ঢাকা ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা, ফিলিস্তিনের পক্ষে বলায় বহিষ্কার, স্বপ্ন বাঁচানোর লড়াইয়ে মেডিকেল ছাত্রী

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:১৯:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫
  • ২৫৩ বার পড়া হয়েছে

মেডিকেল ছাত্রী উমাইমা মোহাম্মদ। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিকেল ডিগ্রি এবং সমাজবিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন শুরু করেন। একজন প্রাথমিক পরিচর্যা চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় কাঠামোগত সহিংসতার উপর একজন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হওয়া উভয়ই তার স্বপ্ন ছিল।

কিন্তু গত বছর জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় অবস্থিত বেসরকারি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়টির স্কুল অফ মেডিসিন থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এতে মুহূর্তে তার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। তার অপরাধ, তিনি ইসরায়েলের জন্য স্বেচ্ছাসেবী স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে কাজ করা অনুষদ সদস্যের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করেছেন।

গাজা যুদ্ধের সময় ওই রিজার্ভ স্বাস্থ্যকর্মী ইসরায়েলের জন্য স্বেচ্ছায় কাজ করেন। সেখান থেকে ফিরে এসে জর্জিয়ার আটলান্টার স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। তার সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করায় উমাইমাকে বরখাস্ত করা হয়।

বৈষম্যের শিকার হওয়ায় এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন উমাইমা মোহাম্মদ। তিনি বলেছেন, তার বরখাস্তকে ‘পেশগত মৃত্যুদণ্ড’ হিসেবে দেখছেন তিনি।মেডিকেল ছাত্রী বলেন, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের উপায় হিসাবে তিনি এই মামলা দায়ের করেছেন।

স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ডেমোক্রেসি নাউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যদিও তিনি কখনও ওই অনুষদ সদস্যের (স্বাস্থ্যকর্মী) নাম উল্লেখ করেননি।উমাইমাকে বর্তমানে ২০২৭-২০২৮ শিক্ষাবর্ষের শেষ পর্যন্ত এমোরির চিকিৎসা বিভাগ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ২০২৯ সালের স্নাতক শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি পরীক্ষাধীন থাকবেন। গাজা যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাকে বরখাস্ত করা প্রথম মেডিকেল ছাত্রী বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে আরও ক্ষতিকর বিষয় হল, এই বরখাস্তের বিষয়টি তার স্থায়ী রেকর্ডে রয়েছে। তিনি বলেছেন, এতে করে তাকে চিকিৎসা অনুশীলন থেকে নিষিদ্ধ করা হবে, যা তার দীর্ঘদিনের লালিত উচ্চাকাঙ্ক্ষার উপর আঘাত।

মেডিকেল শিক্ষার্থী উমাইমা ৪ আগস্ট জর্জিয়া রাজ্যের একটি ফেডারেল আদালতে এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড এবং এমরির স্কুল অফ মেডিসিনের ডিন ডঃ জন উইলিয়াম এলির বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার আইনে বৈষম্য, পদ্ধতিগত যথাযথ প্রক্রিয়ায় অস্বীকৃতি এবং মানসিক যন্ত্রণার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন।

মুসলিম নাগরিক অধিকার গোষ্ঠী কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস এবং আইনজীবী জোনাথন ওয়ালেস যৌথভাবে তার পক্ষে মামলাটি দায়ের করেছেন।বিচারাধীন মামলাটি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে এমোরি বিশ্ববিদ্যালয় মিডল ইস্ট আইয়ের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, এই স্থগিতাদেশে তার জীবনের উপর একাডেমিক, বস্তুগত এবং মানসিক প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, তার মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য উভয়ই প্রভাবিত হয়েছে। ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময় তিনি উদ্বিগ্ন বোধ করতেন। কিছু ছাত্র তাকে হত্যা করার বিষয়ে রসিকতা করত। এরপর থেকে তিনি শারীরিক নিরাপত্তা নিয়ে ভীত ছিলেন।

