ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা সফরে তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সচিব পর্যায়ের বৈঠক আজ

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:৩১:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৪৪ বার পড়া হয়েছে

তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বেরিস একিনচি দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন। সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে তার আগমন ঘটে। সফরের দ্বিতীয় দিন আজ মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘পদ্মা’-তে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। তুরস্কের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সফররত উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বেরিস একিনচি।

এটি বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে চতুর্থ পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক। পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে এটি কূটনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে সহযোগিতা বেড়েছে। ফলে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ইস্যুগুলোও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, উন্নয়ন, প্রযুক্তি, অভিবাসন, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহায়তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আঙ্কারার রাজনৈতিক ও মানবিক সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় অভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে দুই দেশ একমত হওয়ার চেষ্টা করছে।

আঞ্চলিক পরিস্থিতির মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে গাজায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ডি–৮, ওআইসি, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন ফোরামে একে অপরকে সমর্থন দেওয়া, বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।

বৈঠক শেষে একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের রূপরেখা তুলে ধরা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ সফরের প্রথম দিনেই তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের তিনটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে। যদিও এসব বৈঠকের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি, তবে কূটনৈতিকভাবে তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আজকের বৈঠকের পর একিনচি সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে।

উল্লেখ্য, গত এক বছরে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় হয়েছে। জানুয়ারিতে ঢাকায় এসেছিলেন তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী ওমের বোলাট। ফেব্রুয়ারিতে আঙ্কারা সফর করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম। এপ্রিল মাসে আনতোলিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে অংশ নিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

সবশেষ জুলাই মাসে ঢাকায় আসেন তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থার প্রধান হালুক গরগুন। সফরকালে তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তখন বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা খাতে কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে তুরস্ক।

এসব সফরের ধারাবাহিকতায় এবারের সচিব পর্যায়ের বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ককে একটি কাঠামোগত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা—এই তিনটি অগ্রাধিকারের ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশ-তুরস্ক অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায় উভয় দেশ।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

ঢাকা সফরে তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সচিব পর্যায়ের বৈঠক আজ

আপডেট সময় : ১০:৩১:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বেরিস একিনচি দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন। সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে তার আগমন ঘটে। সফরের দ্বিতীয় দিন আজ মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘পদ্মা’-তে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। তুরস্কের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সফররত উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বেরিস একিনচি।

এটি বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে চতুর্থ পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক। পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে এটি কূটনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে সহযোগিতা বেড়েছে। ফলে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ইস্যুগুলোও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, উন্নয়ন, প্রযুক্তি, অভিবাসন, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহায়তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আঙ্কারার রাজনৈতিক ও মানবিক সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় অভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে দুই দেশ একমত হওয়ার চেষ্টা করছে।

আঞ্চলিক পরিস্থিতির মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে গাজায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ডি–৮, ওআইসি, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন ফোরামে একে অপরকে সমর্থন দেওয়া, বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।

বৈঠক শেষে একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের রূপরেখা তুলে ধরা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ সফরের প্রথম দিনেই তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের তিনটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে। যদিও এসব বৈঠকের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি, তবে কূটনৈতিকভাবে তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আজকের বৈঠকের পর একিনচি সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে।

উল্লেখ্য, গত এক বছরে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় হয়েছে। জানুয়ারিতে ঢাকায় এসেছিলেন তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী ওমের বোলাট। ফেব্রুয়ারিতে আঙ্কারা সফর করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম। এপ্রিল মাসে আনতোলিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে অংশ নিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

সবশেষ জুলাই মাসে ঢাকায় আসেন তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থার প্রধান হালুক গরগুন। সফরকালে তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তখন বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা খাতে কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে তুরস্ক।

এসব সফরের ধারাবাহিকতায় এবারের সচিব পর্যায়ের বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ককে একটি কাঠামোগত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা—এই তিনটি অগ্রাধিকারের ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশ-তুরস্ক অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায় উভয় দেশ।