ঢাকা ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মায়ের দেওয়া শেষ খাবারটিও শেষ করতে পারেনি নুসরাত

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:৪৩:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
  • ২৬৫ বার পড়া হয়েছে

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত জাহান আনিকার  মৃত্যু হয়েছে। ছোট মেয়ে নুসরাত জাহান আনিকাকে হারিয়ে পুরো পরিবারে শোক নেমে এসেছে


‘মা, আমার জন্য কী খাবার আনছো?’ ‘তোমার জন্য অনেক খাবার আনছি। তুমি বসে খাও।’

এই বলে মেয়ে নুসরাত জাহান আনিকার হাতে টিফিন হিসেবে রোল, বার্গার ও কোকের বোতল তুলে দেন মা পারুল আক্তার। কিন্তু মায়ের দেওয়া শেষ খাবারটিও শেষ করতে পারেনি নুসরাত।

এর ঠিক ১০ মিনিটের মধ্যে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে নুসরাতদের ক্লাসের ওপর আছড়ে পড়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান। বিস্ফোরণে আগুন ধরে যায় বিমানটিতে এবং পাশের ক্লাসগুলোতে। সেই আগুনে মারা গেছে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত।

ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাস থেকে নুসরাতদের বাসা খুব বেশি দূরে নয়। হেঁটে গেলে সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিট সময় লাগে। এত কাছাকাছি দূরত্বে রিকশাও যেতে চায় না। এ কারণে স্কুলে আসা-যাওয়ায় বাবাই ছিল তার সঙ্গী

গত সোমবারও (২১ জুলাই) তার ব্যতিক্রম হয়নি। সকাল ৬টায় ঘুম থেকে উঠে যথারীতি ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নুসরাত। পরে পড়ার টেবিলে থাকা বইখাতা ঘুছিয়ে সকাল ৭টায় বাবা মো. আবুল হোসেনের হাত ধরে হেঁটে স্কুলে যায় সে।

দুপুর ১টা। তখন মাইলস্টোন স্কুলের ক্লাস শেষ হয়েছে। কিন্তু তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস থেকে বের হতে মানা। কারণ, ১০ মিনিট টিফিনের বিরতি দিয়ে শুরু হবে কোচিং ক্লাস। ফলে আগেই টিফিন নিয়ে স্কুলের গেটে হাজির ছিলেন নুসরাতের মা পারুল আক্তার। টিফিনের সময় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে শ্রেণিকক্ষের সামনে যান তিনি। বাইরে থেকে জানালার গ্রিলের ফাঁকা দিয়ে মেয়ের হাতে টিফিন দেন। এ সময় মেয়েকে পেট ভরে খেতে বলেন।

স্কুল থেকে বের হয়ে দিয়াবাড়ি গোল চত্বর সংলগ্ন বাসায় ফিরছিলেন পারুল আক্তার। হঠাৎ শুনতে পেলেন বিকট বিস্ফোরণের মতো শব্দ। পেছনে তাকিয়ে দেখেন সবাই যে যার মতো দিগ্বিদিক দৌড়াচ্ছেন। স্কুলের ভেতর থেকে বের হচ্ছে আগুনের কুণ্ডলী ও কালো ধোঁয়া। এমন দৃশ্য দেখে আঁতকে ওঠেন পারুল। হাউ মাউ করে কেঁদে ছুটতে থাকেন মেয়ের স্কুলের দিকে।

স্কুলে ঢুকে পারুল দেখেন, নুসরাতদের শ্রেণিকক্ষের ওপর আছড়ে পড়েছে একটি যুদ্ধবিমান। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে আগুন ও কালো ধোঁয়া। আগুনের মধ্যে দিগ্বিদিক ছুটছিল শিশু শিক্ষার্থীরা। কিন্তু আগুনের তীব্রতায় কেউই শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হতে পারছিল না। বাইরে থেকেও কারো পক্ষে শ্রেণিকক্ষে ঢোকা সম্ভব ছিল না।

