ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জ বিএনপিতে অস্থিরতা

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:৪২:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ২৫৯ বার পড়া হয়েছে
নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর সুনামগঞ্জের চারটি ইউনিটে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শোডাউন ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। জেলার জগন্নাথপুরে বিবদমান দু’পক্ষে সংঘর্ষ হয়েছে। বিশ্বম্ভরপুরে আগামীকাল উপজেলাব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি আহ্বান করেছে ‘বঞ্চিতপক্ষ’। দিরাইয়ে মঙ্গলবার দু’পক্ষ আলাদা আলাদা সভা করেছে। ১২ উপজেলা ও ৪ পৌরসভাসহ ১৬ ইউনিটে একসঙ্গে কমিটি ভেঙে দিয়ে একদিনে আহ্বায়ক কমিটি গঠন এ জেলায় এবারই প্রথম। 

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি দফায় দফায় সভা করে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ১৬ ইউনিটের প্রত্যেকটিতে ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে। জগন্নাথপুর উপজেলায় বিএনপির আহ্বায়ক ঘোষণা করা হয় আবু হোরায়রা ছাদ মাস্টারকে, যুগ্ম-আহ্বায়ক হয়েছেন জামাল উদ্দিন। জগন্নাথপুর পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক হয়েছেন সালাউদ্দিন মিঠু এবং যুগ্ম-আহ্বায়ক হয়েছেন এমএ মতিন। এ দুই ইউনিটের সকলেই স্থানীয় রাজনীতিতে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য কয়ছর এম আহমদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। কমিটি ঘোষণার পর নতুন কমিটির আহ্বায়ক আবু হোরায়রা ছাদ মাস্টারের নেতৃত্বে শহরে আনন্দ মিছিল বের হয়। এ সময় পদ পদবি বঞ্চিত উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্তার হোসনের সমর্থক হিসেবে পরিচিত উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর রহমান চৌধুরী ও বিএনপি নেতা আবিবুল বারী আয়হান গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন— উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাসেল বক্স, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোবারক হোসেন তুহিন, শ্রমিকদল নেতা শফিকুল ইসলাম খেজুর। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু হোরায়রা ছাদ মাস্টার বলেন, আনন্দ মিছিল শেষে আমরা চলে আসি। এরপর কিছু নেতাকর্মী পৌর পয়েন্টে ছিলেন। এ সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে লাঠিসোটা নিয়ে কয়েকজন হামলা করে। এ সময় আমাদের তিনজন কর্মী আহত হন।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর রহমান চৌধুরী বলেন, এক তরফা কমিটি অর্থাৎ পকেট কমিটি হয়েছে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু হোরায়রা ছাদ মাস্টার গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের দোসরের মতো কাজ করেছেন। আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার অনেক ছবি নেতাদের দিয়েছি। তিনি বিএনপির ক্রান্তিকালে যুক্তরাজ্যে ছিলেন। যুগ্ম-আহ্বায়ক জামাল উদ্দিনের স্ত্রী এবং বাবা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সালাহ উদ্দিন মিঠু দলীয় পদ পেতে আগ্রহী ছিলেন না, দলীয় ফরমও কেনেননি। যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ মতিন দীর্ঘদিন হয় নিস্ক্রিয়। এমন কমিটি বিএনপি কর্মীরা মানবে না। আমরা আলাদা অবস্থান নিয়ে দল করবো।

তিনি দাবি করেন, সোমবার রাতে কমিটি ঘোষণার পর আনন্দ মিছিলের নামে ব্যাঙ্গাতক উক্তি করায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযোগের জবাবে আবু হোরায়রা ছাদ মাস্টার বলেন, যারা আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে, তারা আওয়ামী লীগের দোসর ছিলেন। আমরা বিগত সময়ে নির্বাচন বর্জন করেছি, তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। আওয়ামী লীগের একপক্ষের আশীর্বাদ নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছে। এরা উগ্রপন্থী, দল ক্ষমতায় থাকলে তারা আছে, না থাকলে তারাও নেই। এমএ মতিন ও জামাল উদ্দিনকে নিয়ে তাদের অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।

দলের নেতা কয়ছর আহমদের বিরুদ্ধে তাদের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কয়ছর দলে গ্রহণযোগ্য, তাঁর একাগ্রতা আছে। এ জন্য দলের নেতারা তাঁকে মূল্যায়ন করেন।

