ঢাকা ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

মির্জা আব্বাসের আসন নিয়ে ফেসবুকে ‘গুজব’, সংবিধানে যা আছে

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:৩২:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • ২২৯ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির শীর্ষ নেতা মির্জা আব্বাসের আসনটি ‘শূন্য’ হওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। অসুস্থতার কারণে বর্তমানে চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থানরত এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের সংসদীয় পদ বাতিল হয়ে গেছে বলে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে দাবি করা হচ্ছে। তবে, দেশের সর্বোচ্চ আইন বা সংবিধান অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এই দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, মির্জা আব্বাস নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ গ্রহণ করেননি কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে সংসদে অনুপস্থিত। ফলে সাংবিধানিক নিয়মে তার আসনটি শূন্য হয়ে গেছে। এমনকি কিছু পেজ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি ‘ডিপফেক’ ভিডিও প্রচার করে এই আসনে উপনির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। অনেক ব্যবহারকারী না বুঝেই এই তথ্যের পক্ষে সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অন্যান্য সংসদ সদস্যের সঙ্গে যথাযথ নিয়ম মেনে শপথ নিয়েছিলেন মির্জা আব্বাস।

বাংলাদেশ সংবিধানে সংসদ সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া সংক্রান্ত ৬৭ (১) অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ‘কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হইবে, যদি (ক) তাহার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে নব্বই দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথগ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিতে অসমর্থ হন: তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হইবার পূর্বে স্পিকার যথার্থ কারণে তাহা বর্ধিত করিতে পারিবেন; (খ) সংসদের অনুমতি না লইয়া তিনি একাদিক্রমে নব্বই বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকেন।’

সংবিধানের এই ধারাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শপথ না নেওয়ার যে দাবিটি করা হচ্ছে তা শুরুতেই নাকচ হয়ে যায়, কারণ তিনি নির্বাচনের পরপরই স্পিকারের সামনে শপথ বাক্য পাঠ করেছেন এবং শপথপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

অন্যদিকে, সংসদে অনুপস্থিত থাকার যে বিধানটি রয়েছে, সেটি মূলত একাদিক্রমে নব্বইটি ‘বৈঠক-দিবস’ অনুপস্থিত থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত। সাধারণ দিন গণনার সঙ্গে নয়। অর্থাৎ সংসদ অধিবেশন যেদিন চলবে, শুধু সেই দিনগুলোই গণনা করা হবে। এছাড়া অসুস্থতাজনিত কারণে স্পিকারের অনুমতি বা যৌক্তিক কারণে এই সময়সীমা বিবেচনার স্পষ্ট আইনি সুযোগ সংবিধানে রয়েছে।

সুতরাং, ঢাকা-৮ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের পদটি শূন্য হওয়ার কোনো আইনি বা বাস্তবসম্মত কারণ তৈরি হয়নি। তার সংসদীয় আসনটি সম্পূর্ণ সচল ও বৈধ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্যগুলো নিছকই অপপ্রচার ও গুজব।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মির্জা আব্বাসের আসন নিয়ে ফেসবুকে ‘গুজব’, সংবিধানে যা আছে

আপডেট সময় : ১০:৩২:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির শীর্ষ নেতা মির্জা আব্বাসের আসনটি ‘শূন্য’ হওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। অসুস্থতার কারণে বর্তমানে চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থানরত এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের সংসদীয় পদ বাতিল হয়ে গেছে বলে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে দাবি করা হচ্ছে। তবে, দেশের সর্বোচ্চ আইন বা সংবিধান অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এই দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, মির্জা আব্বাস নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ গ্রহণ করেননি কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে সংসদে অনুপস্থিত। ফলে সাংবিধানিক নিয়মে তার আসনটি শূন্য হয়ে গেছে। এমনকি কিছু পেজ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি ‘ডিপফেক’ ভিডিও প্রচার করে এই আসনে উপনির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। অনেক ব্যবহারকারী না বুঝেই এই তথ্যের পক্ষে সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অন্যান্য সংসদ সদস্যের সঙ্গে যথাযথ নিয়ম মেনে শপথ নিয়েছিলেন মির্জা আব্বাস।

বাংলাদেশ সংবিধানে সংসদ সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া সংক্রান্ত ৬৭ (১) অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ‘কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হইবে, যদি (ক) তাহার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে নব্বই দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথগ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিতে অসমর্থ হন: তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হইবার পূর্বে স্পিকার যথার্থ কারণে তাহা বর্ধিত করিতে পারিবেন; (খ) সংসদের অনুমতি না লইয়া তিনি একাদিক্রমে নব্বই বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকেন।’

সংবিধানের এই ধারাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শপথ না নেওয়ার যে দাবিটি করা হচ্ছে তা শুরুতেই নাকচ হয়ে যায়, কারণ তিনি নির্বাচনের পরপরই স্পিকারের সামনে শপথ বাক্য পাঠ করেছেন এবং শপথপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

অন্যদিকে, সংসদে অনুপস্থিত থাকার যে বিধানটি রয়েছে, সেটি মূলত একাদিক্রমে নব্বইটি ‘বৈঠক-দিবস’ অনুপস্থিত থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত। সাধারণ দিন গণনার সঙ্গে নয়। অর্থাৎ সংসদ অধিবেশন যেদিন চলবে, শুধু সেই দিনগুলোই গণনা করা হবে। এছাড়া অসুস্থতাজনিত কারণে স্পিকারের অনুমতি বা যৌক্তিক কারণে এই সময়সীমা বিবেচনার স্পষ্ট আইনি সুযোগ সংবিধানে রয়েছে।

সুতরাং, ঢাকা-৮ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের পদটি শূন্য হওয়ার কোনো আইনি বা বাস্তবসম্মত কারণ তৈরি হয়নি। তার সংসদীয় আসনটি সম্পূর্ণ সচল ও বৈধ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্যগুলো নিছকই অপপ্রচার ও গুজব।