ঢাকা ১১:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেতানিয়াহু কি ট্রাম্পকে ধোঁকা দিচ্ছেন?

গাজায় হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে আহ্বান দিয়েছেন, তাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কার্যত করণীয় করতে নারাজ—এমন ধারণা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে। ট্রাম্প ২০‑দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করার ঠিক পরেই নেতানিয়াহু সেটি দ্রুত মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন প্রতিফলন করেছে: গাজায় যৌথ শুভব্রত না রেখে হামলা অব্যাহত রেখেছে দফাগুলোতে অন্তর্ভুক্ত অনেক শর্তকে অগ্রাহ্য করে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প পরিকল্পনায় শর্ত দিয়ে দিয়েছেন, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ, বন্দিদের মুক্তি ইত্যাদি। এগুলো মেনে নিচ্ছির জন্য নির্ধারিত সময়সীমা দেওয়া হয়। নেতানিয়াহু তা প্রথমে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে। যদিও সময়মতো হামাস কিছু শর্তে সম্মতি দেয়, তবুও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দফা নিয়ে সে ও তফাতে পৌঁছাননি তারা। সে অবস্থায় ট্রাম্প গাজায় হামলা বন্ধের আহ্বান দেন এবং দরজা খুলে দেন আলোচনার।

কিন্তু তাত্ক্ষণিকভাবে গাজায় নিরীহ মানুষ ও বেসামরিক এলাকা লক্ষ্য করে বিমান হামলা ও ভূ-অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ)। দুই দিনেই প্রায় ১০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে; এক দিনে ৯৩টি বিমান হামলা চলছে বলে রিপোর্ট করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন ওঠে, নেতানিয়াহু কি শুধু কথায় সম্মতি দিচ্ছেন? নাকি ট্রাম্পকে ভুলভাবে বোঝাচ্ছেন যে তিনি শান্তি চাইছেন?

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাসের আংশিক সাড়া পেয়ে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ফোন করেন এবং বলেন, এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

কিন্তু জবাবে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, এটা উদযাপনের কিছু নয়, এর কোনো অর্থ নেই। এই কথার উত্তরে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন এবং এক গভীর মনোবলহীন অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহুর এই অবস্থান দ্বিমুখী কূটকৌশল হতে পারে। একদিকে তিনি আন্তর্জাতিক চাপ সামলাচ্ছেন, অন্যদিকে বাস্তবে যুদ্ধ অব্যাহত রেখে হামলাকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে চলমান রাখছেন। এমন কাজ করলে ট্রাম্পকে বিশ্বাসঘাতকতা ঘটিয়ে থাকতে পারেন তিনি। আবার সম্ভাবনা আছে, ট্রাম্প নিজেই কূটনাটক আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন, যেখানে ‘হামলা বন্ধ’ ও ‘জিম্মি মুক্তি’ ইত্যাদি শর্ত আড়ালে রেখে শাসন পরিবর্তনের পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।

আক্রান্ত গাজার মাটিতে প্রতিদিন ঝড় ওঠছে—গোলাবর্ষণ, ধ্বংস, মৃত্যু ও মানবিক বিপর্যয়। আলোচনায় যেমন অগ্রগতির স্বপ্ন দেখা হচ্ছে, বাস্তবের ধ্বংসযজ্ঞ তা ছাপিয়ে যাচ্ছে। এই প্রতিফলনে প্রশ্ন থেকেই যায়, নেতানিয়াহু কি সত্যিই শান্তির পথ খুঁজছেন, নাকি প্রতিশ্রুতির ছদ্মবেশে কৌশল প্রয়োগ করছেন?

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফের ২৫ এজেন্সির নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার আশঙ্কা বায়রার একাংশের

নেতানিয়াহু কি ট্রাম্পকে ধোঁকা দিচ্ছেন?

আপডেট সময় : ১১:৪৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

গাজায় হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে আহ্বান দিয়েছেন, তাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কার্যত করণীয় করতে নারাজ—এমন ধারণা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে। ট্রাম্প ২০‑দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করার ঠিক পরেই নেতানিয়াহু সেটি দ্রুত মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন প্রতিফলন করেছে: গাজায় যৌথ শুভব্রত না রেখে হামলা অব্যাহত রেখেছে দফাগুলোতে অন্তর্ভুক্ত অনেক শর্তকে অগ্রাহ্য করে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প পরিকল্পনায় শর্ত দিয়ে দিয়েছেন, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ, বন্দিদের মুক্তি ইত্যাদি। এগুলো মেনে নিচ্ছির জন্য নির্ধারিত সময়সীমা দেওয়া হয়। নেতানিয়াহু তা প্রথমে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে। যদিও সময়মতো হামাস কিছু শর্তে সম্মতি দেয়, তবুও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দফা নিয়ে সে ও তফাতে পৌঁছাননি তারা। সে অবস্থায় ট্রাম্প গাজায় হামলা বন্ধের আহ্বান দেন এবং দরজা খুলে দেন আলোচনার।

কিন্তু তাত্ক্ষণিকভাবে গাজায় নিরীহ মানুষ ও বেসামরিক এলাকা লক্ষ্য করে বিমান হামলা ও ভূ-অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ)। দুই দিনেই প্রায় ১০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে; এক দিনে ৯৩টি বিমান হামলা চলছে বলে রিপোর্ট করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন ওঠে, নেতানিয়াহু কি শুধু কথায় সম্মতি দিচ্ছেন? নাকি ট্রাম্পকে ভুলভাবে বোঝাচ্ছেন যে তিনি শান্তি চাইছেন?

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাসের আংশিক সাড়া পেয়ে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ফোন করেন এবং বলেন, এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

কিন্তু জবাবে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, এটা উদযাপনের কিছু নয়, এর কোনো অর্থ নেই। এই কথার উত্তরে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন এবং এক গভীর মনোবলহীন অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহুর এই অবস্থান দ্বিমুখী কূটকৌশল হতে পারে। একদিকে তিনি আন্তর্জাতিক চাপ সামলাচ্ছেন, অন্যদিকে বাস্তবে যুদ্ধ অব্যাহত রেখে হামলাকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে চলমান রাখছেন। এমন কাজ করলে ট্রাম্পকে বিশ্বাসঘাতকতা ঘটিয়ে থাকতে পারেন তিনি। আবার সম্ভাবনা আছে, ট্রাম্প নিজেই কূটনাটক আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন, যেখানে ‘হামলা বন্ধ’ ও ‘জিম্মি মুক্তি’ ইত্যাদি শর্ত আড়ালে রেখে শাসন পরিবর্তনের পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।

আক্রান্ত গাজার মাটিতে প্রতিদিন ঝড় ওঠছে—গোলাবর্ষণ, ধ্বংস, মৃত্যু ও মানবিক বিপর্যয়। আলোচনায় যেমন অগ্রগতির স্বপ্ন দেখা হচ্ছে, বাস্তবের ধ্বংসযজ্ঞ তা ছাপিয়ে যাচ্ছে। এই প্রতিফলনে প্রশ্ন থেকেই যায়, নেতানিয়াহু কি সত্যিই শান্তির পথ খুঁজছেন, নাকি প্রতিশ্রুতির ছদ্মবেশে কৌশল প্রয়োগ করছেন?