ঢাকা ০৫:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামের বিষয়ে উপহাসকারীদের প্রতি আল্লাহর সতর্কতা

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৩:৫০:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৫২ বার পড়া হয়েছে

মানবজীবনে আল্লাহর দীন (ইসলাম) হলো সঠিক জীবন পরিচালনার নীতি ও নৈতিক নির্দেশনার মূল ভিত্তি। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, অনেকেই দীনকে গুরুত্ব না দিয়ে, তা ক্রীড়া, ঠাট্টা বা বিনোদনের বিষয় হিসেবে নেয়। এর ফলে তারা পার্থিব জীবনের ভ্রমে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। কুরআন এ ধরনের আচরণের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন।

আজকের আয়াত (সুেরা আল-আনআম, ৬:৭০) সেই সতর্কবার্তা আমাদের সামনে তুলে ধরেছে।

وَذَرِ الَّذِينَ اتَّخَذُوا دِينَهُمْ لَعِبًا وَلَهْوًا وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا ۚ وَذَكِّرْ بِهِ أَن تُبْسَلَ نَفْسٌ بِمَا كَسَبَتْ لَيْسَ لَهَا مِن دُونِ اللَّهِ وَلِيٌّ وَلَا شَفِيعٌ وَإِن تَعْدِلْ كُلَّ عَدْلٍ لَّا يُؤْخَذْ مِنْهَا ۗ أُولَـٰئِكَ الَّذِينَ أُبْسِلُوا بِمَا كَسَبُوا ۖ لَهُمْ شَرَابٌ مِّنْ حَمِيمٍ وَعَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْفُرُونَ

যারা নিজেদের দীনকে ক্রীড়া-কৌতুকের বিষয় বানিয়েছে ৩১ এবং পার্থিব জীবন যাদেরকে ধোঁকার মধ্যে ফেলেছে, তুমি তাদেরকে পরিত্যাগ কর এবং এর (অর্থাৎ কুরআনের) মাধ্যমে (মানুষকে) উপদেশ দিতে থাক, যাতে কেউ নিজ কৃতকর্মের কারণে গ্রেফতার না হয় যখন আল্লাহ (-এর শাস্তি) হতে বাঁচানোর জন্য তার কোনও অভিভাবক ও সুপারিশকারী থাকবে না। আর সে যদি (নিজ মুক্তির জন্য) সব রকমের মুক্তিপণও পেশ করতে চায়, তবে তার পক্ষ হতে তা গৃহীত হবে না। এরাই (অর্থাৎ যারা দীনকে ক্রীড়া-কৌতুকের বিষয় বানিয়েছে, তারা) নিজেদের কৃতকর্মের কারণে ধরা পড়ে গেছে। কুফরে রত থাকার কারণে তাদের জন্য রয়েছে অতি গরম পানীয় ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সুরা আল আনআম: ৭০)

এর এক অর্থ এই হতে পারে, যে দীন অর্থাৎ ইসলামকে তাদের গ্রহণ করে নেওয়া উচিত ছিল, তারা তাকে নিয়ে উল্টো ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। আবার এ অর্থও হতে পারে যে, তারা যে দীন অবলম্বন করেছে তা ক্রীড়া-কৌতুকের মত বেহুদা রসম-রেওয়াজের সমষ্টি মাত্র। উভয় অবস্থায়ই তাদেরকে পরিত্যাগ করার যে আদেশ করা হয়েছে, তার অর্থ হচ্ছে, তারা যখন আল্লাহ তাআলার আয়াতসমূহকে লক্ষ্য করে ঠাট্টা-বিদ্রূপে রত হয়, তখন তাদের সঙ্গে বসবে না।
 