‘‘ক্যাম্পাসগুলিতে আমরা যে মাত্রার সহিংসতা দেখেছি এবং ফিলিস্তিনকে সমর্থনকারী অনুষদ এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যে সহিংসতা দেখেছি, তার কারণে সেই বাস্তবতা খুব বেশি দূরে বলে মনে হয়নি’’, আরও যোগ করেন তিনি।সদ্য বহিষ্কৃত মেডিকেল শিক্ষার্থী আরও বলেন, শিক্ষাগতভাবে ছয় মাসের শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কারণে তিনি তার সমাজবিজ্ঞানের পিএইচডিতে পিছিয়ে পড়েছেন। তবে তার চিকিৎসা পেশার উচ্চাকাঙ্ক্ষার পরিণতি ছিল তার জন্য আরও বড় বাধা।

‘‘বাস্তবভাবে, একজন মেডিকেল শিক্ষার্থীর জন্য স্থগিতাদেশ স্থায়ীভাবে রেকর্ড করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত একজন চিকিৎসক হতে চাওয়া ব্যক্তির জন্য একটি পেশগত মৃত্যুদণ্ড,’’ বলেন উমাইমা।তিনি বিশ্বাস করেন, ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের উপর নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করতে যে নির্মূলবাদী এবং বর্ণবাদী যুক্তির অনুকরণ করছে, এই স্থগিতাদেশ সিদ্ধান্তটি গ্রহণের পিছনেও একই বর্ণবাদী যুক্তির অনুকরণ করা হয়েছে।

‘‘যেহেতু তারা আমাদের বাড়িতে বোমাবর্ষণ করতে পারে না, তাই তারা আমাদের ক্যারিয়ার এবং আমাদের জীবিকা ধ্বংস করার চেষ্টা করে,’’ বলেন তিনি।“যদিও এই স্থগিতাদেশের ফলে আমার ভবিষ্যতের উপর মারাত্মক বৈষয়িক পরিণতি ঘটছে, তবুও আমাদের এই দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে হবে যে, গাজার জনগণের চেয়ে বেশি কেউ হেরে যাচ্ছে না, ত্যাগ স্বীকার করছে না বা কষ্ট পাচ্ছে না,” তিনি বলেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

যুক্তরাষ্ট্রের এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা, ফিলিস্তিনের পক্ষে বলায় বহিষ্কার, স্বপ্ন বাঁচানোর লড়াইয়ে মেডিকেল ছাত্রী

আপডেট সময় : ০৫:১৯:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫

মেডিকেল ছাত্রী উমাইমা মোহাম্মদ। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিকেল ডিগ্রি এবং সমাজবিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন শুরু করেন। একজন প্রাথমিক পরিচর্যা চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় কাঠামোগত সহিংসতার উপর একজন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হওয়া উভয়ই তার স্বপ্ন ছিল।

কিন্তু গত বছর জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় অবস্থিত বেসরকারি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়টির স্কুল অফ মেডিসিন থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এতে মুহূর্তে তার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। তার অপরাধ, তিনি ইসরায়েলের জন্য স্বেচ্ছাসেবী স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে কাজ করা অনুষদ সদস্যের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করেছেন।

গাজা যুদ্ধের সময় ওই রিজার্ভ স্বাস্থ্যকর্মী ইসরায়েলের জন্য স্বেচ্ছায় কাজ করেন। সেখান থেকে ফিরে এসে জর্জিয়ার আটলান্টার স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। তার সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করায় উমাইমাকে বরখাস্ত করা হয়।

বৈষম্যের শিকার হওয়ায় এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন উমাইমা মোহাম্মদ। তিনি বলেছেন, তার বরখাস্তকে ‘পেশগত মৃত্যুদণ্ড’ হিসেবে দেখছেন তিনি।মেডিকেল ছাত্রী বলেন, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের উপায় হিসাবে তিনি এই মামলা দায়ের করেছেন।

