বিদায়ী বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি আগের মাসের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবে এরপরও অসহনীয় মাত্রার মূল্যস্ফীতি নিয়ে বছর শুরু করেছে দেশের অর্থনীতি। খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যের মূল্যস্ফীতি উভয়টি এখনো দুই অংকের ঘরে রয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে মূল্যস্ফীতি সাত শতাংশে নামিয়ে আনার যে ঘোষণা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর দিয়েছেন, সেটা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
সোমবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির যে হালনাগাদ তথ্য দিয়েছে, সে অনুযায়ী, বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়া এবং খাদ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকায় ডিসেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা নভেম্বরে ছিল ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। এছাড়া খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৬ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
বিবিএস জানায়, গত ডিসেম্বর শেষে খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতিও কমেছে। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি নভেম্বরের ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ১২ দশমিক ৯২ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের ক্ষেত্রে এ হার নভেম্বরের ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ থেকে সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ।
ডিসেম্বর শেষে গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশে, যা গত নভেম্বরে ছিল ১১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি ১৩ দশমিক ৪১ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর শেষে শহরাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ, যা গত নভেম্বরে ছিল ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ১৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশে পৌঁছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি অক্টোবরে ১২ দশমিক ৬৬ শতাংশ থেকে বেড়ে হয় ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ।
গত নভেম্বরে ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ২২ শতাংশ। অক্টোবরে ছিল ১০ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমতে পারে। তবে এটি নয় শতাংশের কাছাকাছি থাকবে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি তা সাত শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী জুনের মধ্যে মূল্যস্ফীতি সাত শতাংশে নেমে আসবে।
চেতনায়২৪ ডেস্ক : 






































