উপকূলীয় অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থায় জলবায়ু ন্যায্যতা আদায় ও উচ্চশিক্ষা প্রসারে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ‘জলবায়ু সংকটাপন্ন এলাকায় বৈষম্যহীন শিক্ষার অধিকার সুরক্ষায় করণীয় শীর্ষক’ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় স্বেচ্ছাসেবী ও পরিবেশবাদী সংগঠন চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের আয়োজনে চরবাটা সওদাগর হাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ডেপুটি এসাইনমেন্ট এডিটর তারেক মোহাম্মদ মোরতাজা হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বৈষমাবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসুদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, পরিবেশ, মানবাধিকার ও সমাজকর্মী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বৈষমাবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসুদ বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শিক্ষা খাতে রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ঢুকিয়ে দিয়েছিলো। সব নিয়ন্ত্রণ করতো তারা, আস্তে আস্তে আওয়ামী ফ্যাসিস্টের পতনের পর সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসছে। সংষ্কার হচ্ছে সবগুলো খাত।
আলোচনা সভা শেষে ১০জন গুণী শিক্ষক ও গত ৬বছরে যে সকল স্বেচ্ছাসেবী চন্দ্রকলীর সাথে কাজ করেছেন তাদের তাঁদের বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ২০২৪ সালে চন্দ্রকলি আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। তাছাড়াও ৬ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয় মেধা বৃত্তি এবং অন্তত ৫০ শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয় পুরষ্কার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, জলবায়ু সংকটাপন্ন এলাকায় এখনও শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত সাধারণ মানুষ। শহর ও গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আকাশ-পাতাল ব্যবধান। সংবিধান অনুযায়ী সকলে সমান শিক্ষার অধিকার পাওয়ার কথা থাকলেও সেটি বাস্তবায়ন করা যায়নি। সাধারণ মানুষের সন্তানেরা টাই পড়ে স্কুলে যেতে পারে না। বঞ্চিত মানুষের সন্তান কেজি স্কুল, ইংলিশ মিডিয়াম থেকে বঞ্চিত। আমরা একটি রাষ্ট্রে আরেকটি বৈষম্য তৈরি করেছি।
এরআগে ‘এই সংসদ পরিবেশের বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য সার্বজনীন বিচার ব্যবস্থার সমর্থন করে’ বিষয়ে সংসদীয় বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। বিতর্কে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির এনএসটিইউডিএস সংগ্রাম পক্ষে এবং এনএসটিইউডিএস নডরাই বিপক্ষ দলে অংশ নেয়।
চন্দ্রকলী ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশন ১৯৯২ সাল থেকে নোয়াখালী দক্ষিণাঞ্চলে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষা সুনিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের কাজ করে আসছে। এছাড়ও চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশন জলবায়ু সংকট নিরসন, সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল বাস্তবায়ন, মেধাবৃত্তি, বৃক্ষরোপনসহ নানান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। দেশের ৩৫টি জেলায় চন্দ্রকলি পরিবেশ উন্নয়নে বৃক্ষরোপন ও সচেতনতামূলক কাজ করে যাচ্ছে। বিরল প্রজাতির ও দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষ সংরক্ষনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
সাদ্দাম হোসেন রকি 





