স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ডেমোক্রেসি নাউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যদিও তিনি কখনও ওই অনুষদ সদস্যের (স্বাস্থ্যকর্মী) নাম উল্লেখ করেননি।উমাইমাকে বর্তমানে ২০২৭-২০২৮ শিক্ষাবর্ষের শেষ পর্যন্ত এমোরির চিকিৎসা বিভাগ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ২০২৯ সালের স্নাতক শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি পরীক্ষাধীন থাকবেন। গাজা যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাকে বরখাস্ত করা প্রথম মেডিকেল ছাত্রী বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে আরও ক্ষতিকর বিষয় হল, এই বরখাস্তের বিষয়টি তার স্থায়ী রেকর্ডে রয়েছে। তিনি বলেছেন, এতে করে তাকে চিকিৎসা অনুশীলন থেকে নিষিদ্ধ করা হবে, যা তার দীর্ঘদিনের লালিত উচ্চাকাঙ্ক্ষার উপর আঘাত।

মেডিকেল শিক্ষার্থী উমাইমা ৪ আগস্ট জর্জিয়া রাজ্যের একটি ফেডারেল আদালতে এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড এবং এমরির স্কুল অফ মেডিসিনের ডিন ডঃ জন উইলিয়াম এলির বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার আইনে বৈষম্য, পদ্ধতিগত যথাযথ প্রক্রিয়ায় অস্বীকৃতি এবং মানসিক যন্ত্রণার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন।

মুসলিম নাগরিক অধিকার গোষ্ঠী কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস এবং আইনজীবী জোনাথন ওয়ালেস যৌথভাবে তার পক্ষে মামলাটি দায়ের করেছেন।বিচারাধীন মামলাটি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে এমোরি বিশ্ববিদ্যালয় মিডল ইস্ট আইয়ের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, এই স্থগিতাদেশে তার জীবনের উপর একাডেমিক, বস্তুগত এবং মানসিক প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, তার মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য উভয়ই প্রভাবিত হয়েছে। ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময় তিনি উদ্বিগ্ন বোধ করতেন। কিছু ছাত্র তাকে হত্যা করার বিষয়ে রসিকতা করত। এরপর থেকে তিনি শারীরিক নিরাপত্তা নিয়ে ভীত ছিলেন।

‘‘ক্যাম্পাসগুলিতে আমরা যে মাত্রার সহিংসতা দেখেছি এবং ফিলিস্তিনকে সমর্থনকারী অনুষদ এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যে সহিংসতা দেখেছি, তার কারণে সেই বাস্তবতা খুব বেশি দূরে বলে মনে হয়নি’’, আরও যোগ করেন তিনি।সদ্য বহিষ্কৃত মেডিকেল শিক্ষার্থী আরও বলেন, শিক্ষাগতভাবে ছয় মাসের শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কারণে তিনি তার সমাজবিজ্ঞানের পিএইচডিতে পিছিয়ে পড়েছেন। তবে তার চিকিৎসা পেশার উচ্চাকাঙ্ক্ষার পরিণতি ছিল তার জন্য আরও বড় বাধা।

‘‘বাস্তবভাবে, একজন মেডিকেল শিক্ষার্থীর জন্য স্থগিতাদেশ স্থায়ীভাবে রেকর্ড করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত একজন চিকিৎসক হতে চাওয়া ব্যক্তির জন্য একটি পেশগত মৃত্যুদণ্ড,’’ বলেন উমাইমা।তিনি বিশ্বাস করেন, ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের উপর নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করতে যে নির্মূলবাদী এবং বর্ণবাদী যুক্তির অনুকরণ করছে, এই স্থগিতাদেশ সিদ্ধান্তটি গ্রহণের পিছনেও একই বর্ণবাদী যুক্তির অনুকরণ করা হয়েছে।

‘‘যেহেতু তারা আমাদের বাড়িতে বোমাবর্ষণ করতে পারে না, তাই তারা আমাদের ক্যারিয়ার এবং আমাদের জীবিকা ধ্বংস করার চেষ্টা করে,’’ বলেন তিনি।“যদিও এই স্থগিতাদেশের ফলে আমার ভবিষ্যতের উপর মারাত্মক বৈষয়িক পরিণতি ঘটছে, তবুও আমাদের এই দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে হবে যে, গাজার জনগণের চেয়ে বেশি কেউ হেরে যাচ্ছে না, ত্যাগ স্বীকার করছে না বা কষ্ট পাচ্ছে না,” তিনি বলেন।