ঢাকা ০৭:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বান্দরবানে পিআইও’র কোটি টাকা’র সড়ক নির্মাণ কাজে নয় ছয়ের অভিযোগ

বান্দরবানের রোয়াংছড়ির ছাইঙ্গ্যা এলাকায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের গ্রামীন সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের প্রায় কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আর এইসব অনিয়মের তদারকি না করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারকে সহযোগীতা করছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের কর্তারা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, প্রায় কোটি টাকা ব্যায়ে রোয়াংছড়ি উপজেলার ছাইঙ্গ্যা ইউপির তেতুলিয়া ও পাইক্ষ্যং পাড়ার দুইটি গ্রামীণ সড়কের এক হাজার মিটার নতুন সড়ক নির্মাণ করছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় রোয়াংছড়ি। যা বাস্তবায়ন করছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল করিমের টিকাদারি প্রতিষ্ঠান করিম এন্টারপ্রাইজ।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করিম এন্টারপ্রাইজ কাজটি পেলেও মাঠ পর্যায়ে উপ-ঠিকাদার হুমায়ন কবির এবং খলিল মাঝি নামের দুইজন ঠিকাদার কাজটি তদারকি করছেন। নিম্ম মানের ইট,পাহাড়ের মাটি, নদীর বালি দিয়ে করা হচ্ছে রাস্তার সেন্ট ফিলিং এর কাজ। রাস্তায় ৬ ইঞ্চি সেন্ট ফিলিং করার কথা থকলেও ৪-২ ইঞ্চি পাহাড়ি মাটি ও নদীর বালি মিশ্রিত সেন্ট ফিলিং এর উপর রোলার গাড়ি দিয়ে কম্পেকশন না করেই বাসানো হচ্ছে অর্ধ ভাঙ্গা নিম্ন মানের ইট।

স্থানীয়দের অভিযোগ সড়ক নির্মাণের কাজটি নিয়মিত তদারকি না করে পরোক্ষভাবে নিন্মমানের কাজ চালিয়ে যেতে টিকাদারকে সহযোগিতা করছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিল্টন দস্তিদার। এছাড়াও ঠিকাদার হুমায়ূন কবির বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে, বান্দরবান সদর উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর এর ব্যাক্তিগত সহকারী থাকার সুবাদে রাজনৈতিক প্রভাব ও চেয়ারম্যান এর ক্ষমতার দাপটে উপজেলা অফিসের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেছেন।

অভিযোগ আছে এখনো একই নিয়মে রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের চলমান কোটি টাকার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজটি নিম্ম মানের নির্মাণ সামগ্রীর ব্যাবহার আর নিয়মের তোয়াক্কা না করে বাস্তবায়ন করতে উপজেলা পিআইও মিল্টন দস্তিদার কে আর্থিক ভাবে সুবিধা দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন।

ঠিকাদার হুমায়ুন কবির ও খলিল মাঝির এই কারসাজির সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীরের।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরজমিনে প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে গেলে স্থানীয়রা জানান, সড়ক দুইটি নির্মাণে বক্স কেটে অন্তত ৬ ইঞ্চি সেন্ট ফিলিংয়ের পর কম্পেকশন করে তার উপর দুই ধাপে ভাল মানের ইট বসানোর কথা থাকলেও, সেখানে বক্স করার পরিবর্তে কোন রকমে সড়ক দুইটির মাটি সমান করে তেতুলিয়া পাড়া সড়কে পার্শ্ববর্তী সাঙ্গু নদীর বালি ও পাহাড়ি মাটি মিশ্রিত সেন্ট ফিলিংয়ের কাজ করা হচ্ছে। রোলার গাড়ি দিয়ে কম্পেকশন করা হয়নি ।আর পাইক্ষ্যংপাড়া সড়কে বালু না দিয়েই বসানো হচ্ছে ইট। বসানো ইট গুলোও নিন্ম মানের বলে দাবি করছেন পাড়াবাসীরা। এত অনিয়মের মাধ্যমে নির্মিত সড়কটির স্থায়ীত্ব নিয়ে আশংকা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।উল্লেখিত এলাকা গুলো নদী তীরবর্তী হওয়ায় প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে এলাকাটি প্লাবিত হয়। নিম্নমানের কাজটি বাস্তবায়ন হলে এলাকার মানুষ দুর্ভোগ থেকেই যাবে বলে আশংকায় আছেন তারা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তেতুলিয়া পাড়া সড়কটিতে ইতি মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ।বাকি কাজ সম্পন্ন করতে কাজ করে যাচ্ছে টিকাদারের শ্রমিকরা।সেখানে যে বালুর স্থরটি করা হয়েছে তা কম্পেকশন না করায় পা দিলেই দেবে যাচ্ছে।এছাড়া ইটের প্রথম স্থরটিতে ব্যাবহার করা হচ্ছে ভাঙ্গা ইট।

