ঢাকা ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডাকসুতে নজর কাড়ছেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থীরা

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
  • ২৫৬ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ১০টি প্যানেল ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচিত কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। সবশেষ যুক্ত হয়েছে ‘সম্মিলিত ছাত্র ঐক্য’ নামে তিনজনের একটি প্যানেল। ইতোমধ্যে ভোটার ও প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেছেন প্রার্থীরা।

সব প্যানেল এবং অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে এবার শিক্ষার্থীদের নজর কাড়ছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নির্বাচনে এনেছে ভিন্ন মাত্রা। ভোটারদের মধ্যে তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে দেখা যাচ্ছে ইতিবাচক মনোভাব। শিক্ষার্থীরা বলছেন, এমন ভিন্নধর্মী অংশগ্রহণই তো আমরা প্রতি ডাকসু নির্বাচনে চাই। যেখানে যে কেউ তার পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো পদে লড়তে পারবেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে থাকবে না কোনো ভেদাভেদ; ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করতে পারবেন নিজ ইচ্ছানুযায়ী।

১০টি প্যানেলে ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কয়েকজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থী। যারা এবারের নির্বাচনে সবার নজর কাড়ছেন।

বিভিন্ন প্যানেলে তাদের পরিসংখ্যান-

১. ছাত্রদলের প্যানেলে ক্রীড়া সম্পাদক পদে লড়বেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের চিম চিম্যা চাকমা। এছাড়াও, সদস্য পদে লড়বেন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী- রন্জন রায় ও নিত্যানন্দ পাল।

২. ছাত্রশিবিরের ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলে সদস্য পদে লড়বেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের সর্ব মিত্র চাকমা। এই প্যানেলে নেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো প্রার্থী।

৩. উমামা ফাতেমার ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যে’র প্যানেলে পাঠকক্ষ ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে লড়বেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থী সুর্মী চাকমা ও ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক পদে রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা।

এছাড়াও, সদস্য পদে লড়বেন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী- ববি বিশ্বাস ও অর্ক বড়ুয়া।

৪. বাম সংগঠনগুলোর প্যানেল ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ এর প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মেঘমল্লার বসু। এছাড়াও, প্যানেলে ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক পদে লড়বেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের লিটন ত্রিপুরা, সদস্য পদে আছেন- পৃথিং মারমা ও হেমা চাকমা।

বাকি ছয়টি প্যানেলে নেই কোনো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থী। প্যানেলগুলো হলো- বামদের একাংশের সমন্বয়ে গঠিত ‘অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪’। ছাত্র অধিকার পরিষদের ‘ডাকসু ফর চেন্জ’। ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ‘সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ’। মাহিন সরকারের নেতৃত্বে গঠিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’। গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’ ও সর্বশেষ ঘোষিত ‘সম্মিলিত ছাত্র ঐক্য’।

আলোচনায় পাহাড়ি ৩ কন্যা

এবারের ডাকসু নির্বাচনে তিন পাহাড়ি কন্যা বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা; তিনি রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাসিন্দা। স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউটের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী ও শামসুন নাহার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হেমা চাকমা; তিনি খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার সন্তান। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী সুর্মী চাকমা; তিনি খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার সন্তান।

এদের মধ্যে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল থেকে ক্যারিয়ার ও উন্নয়ন সম্পাদক পদে লড়বেন রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা এবং ‘কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক’ পদে লড়বেন সুর্মী চাকমা। অন্যদিকে, বাম সংগঠনগুলোর প্যানেল ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ থেকে সদস্য পদে লড়বেন হেমা চাকমা।

রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা: জুলাই-গণঅভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থেকে সাহসী ও যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছিলেন এই পাহাড়ি কন্যা। আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে তাকে নানা ধরনের হেনস্তা, হামলা ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ছিলেন। ইতোমধ্যে ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের জন্য যেসব কাজ করতে চান, তা জানান তিনি।