এ সময় স্কুলের আশেপাশের লোকজন ও পাশে থাকা সেনা ক্যাম্পের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। খবর পেয়ে ছুটে আসেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় সেনাবাহিনী। পরে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় নুসরাতের মৃতদেহ পায় তার পরিবার।

বুধবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর ১টা। নুসরাত জাহান আনিকার ছবি হাতে নিয়ে নিজ বাড়িতে বিলাপ করছিলেন তার মা পারুল আক্তার। তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন আত্মীয়-স্বজনেরা। পাশের একটি সোফায় শুয়ে নীরবে কাঁদছিলেন বাবা মো. আবুল হোসেন।

দরজার গায়ে সাঁটা আছে জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তা। রঙিন কাগজে ছোট্ট হাতে লেখা ‘শুভ জন্মদিন নুসরাত’। দেয়ালের কোণায় রাখা স্কুলব্যাগটা এখনো যেমন ছিল, তেমনই। খোলা খাতায় পড়ে আছে হ্যান্ডরাইটিংয়ের অনুশীলন, আর একটা পেন্সিল, যেটা শেষবার ব্যবহার করেছিল মেয়েটি। কিন্তু সেই ঘর, খাতা, উইশ কার্ড-সবই আজ যেন বোবা এক সাক্ষী। ছোট্ট নুসরাত আর নেই।

বিলাপ করতে করতে পারুল আক্তার বলছিলেন, ‘আমি যদি জানতাম ওখানে প্লেন বিধ্বস্ত হবে, ১০ মিনিট আগেই আমি আমার মাকে (মেয়ে) স্কুল থেকে নিয়ে আসতে পারতাম। মেয়েকে খাবার দিয়ে আসার ১০ মিনিট পরে এই ঘটনা ঘটছে। প্লেনটা আমার মায়ের ক্লাসের ওপরই পড়ছে। দুর্ঘটনার পর আমার মাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করছি, স্কুলে পাইনি। অথচ ১০ মিনিট আগেই মেয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। মেয়েকে টিফিন দিয়ে আসছি। এটাই ছিল আমার মায়ের সঙ্গে শেষ দেখা।’

পারুল আক্তার বলেন, “মেয়েটা আমাকে বলল, ‘মা, আমার জন্য কী খাবার আনছো?’ আমি বলছি, ‘তোমার জন্য অনেক খাবার আনছি। তুমি বসে খাও।’ ম্যাডামরা ক্লাসে ঢুকতে দিলে আমি নিজেই ওরে খাওয়ায় আসতাম। ম্যাডামরা বাচ্চাদের বাইরে বের হতে দেন না। পানিও খেতে যেতে দিতেন না।’

নুসরাত গরুর মাংস, বিরিয়ানি পছন্দ করতো জানিয়ে পারুল আক্তার বলেন, ‘সব সময় টিফিনে এগুলোই রান্না করে দেই। ঐদিন বাইরের খাবার চেয়েছে। স্কুলের ক্যান্টিন থেকে একটা রোল, বার্গার ও কোক কিনে তাকে দিয়েছি। ক্লাস থেকে বাচ্চাদের বের হতে দেন না শিক্ষকরা। এজন্য বিদ্যালয়ের বারান্দার গ্রিলের ভেতর দিয়ে মেয়েকে খেতে দিয়েছি। মেয়েকে বলছি, ভেতরে নিয়ে খাও। আমি খাবারটা দিয়ে আসার পর আমার মা তা খাচ্ছিল। আর খাওয়া অবস্থায়ই বিমানটা আছড়ে পড়ে। আমার মা খাবারটাও ঠিক মতো শেষ করতে পারেনি।’

বিমান বিধ্বস্তের সময় ক্লাসের ম্যাডাম ছিল না জানিয়ে পারুল আক্তার বলেন, ‘টিফিনের সময় ম্যাডাম শ্রেণিকক্ষে ছিলেন না। ম্যাডামরা থাকলে হয়তো বাচ্চারা এত ভয় পেত না। সবগুলা বাচ্চা ভয়েই মরে গেছে। আগুনে আমার মেয়ের তেমন ক্ষতি হয়নি। সম্ভবত ভয় ও ধোঁয়ায় মারা গেছে।’