আয়াতে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দেন: যারা নিজেদের দীনকে খেলাধুলা বা কৌতুকের বিষয় বানিয়েছে এবং পার্থিব জীবনের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বিভ্রান্ত হয়েছে, তাদের থেকে দূরে থাকতে হবে। কুরআনের মাধ্যমে মানুষকে উপদেশ দাও, যাতে কেউ নিজ কৃতকর্মের কারণে শাস্তির শিকার না হয়। এমন মানুষের জন্য কোনও অভিভাবক, সুপারিশকারী বা মুক্তিপণ গ্রহণযোগ্য হবে না, তারা শুধুমাত্র তাদের কৃতকর্মের কারণে শাস্তি পাবে।
 
আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য গরম পানীয় (হামীম) ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি নির্ধারিত করেছেন, কারণ তারা অবিশ্বাসে অনমনীয়। কেউ ইসলামের গুরুত্ব বুঝে না নিয়ে তাকে ঠাট্টা বা বিদ্রূপ করে। বা তারা দীনকে ক্রীড়া-কৌতুকের মতো বেহুদা রীতিতে পরিণত করেছে। এ অবস্থায় তাদের সঙ্গে বসা বা তাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানো নিষিদ্ধ। 
 
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

যে ব্যক্তি আল্লাহর দীনকে উপহাস করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে অগ্নিতে নিক্ষেপ করবেন। (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

যে ব্যক্তি দুনিয়ার খেলাধুলা ও আনন্দের জন্য তার শেষ দিন পর্যন্ত আল্লাহর আজ্ঞা উপেক্ষা করে, আল্লাহ তাকে দুনিয়ার ব্যস্ততা এবং পরকালের শাস্তিতে ফেলবেন। (তিরমিজি)

দীনকে বিনোদন বা খেলার বিষয় বানানো, পার্থিব জীবনের ভ্রমে বিভ্রান্ত হওয়া মুসলিমের জন্য মারাত্মক বিপদ। ইসলামের শিক্ষাকে গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করতে হবে, মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে, এবং জীবনের লক্ষ্য শুধু দুনিয়ার মায়া নয়, বরং আখেরাতের জন্য প্রস্তুতি।
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের বিপক্ষে ‘লজ্জার রেকর্ড’ থেকে বাংলাদেশের মুক্তি

ইসলামের বিষয়ে উপহাসকারীদের প্রতি আল্লাহর সতর্কতা

আপডেট সময় : ০৩:৫০:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

মানবজীবনে আল্লাহর দীন (ইসলাম) হলো সঠিক জীবন পরিচালনার নীতি ও নৈতিক নির্দেশনার মূল ভিত্তি। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, অনেকেই দীনকে গুরুত্ব না দিয়ে, তা ক্রীড়া, ঠাট্টা বা বিনোদনের বিষয় হিসেবে নেয়। এর ফলে তারা পার্থিব জীবনের ভ্রমে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। কুরআন এ ধরনের আচরণের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন।

আজকের আয়াত (সুেরা আল-আনআম, ৬:৭০) সেই সতর্কবার্তা আমাদের সামনে তুলে ধরেছে।

وَذَرِ الَّذِينَ اتَّخَذُوا دِينَهُمْ لَعِبًا وَلَهْوًا وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا ۚ وَذَكِّرْ بِهِ أَن تُبْسَلَ نَفْسٌ بِمَا كَسَبَتْ لَيْسَ لَهَا مِن دُونِ اللَّهِ وَلِيٌّ وَلَا شَفِيعٌ وَإِن تَعْدِلْ كُلَّ عَدْلٍ لَّا يُؤْخَذْ مِنْهَا ۗ أُولَـٰئِكَ الَّذِينَ أُبْسِلُوا بِمَا كَسَبُوا ۖ لَهُمْ شَرَابٌ مِّنْ حَمِيمٍ وَعَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْفُرُونَ

