ঢাকা ০৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৫ জন নিহত: টিআইবি

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৪২ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরের ৩৬ দিনে সারাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ১৫ জন দলীয় নেতাকর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে এক রিপোর্টে বলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১০২ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে নিখোঁজ হয়েছে এক হাজার ৩৩৩টি আগ্নেয়াস্ত্র।

থানা থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়া এবং নতুন করে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় সহিংসতার ঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেছে সংস্থাটি।

সরকার মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমান নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় সহিংসতা, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হেনস্তা, সম্ভাব্য প্রার্থীদের ওপর হামলা এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মতো একাধিক ঘাটতি স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে।

এ সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর ৫০টিরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রেও আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরে টিআইবি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেফতার ও রিমান্ডে পুরোনো ধারা বহাল রয়েছে। অযৌক্তিক মামলা দায়ের, বিনা বিচারে আটক, জামিনযোগ্য মামলায়ও দীর্ঘদিন জামিন না দেওয়া এবং ক্ষেত্রবিশেষে সরকারি প্রভাবের অভিযোগ উঠে এসেছে। এমনকি সাংবাদিক ও পেশাজীবীদের হত্যার মামলায় আসামি করার ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বা ‘মব’ প্রবণতা নিয়ে। গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

‘মব’ তৈরি করে দাবি আদায়ের প্রবণতা এবং অনেক ক্ষেত্রে বলপূর্বক দাবি আদায়ে সাফল্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কৌশল বা কার্যকর পদক্ষেপের অভাব, এমনকি নিষ্ক্রিয়তা ও তোষণমূলক অবস্থানের কারণে অতি ক্ষমতায়নের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করে সংস্থাটি।

কারা হেফাজতে ও সেনাবাহিনীর হেফাজতে বিচারবহির্ভূত হত্যা, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, ঢালাওভাবে মামলায় আসামি করা, গ্রেফতার বাণিজ্যসহ নানা ঘাটতির কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৫ জন নিহত: টিআইবি

আপডেট সময় : ০৫:৫৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরের ৩৬ দিনে সারাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ১৫ জন দলীয় নেতাকর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে এক রিপোর্টে বলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১০২ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে নিখোঁজ হয়েছে এক হাজার ৩৩৩টি আগ্নেয়াস্ত্র।

থানা থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়া এবং নতুন করে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় সহিংসতার ঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেছে সংস্থাটি।

সরকার মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমান নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় সহিংসতা, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হেনস্তা, সম্ভাব্য প্রার্থীদের ওপর হামলা এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মতো একাধিক ঘাটতি স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে।

এ সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর ৫০টিরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রেও আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরে টিআইবি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেফতার ও রিমান্ডে পুরোনো ধারা বহাল রয়েছে। অযৌক্তিক মামলা দায়ের, বিনা বিচারে আটক, জামিনযোগ্য মামলায়ও দীর্ঘদিন জামিন না দেওয়া এবং ক্ষেত্রবিশেষে সরকারি প্রভাবের অভিযোগ উঠে এসেছে। এমনকি সাংবাদিক ও পেশাজীবীদের হত্যার মামলায় আসামি করার ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বা ‘মব’ প্রবণতা নিয়ে। গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

‘মব’ তৈরি করে দাবি আদায়ের প্রবণতা এবং অনেক ক্ষেত্রে বলপূর্বক দাবি আদায়ে সাফল্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কৌশল বা কার্যকর পদক্ষেপের অভাব, এমনকি নিষ্ক্রিয়তা ও তোষণমূলক অবস্থানের কারণে অতি ক্ষমতায়নের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করে সংস্থাটি।

কারা হেফাজতে ও সেনাবাহিনীর হেফাজতে বিচারবহির্ভূত হত্যা, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, ঢালাওভাবে মামলায় আসামি করা, গ্রেফতার বাণিজ্যসহ নানা ঘাটতির কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়।