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

মায়ের দেওয়া শেষ খাবারটিও শেষ করতে পারেনি নুসরাত

আপডেট সময় : ০১:৪৩:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত জাহান আনিকার  মৃত্যু হয়েছে। ছোট মেয়ে নুসরাত জাহান আনিকাকে হারিয়ে পুরো পরিবারে শোক নেমে এসেছে


‘মা, আমার জন্য কী খাবার আনছো?’ ‘তোমার জন্য অনেক খাবার আনছি। তুমি বসে খাও।’

এই বলে মেয়ে নুসরাত জাহান আনিকার হাতে টিফিন হিসেবে রোল, বার্গার ও কোকের বোতল তুলে দেন মা পারুল আক্তার। কিন্তু মায়ের দেওয়া শেষ খাবারটিও শেষ করতে পারেনি নুসরাত।

এর ঠিক ১০ মিনিটের মধ্যে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে নুসরাতদের ক্লাসের ওপর আছড়ে পড়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান। বিস্ফোরণে আগুন ধরে যায় বিমানটিতে এবং পাশের ক্লাসগুলোতে। সেই আগুনে মারা গেছে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত।

ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাস থেকে নুসরাতদের বাসা খুব বেশি দূরে নয়। হেঁটে গেলে সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিট সময় লাগে। এত কাছাকাছি দূরত্বে রিকশাও যেতে চায় না। এ কারণে স্কুলে আসা-যাওয়ায় বাবাই ছিল তার সঙ্গী

গত সোমবারও (২১ জুলাই) তার ব্যতিক্রম হয়নি। সকাল ৬টায় ঘুম থেকে উঠে যথারীতি ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নুসরাত। পরে পড়ার টেবিলে থাকা বইখাতা ঘুছিয়ে সকাল ৭টায় বাবা মো. আবুল হোসেনের হাত ধরে হেঁটে স্কুলে যায় সে।

দুপুর ১টা। তখন মাইলস্টোন স্কুলের ক্লাস শেষ হয়েছে। কিন্তু তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস থেকে বের হতে মানা। কারণ, ১০ মিনিট টিফিনের বিরতি দিয়ে শুরু হবে কোচিং ক্লাস। ফলে আগেই টিফিন নিয়ে স্কুলের গেটে হাজির ছিলেন নুসরাতের মা পারুল আক্তার। টিফিনের সময় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে শ্রেণিকক্ষের সামনে যান তিনি। বাইরে থেকে জানালার গ্রিলের ফাঁকা দিয়ে মেয়ের হাতে টিফিন দেন। এ সময় মেয়েকে পেট ভরে খেতে বলেন।

স্কুল থেকে বের হয়ে দিয়াবাড়ি গোল চত্বর সংলগ্ন বাসায় ফিরছিলেন পারুল আক্তার। হঠাৎ শুনতে পেলেন বিকট বিস্ফোরণের মতো শব্দ। পেছনে তাকিয়ে দেখেন সবাই যে যার মতো দিগ্বিদিক দৌড়াচ্ছেন। স্কুলের ভেতর থেকে বের হচ্ছে আগুনের কুণ্ডলী ও কালো ধোঁয়া। এমন দৃশ্য দেখে আঁতকে ওঠেন পারুল। হাউ মাউ করে কেঁদে ছুটতে থাকেন মেয়ের স্কুলের দিকে।

স্কুলে ঢুকে পারুল দেখেন, নুসরাতদের শ্রেণিকক্ষের ওপর আছড়ে পড়েছে একটি যুদ্ধবিমান। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে আগুন ও কালো ধোঁয়া। আগুনের মধ্যে দিগ্বিদিক ছুটছিল শিশু শিক্ষার্থীরা। কিন্তু আগুনের তীব্রতায় কেউই শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হতে পারছিল না। বাইরে থেকেও কারো পক্ষে শ্রেণিকক্ষে ঢোকা সম্ভব ছিল না।

