ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে ইফতার সামগ্রী বিতরণ।

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৮:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৫১ বার পড়া হয়েছে

ইসলামী ব্যাংক বিভিন্ন সন্দেহযুক্ত লেনদেন থেকে যে আয়, ক্ষতিপূরণ বা অতিরিক্ত অর্থ অর্জন করে-যা শরিয়তের দৃষ্টিতে অবৈধ বা অপবিত্র আয় হিসেবে বিবেচিত। এ ধরনের অর্থ ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় সংরক্ষণ করা, নিজেদের কাজে ব্যবহার করা বা বিতরণ ছাড়া ফেলে রাখা বৈধ নয়। বরং দ্রুত তা থেকে মুক্ত হয়ে সমাজের কল্যাণে ব্যয় করাই কর্তব্য।

এ ধরনের অর্থ দিয়ে গরিবদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ বিষয়ে শরিয়া মতামত তুলে ধরছি—

১. অবিলম্বে অর্থ পৃথকীকরণ

ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত সুদ বা ক্ষতিপূরণের অর্থ অবিলম্বে পৃথক করে বের করে দিতে হবে। মুনাফা ও সুদ এক সাথে রাখা যাবে না। (আল-কুরআন, ২:৪২)

আলাদা করে হিসাবেই তা রেখে দেওয়াও যথেষ্ট নয়, তা নিঃশেষ করে দিতে হবে। কারণ রেখে দেওয়ার মাধ্যমে সুদভিত্তিক কার্যক্রম পরোক্ষভাবে শক্তিশালী হয়।

২. ব্যয়ের বৈধ খাত

এই অর্থ জনকল্যাণমূলক খাত বিশেষত দরিদ্র, অসহায় ও অভাবী মানুষের উপকারে ব্যয় করা যাবে। রমাদান মাসে গরিবদের মধ্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণ একটি খাত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এটি সাদাকা হিসেবে গণ্য হবে না; বরং অবৈধ অর্থ থেকে মুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যয় করতে হবে।

৩. নিয়তের শুদ্ধতা

এ অর্থ ব্যয়ের সময় নিয়ত হবে অপবিত্র বা অবৈধ অর্থ থেকে মুক্ত হওয়া। নফল সাদাকা বা দানের সওয়াবের নিয়ত করা যাবে না। কারণ আল্লাহ পবিত্র; তিনি কেবল পবিত্র সম্পদই গ্রহণ করেন। (মুসলিম, আস-সহিহ, ১০১৫)

৪. প্রতিষ্ঠানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট উপকার পরিহার

এই অর্থ দ্বারা ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সুবিধা অর্জন করা যাবে না। যেমন প্রতিষ্ঠানের প্রচারণা, ব্র্যান্ডিং, প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহ বা এমন কোনো কার্যক্রম যা প্রতিষ্ঠানের সুনাম বা স্বার্থ বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। এসব থেকে বিরত থাকতে হবে।

৫. অবশিষ্ট ইফতার সামগ্রীর বন্টন

ইফতার বিতরণের পর খাদ্য অবশিষ্ট থাকলে তা নষ্ট করা যাবে না। যথাযথ সংরক্ষণ করে পুনরায় দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকলে দ্রুত তা দান করে দেওয়া উচিত।

ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান যদি ক্ষতিপূরণের অর্থ দ্বারা দরিদ্র অসহায়দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ করে, তবে তা কিছু শর্তে বৈধ হতে পারে। তা হলো, নিয়ত হবে অবৈধ অর্থ থেকে মুক্ত হওয়া; উপকারভোগী হবে কেবলমাত্র প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠী (আর্থিকভাবে সক্ষম কেউ যেনো না হয়); এটি সাদাকা নয়, বরং অবৈধ অর্থ নিঃশেষ করার প্রক্রিয়া; এবং প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং বা অন্য কোনো সুবিধা অর্জনের প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকা।

লেখক : অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা-১১০০

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের বিপক্ষে ‘লজ্জার রেকর্ড’ থেকে বাংলাদেশের মুক্তি

ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে ইফতার সামগ্রী বিতরণ।

আপডেট সময় : ০৫:৩৮:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইসলামী ব্যাংক বিভিন্ন সন্দেহযুক্ত লেনদেন থেকে যে আয়, ক্ষতিপূরণ বা অতিরিক্ত অর্থ অর্জন করে-যা শরিয়তের দৃষ্টিতে অবৈধ বা অপবিত্র আয় হিসেবে বিবেচিত। এ ধরনের অর্থ ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় সংরক্ষণ করা, নিজেদের কাজে ব্যবহার করা বা বিতরণ ছাড়া ফেলে রাখা বৈধ নয়। বরং দ্রুত তা থেকে মুক্ত হয়ে সমাজের কল্যাণে ব্যয় করাই কর্তব্য।

এ ধরনের অর্থ দিয়ে গরিবদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ বিষয়ে শরিয়া মতামত তুলে ধরছি—

১. অবিলম্বে অর্থ পৃথকীকরণ

ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত সুদ বা ক্ষতিপূরণের অর্থ অবিলম্বে পৃথক করে বের করে দিতে হবে। মুনাফা ও সুদ এক সাথে রাখা যাবে না। (আল-কুরআন, ২:৪২)

আলাদা করে হিসাবেই তা রেখে দেওয়াও যথেষ্ট নয়, তা নিঃশেষ করে দিতে হবে। কারণ রেখে দেওয়ার মাধ্যমে সুদভিত্তিক কার্যক্রম পরোক্ষভাবে শক্তিশালী হয়।

২. ব্যয়ের বৈধ খাত

এই অর্থ জনকল্যাণমূলক খাত বিশেষত দরিদ্র, অসহায় ও অভাবী মানুষের উপকারে ব্যয় করা যাবে। রমাদান মাসে গরিবদের মধ্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণ একটি খাত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এটি সাদাকা হিসেবে গণ্য হবে না; বরং অবৈধ অর্থ থেকে মুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যয় করতে হবে।

৩. নিয়তের শুদ্ধতা

এ অর্থ ব্যয়ের সময় নিয়ত হবে অপবিত্র বা অবৈধ অর্থ থেকে মুক্ত হওয়া। নফল সাদাকা বা দানের সওয়াবের নিয়ত করা যাবে না। কারণ আল্লাহ পবিত্র; তিনি কেবল পবিত্র সম্পদই গ্রহণ করেন। (মুসলিম, আস-সহিহ, ১০১৫)

৪. প্রতিষ্ঠানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট উপকার পরিহার

এই অর্থ দ্বারা ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সুবিধা অর্জন করা যাবে না। যেমন প্রতিষ্ঠানের প্রচারণা, ব্র্যান্ডিং, প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহ বা এমন কোনো কার্যক্রম যা প্রতিষ্ঠানের সুনাম বা স্বার্থ বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। এসব থেকে বিরত থাকতে হবে।

৫. অবশিষ্ট ইফতার সামগ্রীর বন্টন

ইফতার বিতরণের পর খাদ্য অবশিষ্ট থাকলে তা নষ্ট করা যাবে না। যথাযথ সংরক্ষণ করে পুনরায় দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকলে দ্রুত তা দান করে দেওয়া উচিত।

ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান যদি ক্ষতিপূরণের অর্থ দ্বারা দরিদ্র অসহায়দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ করে, তবে তা কিছু শর্তে বৈধ হতে পারে। তা হলো, নিয়ত হবে অবৈধ অর্থ থেকে মুক্ত হওয়া; উপকারভোগী হবে কেবলমাত্র প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠী (আর্থিকভাবে সক্ষম কেউ যেনো না হয়); এটি সাদাকা নয়, বরং অবৈধ অর্থ নিঃশেষ করার প্রক্রিয়া; এবং প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং বা অন্য কোনো সুবিধা অর্জনের প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকা।

লেখক : অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা-১১০০