ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়ার নজরদারি বিমান দেখেই জ্বলন্ত ফ্লেয়ার ছুড়ল চীনের এসইউ-৩৫ যুদ্ধবিমান

দক্ষিণ চীন সাগরের আকাশসীমায় অস্ট্রেলিয়ার একটি নজরদারি বিমানের কাছে চীনের একটি সামরিক যুদ্ধবিমান জ্বলন্ত ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ করেছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘অসুরক্ষিত ও অপেশাদার আচরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

গতকাল রোববার (১৯ অক্টোবর) ঘটনাটি ঘটে। আজ সোমবার অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিবৃতির মাধ্যমে জানায়, তারা বিষয়টি নিয়ে চীনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

প্রতিরক্ষা দপ্তর আরও জানায়, অস্ট্রেলিয়ার পি-৮এ নজরদারি বিমানটি এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং বিমানে থাকা কোনো ক্রু সদস্য আহত হননি।

অন্যদিকে চীনের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি এসেছে। দেশটির সাউদার্ন থিয়েটার কমান্ডের মুখপাত্র সিনিয়র কর্নেল লি জিয়ানজিয়ান বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার বিমানটি চীনের আকাশসীমায় অবৈধভাবে প্রবেশ করেছিল, ফলে সেটিকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়া চীনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে। আমরা ক্যানবেরাকে অনুরোধ করছি তারা যেন অবিলম্বে এই ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের বিবৃতিতে বলেছে, আমরা আশা করি চীনসহ সব দেশ আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার সময় নিরাপত্তা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখবে।

সাম্প্রতিক সময়গুলোতে দক্ষিণ চীন সাগরকে কেন্দ্র করে চীন ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। রোববারের এই ঘটনা সেই ধারাবাহিকতার আরেকটি সংযোজন।

ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সফরে তার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে AUKUS সাবমেরিন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে। এই চুক্তি অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে একটি বহু-বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা।

এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে একই এলাকায় চীনা যুদ্ধবিমান অস্ট্রেলিয়ার নজরদারি বিমানের কাছাকাছি ফ্লেয়ার ছুড়েছিল। তখনও বেইজিং অভিযোগ করে, অস্ট্রেলিয়ার বিমান ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে’ চীনের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালের মে মাসে অস্ট্রেলিয়া জানায়, দক্ষিণ চীন সাগরে জাতিসংঘ মিশনের অংশ হিসেবে তাদের নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারের কাছে চীনা যুদ্ধবিমান ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ চীন সাগরের মালিকানা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সরাসরি কোনো দাবি না থাকলেও দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মিত্রদের সঙ্গে একমত যে, চীনের এই অঞ্চল নিয়ে দাবির কোনো আন্তর্জাতিক আইনগত ভিত্তি নেই।

সূত্র: বিবিসি

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

অস্ট্রেলিয়ার নজরদারি বিমান দেখেই জ্বলন্ত ফ্লেয়ার ছুড়ল চীনের এসইউ-৩৫ যুদ্ধবিমান

আপডেট সময় : ০৬:১৪:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

দক্ষিণ চীন সাগরের আকাশসীমায় অস্ট্রেলিয়ার একটি নজরদারি বিমানের কাছে চীনের একটি সামরিক যুদ্ধবিমান জ্বলন্ত ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ করেছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘অসুরক্ষিত ও অপেশাদার আচরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

গতকাল রোববার (১৯ অক্টোবর) ঘটনাটি ঘটে। আজ সোমবার অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিবৃতির মাধ্যমে জানায়, তারা বিষয়টি নিয়ে চীনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

প্রতিরক্ষা দপ্তর আরও জানায়, অস্ট্রেলিয়ার পি-৮এ নজরদারি বিমানটি এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং বিমানে থাকা কোনো ক্রু সদস্য আহত হননি।

অন্যদিকে চীনের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি এসেছে। দেশটির সাউদার্ন থিয়েটার কমান্ডের মুখপাত্র সিনিয়র কর্নেল লি জিয়ানজিয়ান বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার বিমানটি চীনের আকাশসীমায় অবৈধভাবে প্রবেশ করেছিল, ফলে সেটিকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়া চীনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে। আমরা ক্যানবেরাকে অনুরোধ করছি তারা যেন অবিলম্বে এই ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের বিবৃতিতে বলেছে, আমরা আশা করি চীনসহ সব দেশ আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার সময় নিরাপত্তা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখবে।

সাম্প্রতিক সময়গুলোতে দক্ষিণ চীন সাগরকে কেন্দ্র করে চীন ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। রোববারের এই ঘটনা সেই ধারাবাহিকতার আরেকটি সংযোজন।

ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সফরে তার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে AUKUS সাবমেরিন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে। এই চুক্তি অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে একটি বহু-বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা।

এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে একই এলাকায় চীনা যুদ্ধবিমান অস্ট্রেলিয়ার নজরদারি বিমানের কাছাকাছি ফ্লেয়ার ছুড়েছিল। তখনও বেইজিং অভিযোগ করে, অস্ট্রেলিয়ার বিমান ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে’ চীনের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালের মে মাসে অস্ট্রেলিয়া জানায়, দক্ষিণ চীন সাগরে জাতিসংঘ মিশনের অংশ হিসেবে তাদের নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারের কাছে চীনা যুদ্ধবিমান ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ চীন সাগরের মালিকানা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সরাসরি কোনো দাবি না থাকলেও দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মিত্রদের সঙ্গে একমত যে, চীনের এই অঞ্চল নিয়ে দাবির কোনো আন্তর্জাতিক আইনগত ভিত্তি নেই।

সূত্র: বিবিসি