এ সময় স্কুলের আশেপাশের লোকজন ও পাশে থাকা সেনা ক্যাম্পের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। খবর পেয়ে ছুটে আসেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় সেনাবাহিনী। পরে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় নুসরাতের মৃতদেহ পায় তার পরিবার।

বুধবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর ১টা। নুসরাত জাহান আনিকার ছবি হাতে নিয়ে নিজ বাড়িতে বিলাপ করছিলেন তার মা পারুল আক্তার। তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন আত্মীয়-স্বজনেরা। পাশের একটি সোফায় শুয়ে নীরবে কাঁদছিলেন বাবা মো. আবুল হোসেন।

দরজার গায়ে সাঁটা আছে জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তা। রঙিন কাগজে ছোট্ট হাতে লেখা ‘শুভ জন্মদিন নুসরাত’। দেয়ালের কোণায় রাখা স্কুলব্যাগটা এখনো যেমন ছিল, তেমনই। খোলা খাতায় পড়ে আছে হ্যান্ডরাইটিংয়ের অনুশীলন, আর একটা পেন্সিল, যেটা শেষবার ব্যবহার করেছিল মেয়েটি। কিন্তু সেই ঘর, খাতা, উইশ কার্ড-সবই আজ যেন বোবা এক সাক্ষী। ছোট্ট নুসরাত আর নেই।

বিলাপ করতে করতে পারুল আক্তার বলছিলেন, ‘আমি যদি জানতাম ওখানে প্লেন বিধ্বস্ত হবে, ১০ মিনিট আগেই আমি আমার মাকে (মেয়ে) স্কুল থেকে নিয়ে আসতে পারতাম। মেয়েকে খাবার দিয়ে আসার ১০ মিনিট পরে এই ঘটনা ঘটছে। প্লেনটা আমার মায়ের ক্লাসের ওপরই পড়ছে। দুর্ঘটনার পর আমার মাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করছি, স্কুলে পাইনি। অথচ ১০ মিনিট আগেই মেয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। মেয়েকে টিফিন দিয়ে আসছি। এটাই ছিল আমার মায়ের সঙ্গে শেষ দেখা।’

পারুল আক্তার বলেন, “মেয়েটা আমাকে বলল, ‘মা, আমার জন্য কী খাবার আনছো?’ আমি বলছি, ‘তোমার জন্য অনেক খাবার আনছি। তুমি বসে খাও।’ ম্যাডামরা ক্লাসে ঢুকতে দিলে আমি নিজেই ওরে খাওয়ায় আসতাম। ম্যাডামরা বাচ্চাদের বাইরে বের হতে দেন না। পানিও খেতে যেতে দিতেন না।’

নুসরাত গরুর মাংস, বিরিয়ানি পছন্দ করতো জানিয়ে পারুল আক্তার বলেন, ‘সব সময় টিফিনে এগুলোই রান্না করে দেই। ঐদিন বাইরের খাবার চেয়েছে। স্কুলের ক্যান্টিন থেকে একটা রোল, বার্গার ও কোক কিনে তাকে দিয়েছি। ক্লাস থেকে বাচ্চাদের বের হতে দেন না শিক্ষকরা। এজন্য বিদ্যালয়ের বারান্দার গ্রিলের ভেতর দিয়ে মেয়েকে খেতে দিয়েছি। মেয়েকে বলছি, ভেতরে নিয়ে খাও। আমি খাবারটা দিয়ে আসার পর আমার মা তা খাচ্ছিল। আর খাওয়া অবস্থায়ই বিমানটা আছড়ে পড়ে। আমার মা খাবারটাও ঠিক মতো শেষ করতে পারেনি।’

বিমান বিধ্বস্তের সময় ক্লাসের ম্যাডাম ছিল না জানিয়ে পারুল আক্তার বলেন, ‘টিফিনের সময় ম্যাডাম শ্রেণিকক্ষে ছিলেন না। ম্যাডামরা থাকলে হয়তো বাচ্চারা এত ভয় পেত না। সবগুলা বাচ্চা ভয়েই মরে গেছে। আগুনে আমার মেয়ের তেমন ক্ষতি হয়নি। সম্ভবত ভয় ও ধোঁয়ায় মারা গেছে।’