রুপাইয়া জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ক্যারিয়ার কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে চাই। ক্যারিয়ার ফেস্ট, অ্যাকাডেমিক ইন্টার্নশিপ, মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম, ডিজিটাল রিসোর্স হাব, কারিগরি বা ব্যবহারিক দক্ষতামূলক বিভিন্ন কোর্স, স্কলারশিপ, ভাষা শিক্ষা কোর্স, দেশীয় চাকরির জন্য পরামর্শমূলক সেমিনার, উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য উদ্যেক্তা মেলা ও প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পার্ট টাইম (খণ্ডকালীন) চাকরির ব্যবস্থা করব।

সুর্মী চাকমা: কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে দাঁড়িয়ে নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের জন্য যে যে কাজ করতে চান তা জানান তিনি। সুর্মী জানান, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে অ্যাকাডেমিক ও সহায়ক বইগুলো সহজলভ্য, চারকুলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে স্টেশনারি স্থাপন ও খণ্ডকালীন চাকরির ব্যবস্থা ও ঢাবি গ্রন্থাগার ডিজিটালাইজড করতে চাই।

এছাড়াও, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে প্রতিবন্ধীদের জন্য অ্যাক্সেসিবল (সুগম) ক্যাম্পাস, ক্লাসরুম, ওয়াশরুম, নারী শিক্ষার্থীদের কমনরুমের পরিবেশ, খাবার ও স্যানিটেশন ব্যবস্থায় কাজ করে গিয়েছেন। ডাকসুতে জয়ী হন বা না হন তার এই কাজ সবসময় চলমান থাকবে। তবে জয়ী হলে উক্ত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করার পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ পাবেন বলে জানান তিনি।

হেমা চাকমা: বাম সংগঠনগুলোর ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেল থেকে সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এই পাহাড়ি কন্যা। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য যে ধরনের কাজ করতে চান তা জানান স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি বিভাগের এই শিক্ষার্থী। তিনি জানান, রেজিস্ট্রার বিল্ডিং এর ‘লাঞ্চের পরে আসেন’ কথাটিকে জাদুঘরে রেখে ‘প্রিজ প্রিজ, এখনি আসেন’ কথা বাস্তবায়ন, সর্ব রোগের ঔষধ নাপা’র বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত, মেডিক্যাল সেন্টার আধুনিকায়ন ও স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা সহজতর করতে কাজ করতে চান।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজের মামলায় নিজেই লড়তে চান শামসুল হক টুকু

ডাকসুতে নজর কাড়ছেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থীরা

আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ১০টি প্যানেল ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচিত কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। সবশেষ যুক্ত হয়েছে ‘সম্মিলিত ছাত্র ঐক্য’ নামে তিনজনের একটি প্যানেল। ইতোমধ্যে ভোটার ও প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেছেন প্রার্থীরা।

সব প্যানেল এবং অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে এবার শিক্ষার্থীদের নজর কাড়ছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নির্বাচনে এনেছে ভিন্ন মাত্রা। ভোটারদের মধ্যে তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে দেখা যাচ্ছে ইতিবাচক মনোভাব। শিক্ষার্থীরা বলছেন, এমন ভিন্নধর্মী অংশগ্রহণই তো আমরা প্রতি ডাকসু নির্বাচনে চাই। যেখানে যে কেউ তার পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো পদে লড়তে পারবেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে থাকবে না কোনো ভেদাভেদ; ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করতে পারবেন নিজ ইচ্ছানুযায়ী।

১০টি প্যানেলে ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কয়েকজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থী। যারা এবারের নির্বাচনে সবার নজর কাড়ছেন।

বিভিন্ন প্যানেলে তাদের পরিসংখ্যান-

১. ছাত্রদলের প্যানেলে ক্রীড়া সম্পাদক পদে লড়বেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের চিম চিম্যা চাকমা। এছাড়াও, সদস্য পদে লড়বেন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী- রন্জন রায় ও নিত্যানন্দ পাল।

২. ছাত্রশিবিরের ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলে সদস্য পদে লড়বেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের সর্ব মিত্র চাকমা। এই প্যানেলে নেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো প্রার্থী।

৩. উমামা ফাতেমার ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যে’র প্যানেলে পাঠকক্ষ ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে লড়বেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থী সুর্মী চাকমা ও ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক পদে রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা।

এছাড়াও, সদস্য পদে লড়বেন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী- ববি বিশ্বাস ও অর্ক বড়ুয়া।