যারা নিজেদের দীনকে ক্রীড়া-কৌতুকের বিষয় বানিয়েছে ৩১ এবং পার্থিব জীবন যাদেরকে ধোঁকার মধ্যে ফেলেছে, তুমি তাদেরকে পরিত্যাগ কর এবং এর (অর্থাৎ কুরআনের) মাধ্যমে (মানুষকে) উপদেশ দিতে থাক, যাতে কেউ নিজ কৃতকর্মের কারণে গ্রেফতার না হয় যখন আল্লাহ (-এর শাস্তি) হতে বাঁচানোর জন্য তার কোনও অভিভাবক ও সুপারিশকারী থাকবে না। আর সে যদি (নিজ মুক্তির জন্য) সব রকমের মুক্তিপণও পেশ করতে চায়, তবে তার পক্ষ হতে তা গৃহীত হবে না। এরাই (অর্থাৎ যারা দীনকে ক্রীড়া-কৌতুকের বিষয় বানিয়েছে, তারা) নিজেদের কৃতকর্মের কারণে ধরা পড়ে গেছে। কুফরে রত থাকার কারণে তাদের জন্য রয়েছে অতি গরম পানীয় ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সুরা আল আনআম: ৭০)

এর এক অর্থ এই হতে পারে, যে দীন অর্থাৎ ইসলামকে তাদের গ্রহণ করে নেওয়া উচিত ছিল, তারা তাকে নিয়ে উল্টো ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। আবার এ অর্থও হতে পারে যে, তারা যে দীন অবলম্বন করেছে তা ক্রীড়া-কৌতুকের মত বেহুদা রসম-রেওয়াজের সমষ্টি মাত্র। উভয় অবস্থায়ই তাদেরকে পরিত্যাগ করার যে আদেশ করা হয়েছে, তার অর্থ হচ্ছে, তারা যখন আল্লাহ তাআলার আয়াতসমূহকে লক্ষ্য করে ঠাট্টা-বিদ্রূপে রত হয়, তখন তাদের সঙ্গে বসবে না।
 
আয়াতে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দেন: যারা নিজেদের দীনকে খেলাধুলা বা কৌতুকের বিষয় বানিয়েছে এবং পার্থিব জীবনের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বিভ্রান্ত হয়েছে, তাদের থেকে দূরে থাকতে হবে। কুরআনের মাধ্যমে মানুষকে উপদেশ দাও, যাতে কেউ নিজ কৃতকর্মের কারণে শাস্তির শিকার না হয়। এমন মানুষের জন্য কোনও অভিভাবক, সুপারিশকারী বা মুক্তিপণ গ্রহণযোগ্য হবে না, তারা শুধুমাত্র তাদের কৃতকর্মের কারণে শাস্তি পাবে।
 
আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য গরম পানীয় (হামীম) ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি নির্ধারিত করেছেন, কারণ তারা অবিশ্বাসে অনমনীয়। কেউ ইসলামের গুরুত্ব বুঝে না নিয়ে তাকে ঠাট্টা বা বিদ্রূপ করে। বা তারা দীনকে ক্রীড়া-কৌতুকের মতো বেহুদা রীতিতে পরিণত করেছে। এ অবস্থায় তাদের সঙ্গে বসা বা তাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানো নিষিদ্ধ। 
 
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

যে ব্যক্তি আল্লাহর দীনকে উপহাস করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে অগ্নিতে নিক্ষেপ করবেন। (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

যে ব্যক্তি দুনিয়ার খেলাধুলা ও আনন্দের জন্য তার শেষ দিন পর্যন্ত আল্লাহর আজ্ঞা উপেক্ষা করে, আল্লাহ তাকে দুনিয়ার ব্যস্ততা এবং পরকালের শাস্তিতে ফেলবেন। (তিরমিজি)

দীনকে বিনোদন বা খেলার বিষয় বানানো, পার্থিব জীবনের ভ্রমে বিভ্রান্ত হওয়া মুসলিমের জন্য মারাত্মক বিপদ। ইসলামের শিক্ষাকে গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করতে হবে, মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে, এবং জীবনের লক্ষ্য শুধু দুনিয়ার মায়া নয়, বরং আখেরাতের জন্য প্রস্তুতি।