ঢাকা ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাড়ির টানে বাড়ির পথে জনস্রোত

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:০৭:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫
  • ২৫৮ বার পড়া হয়েছে

ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ হবে না, এটা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চিন্তা করা যেত না। কিন্তু এবার ঘটেছে ব্যতিক্রম সেই ঘটনা। সড়ক-নৌ ও রেলপথ কোথাও দুর্ভোগ নেই। লাখ লাখ মানুষ স্বস্তিতে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাড়ি ফিরেছেন নাড়ির টানে। অনেকে আজও ঢাকা থেকে ছেড়ে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। সড়ক-নৌ-রেলপথে ঘরমুখো মানুষের প্রচুর চাপ, যেন জনস্রোত বইছে।

শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন দূরপাল্লার বাসস্ট্যান্ড, কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সরেজমিন ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে এমন চিত্র।

ঘরমুখো মানুষের অভিমত- উৎসবপাগল বাঙালিরা ঈদযাত্রায় স্বস্তি পাওয়ায় বর্তমান সরকারের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, ঈদে ফেরার সময়েও সরকারের কার্যকর তদারকি থাকলেও কোনো ভোগান্তি হবে না। পাশাপাশি দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিক হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন যাত্রীরা।

শনিবার সরেজমিন দেখা গেছে, ঢাকার সায়েদাবাদ টার্মিনাল এলাকায় বাস কাউন্টার ও আশপাশের এলাকা ঘুরে সাধারণ সময়ের মতোই যাত্রীদের উপস্থিতি দেখা যায়। তবে কোথাও ভিড় দেখা যায়নি। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল যাত্রায় মহাসড়কে যানজট না থাকায় সায়েদাবাদ থেকে প্রায় প্রতিটি বাস নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে যাচ্ছে। যাত্রীদের মনেও ছিল প্রশান্তি। একই চিত্র ছিল কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চস্টেশনে।

যুগান্তরের গাজীপুর এবং টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানিয়েছেন, উত্তর জনপদের উদ্দেশে রওয়ানা হওয়া বাসগুলো যত্রতত্র যাত্রী উঠাচ্ছে। এতে ওই সড়কে কিছুটা গাড়ির জট রয়েছে; এজন্য গাড়িগুলো ধীরগতিতে চলাচল করছে। তবে কোথাও কোনো যানজট নেই। অন্যান্যবারের মতো নেই চিরচেনা ভোগান্তিও।এছাড়া পদ্মা সেতু, আরিচা-দৌলতদিয়া পয়েন্টেও নেই কোনো যানজট ও দুর্ভোগ। তবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি মহাসড়কের গৌরীপুরে সড়কে গাড়ির জটলা ছিল, এতে প্রচণ্ড গরমে শনিবার মানুষের খুবই কষ্ট হয়েছে। তবে কোথাও গাড়ি থেমে ছিল না। ধীরে ধীরে চলেছে।

সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত : এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক। শনিবার তিনি সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান।

সচিব বলেন, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তা, বিআরটির অফিসার, পুলিশ, শ্রমিক-মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বসে আমরা এ চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। এবারের ঈদযাত্রায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজি থাকবে না, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না, ছিনতাই-চুরি-ডাকাতি হবে না, মলম পার্টির উপদ্রব থাকবে না। সর্বোপরি মানুষ শান্তিতে ও নির্বিঘ্নে ঘরে ফিরে যাবে এবং একইভাবে আসার সময় আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ করে যাব।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

নাড়ির টানে বাড়ির পথে জনস্রোত

আপডেট সময় : ০১:০৭:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫

ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ হবে না, এটা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চিন্তা করা যেত না। কিন্তু এবার ঘটেছে ব্যতিক্রম সেই ঘটনা। সড়ক-নৌ ও রেলপথ কোথাও দুর্ভোগ নেই। লাখ লাখ মানুষ স্বস্তিতে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাড়ি ফিরেছেন নাড়ির টানে। অনেকে আজও ঢাকা থেকে ছেড়ে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। সড়ক-নৌ-রেলপথে ঘরমুখো মানুষের প্রচুর চাপ, যেন জনস্রোত বইছে।

শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন দূরপাল্লার বাসস্ট্যান্ড, কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সরেজমিন ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে এমন চিত্র।

ঘরমুখো মানুষের অভিমত- উৎসবপাগল বাঙালিরা ঈদযাত্রায় স্বস্তি পাওয়ায় বর্তমান সরকারের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, ঈদে ফেরার সময়েও সরকারের কার্যকর তদারকি থাকলেও কোনো ভোগান্তি হবে না। পাশাপাশি দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিক হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন যাত্রীরা।

শনিবার সরেজমিন দেখা গেছে, ঢাকার সায়েদাবাদ টার্মিনাল এলাকায় বাস কাউন্টার ও আশপাশের এলাকা ঘুরে সাধারণ সময়ের মতোই যাত্রীদের উপস্থিতি দেখা যায়। তবে কোথাও ভিড় দেখা যায়নি। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল যাত্রায় মহাসড়কে যানজট না থাকায় সায়েদাবাদ থেকে প্রায় প্রতিটি বাস নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে যাচ্ছে। যাত্রীদের মনেও ছিল প্রশান্তি। একই চিত্র ছিল কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চস্টেশনে।

যুগান্তরের গাজীপুর এবং টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানিয়েছেন, উত্তর জনপদের উদ্দেশে রওয়ানা হওয়া বাসগুলো যত্রতত্র যাত্রী উঠাচ্ছে। এতে ওই সড়কে কিছুটা গাড়ির জট রয়েছে; এজন্য গাড়িগুলো ধীরগতিতে চলাচল করছে। তবে কোথাও কোনো যানজট নেই। অন্যান্যবারের মতো নেই চিরচেনা ভোগান্তিও।এছাড়া পদ্মা সেতু, আরিচা-দৌলতদিয়া পয়েন্টেও নেই কোনো যানজট ও দুর্ভোগ। তবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি মহাসড়কের গৌরীপুরে সড়কে গাড়ির জটলা ছিল, এতে প্রচণ্ড গরমে শনিবার মানুষের খুবই কষ্ট হয়েছে। তবে কোথাও গাড়ি থেমে ছিল না। ধীরে ধীরে চলেছে।

সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত : এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক। শনিবার তিনি সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান।

সচিব বলেন, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তা, বিআরটির অফিসার, পুলিশ, শ্রমিক-মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বসে আমরা এ চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। এবারের ঈদযাত্রায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজি থাকবে না, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না, ছিনতাই-চুরি-ডাকাতি হবে না, মলম পার্টির উপদ্রব থাকবে না। সর্বোপরি মানুষ শান্তিতে ও নির্বিঘ্নে ঘরে ফিরে যাবে এবং একইভাবে আসার সময় আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ করে যাব।