ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সল্ট-ব্রুকের ঝড়ে নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে ইংল্যান্ডের লিড

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৫:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৩৩ বার পড়া হয়েছে

হ্যাগলি ওভালে দ্বিতীয় টি–টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত ব্যাটিং করল ইংল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডকে ৬৫ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল তারা। ইংল্যান্ডের ইনিংসের নায়ক ছিলেন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক, যিনি মাত্র ৩৫ বলে বিস্ফোরক ৭৮ রান করেন। তাঁর সঙ্গে ওপেনার ফিল সল্ট খেলেন ৫৬ বলে ৮৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। তাঁদের ব্যাটে ভর করে ইংল্যান্ড তোলে বিশাল ২৩৬ রান যা এই মাঠে টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।

সল্ট জানান, প্রথম ম্যাচের তুলনায় এবার পিচ ছিল দ্রুত, তাই বল ব্যাটে সুন্দরভাবে আসছিল। সেই সুযোগেই শুরুটা করেন আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে। ম্যাচের শুরুতেই মিচেল স্যান্টনারের ওভার থেকে আক্রমণে যায় ইংল্যান্ড। এরপর ম্যাট হেনরির দ্বিতীয় বলকে মিড–উইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে দেন সল্ট, পরের বলেই মারেন চার। এতেই ইঙ্গিত মিলেছিল ইংল্যান্ড আজ রক্ষণাত্মক নয়।

জ্যাকব ডাফির পরের ওভারেও তিনটি বাউন্ডারি আসে, যদিও কিছুক্ষণ পরই আউট হয়ে যান জস বাটলার। এরপর জ্যাকব বেথেল কিছু দ্রুত রান এনে দলকে স্থিতিশীল করেন। ষষ্ঠ ওভারে স্যান্টনার যখন মাইকেল ব্রেসওয়েলকে আক্রমণে আনেন, তা উল্টো ফল দেয়। সল্ট দুটি চার মারেন, আর বেথেল লাগাতার দুটি ছক্কা। এরপর মাঠে নামেন ব্রুক আর শুরু হয় তাঁর ধ্বংসযজ্ঞ। স্যান্টনারের নবম ওভারে তিনি মারেন ছয়, চার, আবার ছয়- এক ওভারে ১৯ রান।

প্রথম ম্যাচে ব্রুককে আউট করা জেমস নিশাম এবারও চেষ্টা করেন, কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। তাঁর এক ওভারে আসে ২০ রান, আর ব্রুক ৩৯ রানে থাকার সময় একটি সহজ ক্যাচ ফেলে দেন নিশাম নিজেই। সেই ভুলের পুরো ফায়দা তোলেন ব্রুক। একের পর এক ছক্কা–চার মেরে চালিয়ে যান ইনিংস, এসময় সল্টও পৌঁছে যান ৪৪ বলে ৭০ রানে।

কাইল জেমিসনের ওভারেও ব্রুক মারেন দুটি ছক্কা, তবে ১৮তম ওভারে শেষ পর্যন্ত আউট হন ৭৮ রানে। ততক্ষণে সল্ট–ব্রুক জুটিতে এসেছে ১২৯ রান। কিছুক্ষণ পর সল্টও আউট হন, কিন্তু শেষদিকে টম ব্যানটনের ১২ বলে অপরাজিত ২৯ রানে ইংল্যান্ড থামে ২৩৬–এ।

লক্ষ্যটা ছিল পাহাড়সম, শুরুতেই ধস নামে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে। ইংল্যান্ডের পেসার ব্রাইডন কার্স প্রথম ওভারেই তুলে নেন টিম রবিনসন ও রাচিন রবীন্দ্রকে, যদিও ওভারে আসে ১৩ রান। এরপর মার্ক চ্যাপম্যান ও টিম সাইফার্ট কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে স্কোর নিয়ে যান ৬ ওভারে ৬০/২–এ, ইংল্যান্ডের গতির চেয়ে মাত্র আট রান পিছিয়ে।

কিন্তু এরপরই থেমে যায় গতি। পরের চার ওভারে আসে মাত্র ৩০ রান, আর একে একে উইকেট তুলে নেন ডসন, রশিদসহ ইংলিশ বোলাররা। শেষদিকে স্যান্টনার কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন, ১৮ বলে ৩৫ রান করে, কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তাঁর উইকেটসহ একই ওভারে নিশামকেও আউট করে দেন আদিল রশিদ, নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের বড় জয়। শেষ পর্যন্ত ৬৫ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড, সিরিজে এগিয়ে যায় ১–০ তে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