দিরাই উপজেলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর ভাই নতুন ঘোষিত কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক মাসুক মিয়া বলেন, বিগত দিনে দলের কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন না, এমন একজনকে আহ্বায়ক করায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কমিটি ঘোষণার পর শুনেছি বিক্ষোভ করেছেন। তারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সভা-সমাবেশ করছেন।

উপজেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক আমির হোসেন বললেন, আমি সক্রিয় ছিলাম, না কি নিস্ক্রিয় ছিলাম, এলাকার মানুষ জানে। প্রমাণও আছে। কমিটি দায়িত্বশীলরা দিয়েছেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে আছেন। আমরা কাজ চালিয়ে যাব।

এদিকে, কমিটি ঘোষণার পর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে রাতেই। আগামীকাল উপজেলাজুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে জানিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী কমিটি হয়নি। বিশ্বম্ভরপুরে রাজু আহমেদ নামের যে ছেলেকে উপজেলার আহ্বায়ক করা হয়েছে। দলের কাজের সঙ্গে বিগত সময়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এ জন্য নেতাকর্মীরা রাতেই বিক্ষোভ করেছে। আগামীকাল উপজেলাজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল হবে। এই উপজেলায় দলের ‘কবর’ রচনা করেছেন দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। উপজেলার বাসিন্দা জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির স্বাক্ষর প্রদানকারী সদস্য (সদস্য সচিব) অ্যাডভোকেট আব্দুল হককে দোষারোপ করেছেন এই বিএনপি নেতা।

জেলা বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল হক বলেন, জেলার ১৬ ইউনিটের প্রস্তাবিত কমিটি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হওয়ার পর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দলে ত্যাগ বিবেচনা করেই কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশ্বম্ভরপুরে দলে স্থবিরতা ছিল। নতুন কমিটির নেতৃত্বে দলে গতিশীলতা আসবে। সেভাবেই কমিটি হয়েছে। দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ায় সকল ইউনিটেই দলে নেতৃত্ব পাওয়ার উপযোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে যোগ্য অনেকেই বাদ পড়েছেন। এ জন্য কোথাও কোথাও কিছু ক্ষোভ অভিমান আছে। দলের স্বার্থে সকলেই সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন বলে আশা করছি আমরা।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

সুনামগঞ্জ বিএনপিতে অস্থিরতা

আপডেট সময় : ০৪:৪২:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর সুনামগঞ্জের চারটি ইউনিটে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শোডাউন ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। জেলার জগন্নাথপুরে বিবদমান দু’পক্ষে সংঘর্ষ হয়েছে। বিশ্বম্ভরপুরে আগামীকাল উপজেলাব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি আহ্বান করেছে ‘বঞ্চিতপক্ষ’। দিরাইয়ে মঙ্গলবার দু’পক্ষ আলাদা আলাদা সভা করেছে। ১২ উপজেলা ও ৪ পৌরসভাসহ ১৬ ইউনিটে একসঙ্গে কমিটি ভেঙে দিয়ে একদিনে আহ্বায়ক কমিটি গঠন এ জেলায় এবারই প্রথম। 

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি দফায় দফায় সভা করে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ১৬ ইউনিটের প্রত্যেকটিতে ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে। জগন্নাথপুর উপজেলায় বিএনপির আহ্বায়ক ঘোষণা করা হয় আবু হোরায়রা ছাদ মাস্টারকে, যুগ্ম-আহ্বায়ক হয়েছেন জামাল উদ্দিন। জগন্নাথপুর পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক হয়েছেন সালাউদ্দিন মিঠু এবং যুগ্ম-আহ্বায়ক হয়েছেন এমএ মতিন। এ দুই ইউনিটের সকলেই স্থানীয় রাজনীতিতে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য কয়ছর এম আহমদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। কমিটি ঘোষণার পর নতুন কমিটির আহ্বায়ক আবু হোরায়রা ছাদ মাস্টারের নেতৃত্বে শহরে আনন্দ মিছিল বের হয়। এ সময় পদ পদবি বঞ্চিত উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্তার হোসনের সমর্থক হিসেবে পরিচিত উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর রহমান চৌধুরী ও বিএনপি নেতা আবিবুল বারী আয়হান গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন— উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাসেল বক্স, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোবারক হোসেন তুহিন, শ্রমিকদল নেতা শফিকুল ইসলাম খেজুর। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু হোরায়রা ছাদ মাস্টার বলেন, আনন্দ মিছিল শেষে আমরা চলে আসি। এরপর কিছু নেতাকর্মী পৌর পয়েন্টে ছিলেন। এ সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে লাঠিসোটা নিয়ে কয়েকজন হামলা করে। এ সময় আমাদের তিনজন কর্মী আহত হন।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর রহমান চৌধুরী বলেন, এক তরফা কমিটি অর্থাৎ পকেট কমিটি হয়েছে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু হোরায়রা ছাদ মাস্টার গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের দোসরের মতো কাজ করেছেন। আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার অনেক ছবি নেতাদের দিয়েছি। তিনি বিএনপির ক্রান্তিকালে যুক্তরাজ্যে ছিলেন। যুগ্ম-আহ্বায়ক জামাল উদ্দিনের স্ত্রী এবং বাবা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সালাহ উদ্দিন মিঠু দলীয় পদ পেতে আগ্রহী ছিলেন না, দলীয় ফরমও কেনেননি। যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ মতিন দীর্ঘদিন হয় নিস্ক্রিয়। এমন কমিটি বিএনপি কর্মীরা মানবে না। আমরা আলাদা অবস্থান নিয়ে দল করবো।