এনিয়ে জানতে চাইলে নির্মাণ শ্রমিক ওমর ফারুক বলেন, টিকাদার হুমায়ন কবির যেভাবে বলেছেন সে ভাবে কাজ করেছেন তারা।
শ্রমিক ওমর আলীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে টিকাদার মোঃ হুমায়ুন কবিরের নিকট জানতে চাইলে তিনি নিয়ম অনুযায়ী কাজ করছেন বলে দাবি করেন।

অনিয়মের বিষয়ে ঠিকাদার হুমায়ুন করিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাজ ঠিক ভাবে হচ্ছে, কোন অনিয়ম হচ্ছে না। তারপরও আপনারা যেহেতু কষ্ট করে সাইটে গেছেন, বান্দরবান শহরে আসলে আমরা সাথে দেখা করিয়েন।

তারাছা ইউপি সদস্য মোঃ মোরশেদ জানান, তার ওয়ার্ডে সড়ক দুইটি নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা তাকে জানিয়েছেন।বিষয়টি উপজেলা কর্মকর্তাকে জানাবেন বলে জানান তিনি।

এবিষয়ে উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিল্টন দস্তিদারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাজটির টিকাদারি প্রতিষ্ঠান সম্ভবত করিম এন্টারপ্রাইজ, তিনি বাইরে থাকায় প্রকল্প ব্যয়টি এই মূহুর্তে বলতে পারছেন না।স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে চলমান কাজে সুবিধা গ্রহনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এইভাবে জানতে চাওয়াটা প্রতিবেদকের উচিত হয় নি, বলে ফোনের লাইন কেটে দেন।

এ বিষয়ে রোয়াংছড়ি উপজেলা কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি চলমান দুইটি উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেছেন। সেখানে নিন্মমানের ইট ব্যাবহার করায় কাজ দুইটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে এসেছেন।কাজের মান ভাল না করলে এসব কাজ নতুন করে করাতে বাধ্য করবেন বলে জানান তিনি জানান।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজের মামলায় নিজেই লড়তে চান শামসুল হক টুকু

বান্দরবানে পিআইও’র কোটি টাকা’র সড়ক নির্মাণ কাজে নয় ছয়ের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:৫৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ মার্চ ২০২৫

বান্দরবানের রোয়াংছড়ির ছাইঙ্গ্যা এলাকায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের গ্রামীন সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের প্রায় কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আর এইসব অনিয়মের তদারকি না করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারকে সহযোগীতা করছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের কর্তারা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, প্রায় কোটি টাকা ব্যায়ে রোয়াংছড়ি উপজেলার ছাইঙ্গ্যা ইউপির তেতুলিয়া ও পাইক্ষ্যং পাড়ার দুইটি গ্রামীণ সড়কের এক হাজার মিটার নতুন সড়ক নির্মাণ করছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় রোয়াংছড়ি। যা বাস্তবায়ন করছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল করিমের টিকাদারি প্রতিষ্ঠান করিম এন্টারপ্রাইজ।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করিম এন্টারপ্রাইজ কাজটি পেলেও মাঠ পর্যায়ে উপ-ঠিকাদার হুমায়ন কবির এবং খলিল মাঝি নামের দুইজন ঠিকাদার কাজটি তদারকি করছেন। নিম্ম মানের ইট,পাহাড়ের মাটি, নদীর বালি দিয়ে করা হচ্ছে রাস্তার সেন্ট ফিলিং এর কাজ। রাস্তায় ৬ ইঞ্চি সেন্ট ফিলিং করার কথা থকলেও ৪-২ ইঞ্চি পাহাড়ি মাটি ও নদীর বালি মিশ্রিত সেন্ট ফিলিং এর উপর রোলার গাড়ি দিয়ে কম্পেকশন না করেই বাসানো হচ্ছে অর্ধ ভাঙ্গা নিম্ন মানের ইট।

স্থানীয়দের অভিযোগ সড়ক নির্মাণের কাজটি নিয়মিত তদারকি না করে পরোক্ষভাবে নিন্মমানের কাজ চালিয়ে যেতে টিকাদারকে সহযোগিতা করছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিল্টন দস্তিদার। এছাড়াও ঠিকাদার হুমায়ূন কবির বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে, বান্দরবান সদর উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর এর ব্যাক্তিগত সহকারী থাকার সুবাদে রাজনৈতিক প্রভাব ও চেয়ারম্যান এর ক্ষমতার দাপটে উপজেলা অফিসের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেছেন।