৪. বাম সংগঠনগুলোর প্যানেল ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ এর প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মেঘমল্লার বসু। এছাড়াও, প্যানেলে ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক পদে লড়বেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের লিটন ত্রিপুরা, সদস্য পদে আছেন- পৃথিং মারমা ও হেমা চাকমা।

বাকি ছয়টি প্যানেলে নেই কোনো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থী। প্যানেলগুলো হলো- বামদের একাংশের সমন্বয়ে গঠিত ‘অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪’। ছাত্র অধিকার পরিষদের ‘ডাকসু ফর চেন্জ’। ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ‘সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ’। মাহিন সরকারের নেতৃত্বে গঠিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’। গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’ ও সর্বশেষ ঘোষিত ‘সম্মিলিত ছাত্র ঐক্য’।

আলোচনায় পাহাড়ি ৩ কন্যা

এবারের ডাকসু নির্বাচনে তিন পাহাড়ি কন্যা বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা; তিনি রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাসিন্দা। স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউটের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী ও শামসুন নাহার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হেমা চাকমা; তিনি খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার সন্তান। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী সুর্মী চাকমা; তিনি খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার সন্তান।

এদের মধ্যে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল থেকে ক্যারিয়ার ও উন্নয়ন সম্পাদক পদে লড়বেন রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা এবং ‘কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক’ পদে লড়বেন সুর্মী চাকমা। অন্যদিকে, বাম সংগঠনগুলোর প্যানেল ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ থেকে সদস্য পদে লড়বেন হেমা চাকমা।

রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা: জুলাই-গণঅভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থেকে সাহসী ও যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছিলেন এই পাহাড়ি কন্যা। আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে তাকে নানা ধরনের হেনস্তা, হামলা ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ছিলেন। ইতোমধ্যে ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের জন্য যেসব কাজ করতে চান, তা জানান তিনি।

রুপাইয়া জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ক্যারিয়ার কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে চাই। ক্যারিয়ার ফেস্ট, অ্যাকাডেমিক ইন্টার্নশিপ, মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম, ডিজিটাল রিসোর্স হাব, কারিগরি বা ব্যবহারিক দক্ষতামূলক বিভিন্ন কোর্স, স্কলারশিপ, ভাষা শিক্ষা কোর্স, দেশীয় চাকরির জন্য পরামর্শমূলক সেমিনার, উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য উদ্যেক্তা মেলা ও প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পার্ট টাইম (খণ্ডকালীন) চাকরির ব্যবস্থা করব।

সুর্মী চাকমা: কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে দাঁড়িয়ে নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের জন্য যে যে কাজ করতে চান তা জানান তিনি। সুর্মী জানান, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে অ্যাকাডেমিক ও সহায়ক বইগুলো সহজলভ্য, চারকুলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে স্টেশনারি স্থাপন ও খণ্ডকালীন চাকরির ব্যবস্থা ও ঢাবি গ্রন্থাগার ডিজিটালাইজড করতে চাই।

এছাড়াও, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে প্রতিবন্ধীদের জন্য অ্যাক্সেসিবল (সুগম) ক্যাম্পাস, ক্লাসরুম, ওয়াশরুম, নারী শিক্ষার্থীদের কমনরুমের পরিবেশ, খাবার ও স্যানিটেশন ব্যবস্থায় কাজ করে গিয়েছেন। ডাকসুতে জয়ী হন বা না হন তার এই কাজ সবসময় চলমান থাকবে। তবে জয়ী হলে উক্ত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করার পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ পাবেন বলে জানান তিনি।

হেমা চাকমা: বাম সংগঠনগুলোর ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেল থেকে সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এই পাহাড়ি কন্যা। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য যে ধরনের কাজ করতে চান তা জানান স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি বিভাগের এই শিক্ষার্থী। তিনি জানান, রেজিস্ট্রার বিল্ডিং এর ‘লাঞ্চের পরে আসেন’ কথাটিকে জাদুঘরে রেখে ‘প্রিজ প্রিজ, এখনি আসেন’ কথা বাস্তবায়ন, সর্ব রোগের ঔষধ নাপা’র বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত, মেডিক্যাল সেন্টার আধুনিকায়ন ও স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা সহজতর করতে কাজ করতে চান।