ঢাকা ০৯:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাহাজে ৭ খুনের দায় স্বীকার করে আকাশের স্বীকারোক্তি

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৮:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ২৫৬ বার পড়া হয়েছে

চাঁদপুরের হাইমচর মেঘনা নদীতে সারবাহী জাহাজ এমভি বাখেরায় সাত খুনের ঘটনায় গ্রেফতার আসামি আকাশ মণ্ডল ওরফে ইরফানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাকে সাত দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় চাঁদপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদুল আলমের আদালতে আকাশ মণ্ডলকে হাজির করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় জবানবন্দি শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে আদালত থেকে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় চাঁদপুর কারাগারে পাঠানো হয়।

চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটার (পিপি) কুহিনুর বেগম বলেন, আসামি আকাশকে সাত দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারী কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন। তাকে আদালতে হাজির করার পর বিচারক জবানবন্দি নিয়েছেন। আসামি এই খুনের ঘটনায় নিজের দায় স্বীকার করেছেন। এই মামলায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। আমাদের আইন কর্মকর্তারা সরকারকে সহযোগিতা করছেন এবং সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

আদালতে আসামিপক্ষে কোনো আইনজবী ছিলেন না।

এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর দিনগত রাতে বাগেরহাটের ফকিরহাট এলাকার জগদীশ মণ্ডলের ছেলে আসামি আকাশ মণ্ডল ওরফে ইরফানকে র‌্যাব-৬ এর সহযোগিতায় র‌্যাব-১১ অভিযান চালিয়ে বাগেরহাটের চিতলমারী থেকে গ্রেফতার করে। ওইদিন দুপুরে আসামিকে র‌্যাব-১১ কুমিল্লায় নিয়ে আসে। সেখানে তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান র‌্যাব-১১ এর উপ-অধিনায়ক মেজর সাকিব হোসেন।

গত ২৪ ডিসেম্বর রাতে এমভি আল বাখেরা জাহাজে সাত খুনের ঘটনায় হাইমচর থানায় অজ্ঞাতনামা ডাকাত দলকে আসামি করে মামলা করেন জাহাজের মালিক মাহাবুব মুর্শেদ।

২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় চাঁদপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা নৌপুলিশের পরিদর্শক মো. কালাম খান আসামির ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালতের বিচারক মুহাম্মদ ফারহান সাদিক সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ২৩ ডিসেম্বর চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার মেঘনা নদীর ইশানবালা মাঝেরচর খালের মুখে নোঙর করে রাখা সারবাহী জাহাজ থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়।

হত্যার শিকার ব্যক্তিরা হলেন-জাহাজের মাস্টার ফরিদপুর সদরের জোয়াইর গ্রামের গোলাম কিবরিয়া (৬৫), তার ভাগনে লস্কর শেখ সবুজ (৩৫), সুকানি নড়াইলের লোহাগড়ার আমিনুল মুন্সী (৪০), লস্কর মাগুরার মহম্মদপুরের মাজেদুল ইসলাম (১৭), একই এলাকার সজিবুল ইসলাম (২৬), ইঞ্জিন চালক নড়াইল লোহাগড়া এলাকার সালাউদ্দিন মোল্লা (৪০) এবং মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থানার বাবুর্চি রানা (২০)। এছাড়া আহত সুকানি জুয়েল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগে চিকিৎসাধীন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

জাহাজে ৭ খুনের দায় স্বীকার করে আকাশের স্বীকারোক্তি

আপডেট সময় : ০৮:৪৮:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪

চাঁদপুরের হাইমচর মেঘনা নদীতে সারবাহী জাহাজ এমভি বাখেরায় সাত খুনের ঘটনায় গ্রেফতার আসামি আকাশ মণ্ডল ওরফে ইরফানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাকে সাত দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় চাঁদপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদুল আলমের আদালতে আকাশ মণ্ডলকে হাজির করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় জবানবন্দি শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে আদালত থেকে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় চাঁদপুর কারাগারে পাঠানো হয়।

চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটার (পিপি) কুহিনুর বেগম বলেন, আসামি আকাশকে সাত দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারী কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন। তাকে আদালতে হাজির করার পর বিচারক জবানবন্দি নিয়েছেন। আসামি এই খুনের ঘটনায় নিজের দায় স্বীকার করেছেন। এই মামলায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। আমাদের আইন কর্মকর্তারা সরকারকে সহযোগিতা করছেন এবং সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

আদালতে আসামিপক্ষে কোনো আইনজবী ছিলেন না।

এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর দিনগত রাতে বাগেরহাটের ফকিরহাট এলাকার জগদীশ মণ্ডলের ছেলে আসামি আকাশ মণ্ডল ওরফে ইরফানকে র‌্যাব-৬ এর সহযোগিতায় র‌্যাব-১১ অভিযান চালিয়ে বাগেরহাটের চিতলমারী থেকে গ্রেফতার করে। ওইদিন দুপুরে আসামিকে র‌্যাব-১১ কুমিল্লায় নিয়ে আসে। সেখানে তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান র‌্যাব-১১ এর উপ-অধিনায়ক মেজর সাকিব হোসেন।

গত ২৪ ডিসেম্বর রাতে এমভি আল বাখেরা জাহাজে সাত খুনের ঘটনায় হাইমচর থানায় অজ্ঞাতনামা ডাকাত দলকে আসামি করে মামলা করেন জাহাজের মালিক মাহাবুব মুর্শেদ।

২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় চাঁদপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা নৌপুলিশের পরিদর্শক মো. কালাম খান আসামির ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালতের বিচারক মুহাম্মদ ফারহান সাদিক সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ২৩ ডিসেম্বর চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার মেঘনা নদীর ইশানবালা মাঝেরচর খালের মুখে নোঙর করে রাখা সারবাহী জাহাজ থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়।

হত্যার শিকার ব্যক্তিরা হলেন-জাহাজের মাস্টার ফরিদপুর সদরের জোয়াইর গ্রামের গোলাম কিবরিয়া (৬৫), তার ভাগনে লস্কর শেখ সবুজ (৩৫), সুকানি নড়াইলের লোহাগড়ার আমিনুল মুন্সী (৪০), লস্কর মাগুরার মহম্মদপুরের মাজেদুল ইসলাম (১৭), একই এলাকার সজিবুল ইসলাম (২৬), ইঞ্জিন চালক নড়াইল লোহাগড়া এলাকার সালাউদ্দিন মোল্লা (৪০) এবং মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থানার বাবুর্চি রানা (২০)। এছাড়া আহত সুকানি জুয়েল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগে চিকিৎসাধীন।