তিনি দাবি করেন, সোমবার রাতে কমিটি ঘোষণার পর আনন্দ মিছিলের নামে ব্যাঙ্গাতক উক্তি করায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযোগের জবাবে আবু হোরায়রা ছাদ মাস্টার বলেন, যারা আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে, তারা আওয়ামী লীগের দোসর ছিলেন। আমরা বিগত সময়ে নির্বাচন বর্জন করেছি, তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। আওয়ামী লীগের একপক্ষের আশীর্বাদ নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছে। এরা উগ্রপন্থী, দল ক্ষমতায় থাকলে তারা আছে, না থাকলে তারাও নেই। এমএ মতিন ও জামাল উদ্দিনকে নিয়ে তাদের অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।

দলের নেতা কয়ছর আহমদের বিরুদ্ধে তাদের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কয়ছর দলে গ্রহণযোগ্য, তাঁর একাগ্রতা আছে। এ জন্য দলের নেতারা তাঁকে মূল্যায়ন করেন।

দিরাই উপজেলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর ভাই নতুন ঘোষিত কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক মাসুক মিয়া বলেন, বিগত দিনে দলের কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন না, এমন একজনকে আহ্বায়ক করায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কমিটি ঘোষণার পর শুনেছি বিক্ষোভ করেছেন। তারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সভা-সমাবেশ করছেন।

উপজেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক আমির হোসেন বললেন, আমি সক্রিয় ছিলাম, না কি নিস্ক্রিয় ছিলাম, এলাকার মানুষ জানে। প্রমাণও আছে। কমিটি দায়িত্বশীলরা দিয়েছেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে আছেন। আমরা কাজ চালিয়ে যাব।

এদিকে, কমিটি ঘোষণার পর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে রাতেই। আগামীকাল উপজেলাজুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে জানিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী কমিটি হয়নি। বিশ্বম্ভরপুরে রাজু আহমেদ নামের যে ছেলেকে উপজেলার আহ্বায়ক করা হয়েছে। দলের কাজের সঙ্গে বিগত সময়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এ জন্য নেতাকর্মীরা রাতেই বিক্ষোভ করেছে। আগামীকাল উপজেলাজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল হবে। এই উপজেলায় দলের ‘কবর’ রচনা করেছেন দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। উপজেলার বাসিন্দা জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির স্বাক্ষর প্রদানকারী সদস্য (সদস্য সচিব) অ্যাডভোকেট আব্দুল হককে দোষারোপ করেছেন এই বিএনপি নেতা।

জেলা বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল হক বলেন, জেলার ১৬ ইউনিটের প্রস্তাবিত কমিটি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হওয়ার পর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দলে ত্যাগ বিবেচনা করেই কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশ্বম্ভরপুরে দলে স্থবিরতা ছিল। নতুন কমিটির নেতৃত্বে দলে গতিশীলতা আসবে। সেভাবেই কমিটি হয়েছে। দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ায় সকল ইউনিটেই দলে নেতৃত্ব পাওয়ার উপযোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে যোগ্য অনেকেই বাদ পড়েছেন। এ জন্য কোথাও কোথাও কিছু ক্ষোভ অভিমান আছে। দলের স্বার্থে সকলেই সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন বলে আশা করছি আমরা।