ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

‘ওই তোরা ক, আমার বুকের মানিক কই’

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:১৩:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
  • ২৬৬ বার পড়া হয়েছে

নিহত নির্মাণ শ্রমিক ফিরোজ মিয়ায় পিতা জহিরুল ইসলাম।

আমার একটা মাত্র পুত, তুই কেন কেড়ে নিলে মালিক, কোন অপরাধে, এখন কে আর ডাকবে আমারে বাজান বলে, কে দিবে আমারে ঔষধ কিনে, আজ থেকে আর কেউ বলবেনা, আম্মারে ভালো করে গরুর মাংস রান্না করতে বলবেন আব্বা, বাড়ি ফিরে একসঙ্গে খামু, ওই তোরা বলে দে আমার বুকের মানিক কোথায়! বুকফাটা আর্তনাদ আর একমাত্র সন্তান হারানোর বেদনা সইতে না পেরে এভাবেই চিৎকার করে এসব কথা বলছিলেন মুন্সিগঞ্জ শহরের নির্মাণাধীন আবাসিক ভবনের সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে নেমে প্রাণ যাওয়া নিহত নির্মাণ শ্রমিক ফিরোজ মিয়ায় পিতা জহিরুল ইসলাম।

রোববার (৩১ আগস্ট) বিকাল ৫ টার দিকে মুন্সিগঞ্জ বড় বাজার সংলগ্ন খালইস্ট এলাকায় সিঙ্গাপুর প্রবাসী সবুজ কাজীর নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের ভিতরে কাজ করতে নেমে তিন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে, তিন শ্রমিকের নিথর দেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা। ভবন মালিকের গাফিলতি ও সেফটি ট্যাংকির ভিতরে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই সিঙ্গাপুর প্রবাসী কাজী সবুজের নির্মাণাধীন ভবনের সোয়ারেজের কাজ সহ অন্যান্য কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। পরে দুপুরে ওই ভবনের সেপটিক ট্যাংকের ভিতরের অংশ পরিষ্কার করে ঢাকনা লাগানোর জন্য এক শ্রমিক ট্যাংকের ভিতরে প্রবেশ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে উদ্ধার করতে আরও দুই শ্রমিক ট্যাংকের ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর ট্যাংকের ভিতরে তাদের ঝাপটা ঝাপটির শব্দ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয় স্থানীয়রা।

শাহিনের সঙ্গে কাজ করতে আসা পাভেল বলেন, শাহীনসহ আমরা একসঙ্গে মুন্সীগঞ্জ স্টেডিয়ামের কাছে ভাড়া থেকে কন্ট্রাক্টরের অধীনে বাড়ি নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করি। শাহিন এখানে একটি বিল্ডিং নির্মাণের কাজ করছিল। পাশের সেপটিক ট্যাংকি পরিষ্কার করতে আসা একজন ওকে ডেকে নিয়ে আসে। পরের সেফটি ট্যাংকিতে নেমে শাহিনসহ তিনজন মারা যায়। ওর বাড়ি গাইবান্ধা জেলায়। এছাড়া নিহত ফিরোজের বাবা মুন্সিগঞ্জ শহরের আনসার ক্যাম্পে দিনমজুরের কাজ করেন।

মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, ভবন মালিকের গাফলতি ও শ্রমিকদের অসচেতনতায় ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের কারণে অক্সিজেন সল্পতায় এই মৃত্যু হয়েছে। ভবন মালিকের শ্রমিকের নিরাপত্তার বিষয়ে গাফিলতির ফলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির বলেন, দুর্ঘটনায় শাহীন ইসলাম (২৮), ফিরোজ মিয়া (১৮) ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম (২৫) নামে তিন শ্রমিক নিহত হয়েছে। তাদের বাড়ি পঞ্চগড়, রংপুরের গাইবান্ধা ও বগুড়া জেলায়। নিহতদের ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের মরদেহ পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘ওই তোরা ক, আমার বুকের মানিক কই’

