ঢাকা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

লালবাগে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:১৭:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ মার্চ ২০২৫
  • ২৬৫ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর লালবাগ থানাধীন আজিমপুরে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, ওই নারীর স্বামী তাকে হত্যা করেছে। পুলিশও বলছে একই কথা।

বৃহস্পতিবার রাতে লালবাগের বিসি দাস স্ট্রিটের একটি বহুতল ভবনের নবম তলায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃত তাহিয়া তাসামিম (১৯) বিসি দাস স্ট্রিটের ভবনটির বাসিন্দা মো. তাজুল ইসলামের মেয়ে। বিয়ে হলেও দাম্পত্য কলহের জেরে বাবার বাড়িতে থাকতেন তাসামিম।

তাসামিমের বাবা তাজুল ইসলাম জানান, এক বছর আগে তাসামিম ও সাগরের বিয়ে হয়। পরে তাসামিম জানতে পারেন, তার স্বামী আগেও বিয়ে করেছেনে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে তাসামিম শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। বিষয়টি নিয়ে গত মঙ্গলবার দুই পরিবার আলোচনায় বসে। সেখানে তাজুল ইসলাম বলেন, সমাধান না হলে বিচ্ছেদ হয়ে যাক।

বৃহস্পতিবার রাতে তাসামিম বাসায় একা ছিলেন। তার বাবা নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। আর মা কর্মস্থলে ছিলেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি যাওয়ার আগে মেয়েকে বলে গিয়েছিলাম, কেউ আসলে দরজা যেন না খুলে। কিন্তু তার স্বামী দারোয়ানকে ডেকে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাসায় ফিরে দেখি খাটের পাশে মেয়ের রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে। মেয়ের মুখে ও শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। আমি বুঝতে পারি, সাগর তাকে মেরে পালিয়েছে। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি লালবাগ থানার পুলিশকে জানানো হয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, তাসামিম ও সাগরের মধ্যে আগে থেকেই টানাপোড়ন চলছিল। এর আগেও সাগর তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তাসামিম স্বামীর বাড়িতে যেতে রাজি ছিলেন না।

লালবাগ থানার ওসি ক্যশৈনু বলেন, ‘ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিহতের স্বামী বাসায় আসেন। ভেতর থেকে দরজা না খুললে, তিনি দারোয়ানকে নিয়ে দরজার সামনে যান। পরে নিহত মেয়েটি দরজা খুললে দারোয়ান স্বাভাবিকভাবে নিচে চলে যায়। প্রায় ১৫ মিনিট পর তার স্বামী বাসা থেকে বেরিয়ে যান। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিহতের বাবা বাসায় এসে দেখেন, রুমের দরজা ভেতর থেকে আটকানো। দরজা খুলে তিনি দেখেন, মেয়েটি মেঝেতে পড়ে আছে, আর ফ্যানের সঙ্গে একটি ছেঁড়া ওড়না ঝুলছে।’

ওসি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

লালবাগে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:১৭:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ মার্চ ২০২৫

রাজধানীর লালবাগ থানাধীন আজিমপুরে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, ওই নারীর স্বামী তাকে হত্যা করেছে। পুলিশও বলছে একই কথা।

বৃহস্পতিবার রাতে লালবাগের বিসি দাস স্ট্রিটের একটি বহুতল ভবনের নবম তলায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃত তাহিয়া তাসামিম (১৯) বিসি দাস স্ট্রিটের ভবনটির বাসিন্দা মো. তাজুল ইসলামের মেয়ে। বিয়ে হলেও দাম্পত্য কলহের জেরে বাবার বাড়িতে থাকতেন তাসামিম।

তাসামিমের বাবা তাজুল ইসলাম জানান, এক বছর আগে তাসামিম ও সাগরের বিয়ে হয়। পরে তাসামিম জানতে পারেন, তার স্বামী আগেও বিয়ে করেছেনে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে তাসামিম শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। বিষয়টি নিয়ে গত মঙ্গলবার দুই পরিবার আলোচনায় বসে। সেখানে তাজুল ইসলাম বলেন, সমাধান না হলে বিচ্ছেদ হয়ে যাক।

বৃহস্পতিবার রাতে তাসামিম বাসায় একা ছিলেন। তার বাবা নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। আর মা কর্মস্থলে ছিলেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি যাওয়ার আগে মেয়েকে বলে গিয়েছিলাম, কেউ আসলে দরজা যেন না খুলে। কিন্তু তার স্বামী দারোয়ানকে ডেকে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাসায় ফিরে দেখি খাটের পাশে মেয়ের রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে। মেয়ের মুখে ও শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। আমি বুঝতে পারি, সাগর তাকে মেরে পালিয়েছে। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি লালবাগ থানার পুলিশকে জানানো হয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, তাসামিম ও সাগরের মধ্যে আগে থেকেই টানাপোড়ন চলছিল। এর আগেও সাগর তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তাসামিম স্বামীর বাড়িতে যেতে রাজি ছিলেন না।

লালবাগ থানার ওসি ক্যশৈনু বলেন, ‘ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিহতের স্বামী বাসায় আসেন। ভেতর থেকে দরজা না খুললে, তিনি দারোয়ানকে নিয়ে দরজার সামনে যান। পরে নিহত মেয়েটি দরজা খুললে দারোয়ান স্বাভাবিকভাবে নিচে চলে যায়। প্রায় ১৫ মিনিট পর তার স্বামী বাসা থেকে বেরিয়ে যান। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিহতের বাবা বাসায় এসে দেখেন, রুমের দরজা ভেতর থেকে আটকানো। দরজা খুলে তিনি দেখেন, মেয়েটি মেঝেতে পড়ে আছে, আর ফ্যানের সঙ্গে একটি ছেঁড়া ওড়না ঝুলছে।’

ওসি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’