাতে বলা  হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া