আপডেট সময় : ১১:১৩:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

নিহত নির্মাণ শ্রমিক ফিরোজ মিয়ায় পিতা জহিরুল ইসলাম।

আমার একটা মাত্র পুত, তুই কেন কেড়ে নিলে মালিক, কোন অপরাধে, এখন কে আর ডাকবে আমারে বাজান বলে, কে দিবে আমারে ঔষধ কিনে, আজ থেকে আর কেউ বলবেনা, আম্মারে ভালো করে গরুর মাংস রান্না করতে বলবেন আব্বা, বাড়ি ফিরে একসঙ্গে খামু, ওই তোরা বলে দে আমার বুকের মানিক কোথায়! বুকফাটা আর্তনাদ আর একমাত্র সন্তান হারানোর বেদনা সইতে না পেরে এভাবেই চিৎকার করে এসব কথা বলছিলেন মুন্সিগঞ্জ শহরের নির্মাণাধীন আবাসিক ভবনের সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে নেমে প্রাণ যাওয়া নিহত নির্মাণ শ্রমিক ফিরোজ মিয়ায় পিতা জহিরুল ইসলাম।

রোববার (৩১ আগস্ট) বিকাল ৫ টার দিকে মুন্সিগঞ্জ বড় বাজার সংলগ্ন খালইস্ট এলাকায় সিঙ্গাপুর প্রবাসী সবুজ কাজীর নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের ভিতরে কাজ করতে নেমে তিন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে, তিন শ্রমিকের নিথর দেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা। ভবন মালিকের গাফিলতি ও সেফটি ট্যাংকির ভিতরে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই সিঙ্গাপুর প্রবাসী কাজী সবুজের নির্মাণাধীন ভবনের সোয়ারেজের কাজ সহ অন্যান্য কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। পরে দুপুরে ওই ভবনের সেপটিক ট্যাংকের ভিতরের অংশ পরিষ্কার করে ঢাকনা লাগানোর জন্য এক শ্রমিক ট্যাংকের ভিতরে প্রবেশ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে উদ্ধার করতে আরও দুই শ্রমিক ট্যাংকের ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর ট্যাংকের ভিতরে তাদের ঝাপটা ঝাপটির শব্দ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয় স্থানীয়রা।

শাহিনের সঙ্গে কাজ করতে আসা পাভেল বলেন, শাহীনসহ আমরা একসঙ্গে মুন্সীগঞ্জ স্টেডিয়ামের কাছে ভাড়া থেকে কন্ট্রাক্টরের অধীনে বাড়ি নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করি। শাহিন এখানে একটি বিল্ডিং নির্মাণের কাজ করছিল। পাশের সেপটিক ট্যাংকি পরিষ্কার করতে আসা একজন ওকে ডেকে নিয়ে আসে। পরের সেফটি ট্যাংকিতে নেমে শাহিনসহ তিনজন মারা যায়। ওর বাড়ি গাইবান্ধা জেলায়। এছাড়া নিহত ফিরোজের বাবা মুন্সিগঞ্জ শহরের আনসার ক্যাম্পে দিনমজুরের কাজ করেন।

মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, ভবন মালিকের গাফলতি ও শ্রমিকদের অসচেতনতায় ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের কারণে অক্সিজেন সল্পতায় এই মৃত্যু হয়েছে। ভবন মালিকের শ্রমিকের নিরাপত্তার বিষয়ে গাফিলতির ফলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির বলেন, দুর্ঘটনায় শাহীন ইসলাম (২৮), ফিরোজ মিয়া (১৮) ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম (২৫) নামে তিন শ্রমিক নিহত হয়েছে। তাদের বাড়ি পঞ্চগড়, রংপুরের গাইবান্ধা ও বগুড়া জেলায়। নিহতদের ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের মরদেহ পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।