সল্ট-ব্রুকের ঝড়ে নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে ইংল্যান্ডের লিড

আপডেট সময় : ০৮:৩৫:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

হ্যাগলি ওভালে দ্বিতীয় টি–টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত ব্যাটিং করল ইংল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডকে ৬৫ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল তারা। ইংল্যান্ডের ইনিংসের নায়ক ছিলেন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক, যিনি মাত্র ৩৫ বলে বিস্ফোরক ৭৮ রান করেন। তাঁর সঙ্গে ওপেনার ফিল সল্ট খেলেন ৫৬ বলে ৮৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। তাঁদের ব্যাটে ভর করে ইংল্যান্ড তোলে বিশাল ২৩৬ রান যা এই মাঠে টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।

সল্ট জানান, প্রথম ম্যাচের তুলনায় এবার পিচ ছিল দ্রুত, তাই বল ব্যাটে সুন্দরভাবে আসছিল। সেই সুযোগেই শুরুটা করেন আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে। ম্যাচের শুরুতেই মিচেল স্যান্টনারের ওভার থেকে আক্রমণে যায় ইংল্যান্ড। এরপর ম্যাট হেনরির দ্বিতীয় বলকে মিড–উইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে দেন সল্ট, পরের বলেই মারেন চার। এতেই ইঙ্গিত মিলেছিল ইংল্যান্ড আজ রক্ষণাত্মক নয়।

জ্যাকব ডাফির পরের ওভারেও তিনটি বাউন্ডারি আসে, যদিও কিছুক্ষণ পরই আউট হয়ে যান জস বাটলার। এরপর জ্যাকব বেথেল কিছু দ্রুত রান এনে দলকে স্থিতিশীল করেন। ষষ্ঠ ওভারে স্যান্টনার যখন মাইকেল ব্রেসওয়েলকে আক্রমণে আনেন, তা উল্টো ফল দেয়। সল্ট দুটি চার মারেন, আর বেথেল লাগাতার দুটি ছক্কা। এরপর মাঠে নামেন ব্রুক আর শুরু হয় তাঁর ধ্বংসযজ্ঞ। স্যান্টনারের নবম ওভারে তিনি মারেন ছয়, চার, আবার ছয়- এক ওভারে ১৯ রান।

প্রথম ম্যাচে ব্রুককে আউট করা জেমস নিশাম এবারও চেষ্টা করেন, কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। তাঁর এক ওভারে আসে ২০ রান, আর ব্রুক ৩৯ রানে থাকার সময় একটি সহজ ক্যাচ ফেলে দেন নিশাম নিজেই। সেই ভুলের পুরো ফায়দা তোলেন ব্রুক। একের পর এক ছক্কা–চার মেরে চালিয়ে যান ইনিংস, এসময় সল্টও পৌঁছে যান ৪৪ বলে ৭০ রানে।

কাইল জেমিসনের ওভারেও ব্রুক মারেন দুটি ছক্কা, তবে ১৮তম ওভারে শেষ পর্যন্ত আউট হন ৭৮ রানে। ততক্ষণে সল্ট–ব্রুক জুটিতে এসেছে ১২৯ রান। কিছুক্ষণ পর সল্টও আউট হন, কিন্তু শেষদিকে টম ব্যানটনের ১২ বলে অপরাজিত ২৯ রানে ইংল্যান্ড থামে ২৩৬–এ।

লক্ষ্যটা ছিল পাহাড়সম, শুরুতেই ধস নামে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে। ইংল্যান্ডের পেসার ব্রাইডন কার্স প্রথম ওভারেই তুলে নেন টিম রবিনসন ও রাচিন রবীন্দ্রকে, যদিও ওভারে আসে ১৩ রান। এরপর মার্ক চ্যাপম্যান ও টিম সাইফার্ট কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে স্কোর নিয়ে যান ৬ ওভারে ৬০/২–এ, ইংল্যান্ডের গতির চেয়ে মাত্র আট রান পিছিয়ে।

কিন্তু এরপরই থেমে যায় গতি। পরের চার ওভারে আসে মাত্র ৩০ রান, আর একে একে উইকেট তুলে নেন ডসন, রশিদসহ ইংলিশ বোলাররা। শেষদিকে স্যান্টনার কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন, ১৮ বলে ৩৫ রান করে, কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তাঁর উইকেটসহ একই ওভারে নিশামকেও আউট করে দেন আদিল রশিদ, নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের বড় জয়। শেষ পর্যন্ত ৬৫ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড, সিরিজে এগিয়ে যায় ১–০ তে।