অভিযোগ আছে এখনো একই নিয়মে রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের চলমান কোটি টাকার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজটি নিম্ম মানের নির্মাণ সামগ্রীর ব্যাবহার আর নিয়মের তোয়াক্কা না করে বাস্তবায়ন করতে উপজেলা পিআইও মিল্টন দস্তিদার কে আর্থিক ভাবে সুবিধা দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন।

ঠিকাদার হুমায়ুন কবির ও খলিল মাঝির এই কারসাজির সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীরের।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরজমিনে প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে গেলে স্থানীয়রা জানান, সড়ক দুইটি নির্মাণে বক্স কেটে অন্তত ৬ ইঞ্চি সেন্ট ফিলিংয়ের পর কম্পেকশন করে তার উপর দুই ধাপে ভাল মানের ইট বসানোর কথা থাকলেও, সেখানে বক্স করার পরিবর্তে কোন রকমে সড়ক দুইটির মাটি সমান করে তেতুলিয়া পাড়া সড়কে পার্শ্ববর্তী সাঙ্গু নদীর বালি ও পাহাড়ি মাটি মিশ্রিত সেন্ট ফিলিংয়ের কাজ করা হচ্ছে। রোলার গাড়ি দিয়ে কম্পেকশন করা হয়নি ।আর পাইক্ষ্যংপাড়া সড়কে বালু না দিয়েই বসানো হচ্ছে ইট। বসানো ইট গুলোও নিন্ম মানের বলে দাবি করছেন পাড়াবাসীরা। এত অনিয়মের মাধ্যমে নির্মিত সড়কটির স্থায়ীত্ব নিয়ে আশংকা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।উল্লেখিত এলাকা গুলো নদী তীরবর্তী হওয়ায় প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে এলাকাটি প্লাবিত হয়। নিম্নমানের কাজটি বাস্তবায়ন হলে এলাকার মানুষ দুর্ভোগ থেকেই যাবে বলে আশংকায় আছেন তারা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তেতুলিয়া পাড়া সড়কটিতে ইতি মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ।বাকি কাজ সম্পন্ন করতে কাজ করে যাচ্ছে টিকাদারের শ্রমিকরা।সেখানে যে বালুর স্থরটি করা হয়েছে তা কম্পেকশন না করায় পা দিলেই দেবে যাচ্ছে।এছাড়া ইটের প্রথম স্থরটিতে ব্যাবহার করা হচ্ছে ভাঙ্গা ইট।

এনিয়ে জানতে চাইলে নির্মাণ শ্রমিক ওমর ফারুক বলেন, টিকাদার হুমায়ন কবির যেভাবে বলেছেন সে ভাবে কাজ করেছেন তারা।
শ্রমিক ওমর আলীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে টিকাদার মোঃ হুমায়ুন কবিরের নিকট জানতে চাইলে তিনি নিয়ম অনুযায়ী কাজ করছেন বলে দাবি করেন।

অনিয়মের বিষয়ে ঠিকাদার হুমায়ুন করিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাজ ঠিক ভাবে হচ্ছে, কোন অনিয়ম হচ্ছে না। তারপরও আপনারা যেহেতু কষ্ট করে সাইটে গেছেন, বান্দরবান শহরে আসলে আমরা সাথে দেখা করিয়েন।

তারাছা ইউপি সদস্য মোঃ মোরশেদ জানান, তার ওয়ার্ডে সড়ক দুইটি নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা তাকে জানিয়েছেন।বিষয়টি উপজেলা কর্মকর্তাকে জানাবেন বলে জানান তিনি।

এবিষয়ে উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিল্টন দস্তিদারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাজটির টিকাদারি প্রতিষ্ঠান সম্ভবত করিম এন্টারপ্রাইজ, তিনি বাইরে থাকায় প্রকল্প ব্যয়টি এই মূহুর্তে বলতে পারছেন না।স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে চলমান কাজে সুবিধা গ্রহনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এইভাবে জানতে চাওয়াটা প্রতিবেদকের উচিত হয় নি, বলে ফোনের লাইন কেটে দেন।

এ বিষয়ে রোয়াংছড়ি উপজেলা কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি চলমান দুইটি উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেছেন। সেখানে নিন্মমানের ইট ব্যাবহার করায় কাজ দুইটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে এসেছেন।কাজের মান ভাল না করলে এসব কাজ নতুন করে করাতে বাধ্য করবেন বলে জানান তিনি জানান।