ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালিকসহ তিনজনের বিচার হয়নি ৯ বছরেও : কর্মচারীকে হত্যা

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:২৮:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ২৫৪ বার পড়া হয়েছে

নয় বছর আগে মতিঝিল ঘরোয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় একটি মোবাইল চুরি হয়। এ ঘটনার জেরে ২০১৫ সালের ২৭ অক্টোবর রুটি তৈরির হেলপার রিয়াদ হোসেন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তদন্ত শেষে হোটেল মালিক আরিফুর রহমান সোহেলসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

তবে এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি বিচারকার্যক্রম। কবে নাগাদ শেষ হবে সেটা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। যদিও রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যাশা, আদালত খুললে নতুন বছরে এ মামলার বিচারে গতি আসবে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার বিচারব্যবস্থাকে শেষ করে দিয়েছিল।

সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারবঞ্চিত হয়েছে। এখন আদালতে অবকাশকালীন ছুটি চলছে। আদালত খুললে এই হত্যা মামলায় সাক্ষীদের আদালতে হাজির করা হবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

বর্তমানে মামলাটি ঢাকার অতিরিক্ত দায়রা জজ ইব্রাহিম মিয়ার আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সর্বশেষ গত ২ অক্টোবর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ছিল। ওই দিন কোনো সাক্ষী হাজির না হওয়ায় আগামী ১৫ জানুয়ারি নতুন দিন ধার্য করেন আদালত।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে মতিঝিল ঘরোয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় একটি মোবাইল চুুরির ঘটনায় রুটি তৈরির হেলপার রিয়াদ হোসেনকে সন্দেহ করে মালিক আরিফ হোসেন সোহেলের নির্দেশে বেঁধে রাখা হয়। অন্য হোটেলে কর্মরত রিয়াদের ভাই রিপন হোসেন ভাইয়ের সন্ধানে এসে জানতে পারেন, মালিক এ ঘটনার বিচার করবেন।

পরে মালিকের জন্য তিনি হোটেলটির সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে হোটেলের মালিক গ্রিল কারিগর জসিমের সহায়তায় রিয়াদকে স্বামীবাগ এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যান। এরপর খবির মেছিয়ারসহ আরো তিন-চারজনের সহায়তায় রিয়াদকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। রাত ১টার দিকে মুখের ভেতর আরিফ হোসেন সোহেল গুলি করেন। এরপর আসামিরা গুরুতর আহত রিয়াদকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় পরের দিন ২৮ অক্টোবর রিয়াদের ভাই রিপন হোসেন রাজধানীর ওয়ারী থানায় মতিঝিল ঘরোয়া হোটেলের মালিক আরিফ হোসেন সোহেলসহ তিনজনকে আসামি করে একটা হত্যা মামলা করেন।

মামলার অন্য দুই আসামি হলেন- গ্রিলের কারিগর মো. জসিম চৌকিদার ও খবির মেছিয়ার। তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ২২ জুলাই মালিকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ওয়ারী থানা পুলিশের পরিদর্শক আলিম হোসেন শিকদার। সেখানে তিনজনকে আসামি করেন তিনি। ওই বছরের ডিসেম্বরের ১ তারিখে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।পুলিশ কেন সাক্ষী হাজির করতে পারছেন না জানতে চাইলে ডিএমপির (প্রসিকিউশন বিভাগ) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মাইনুদ্দিন আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে সাক্ষী হাজিরের দায়িত্বে থাকা মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলেন। পরে পুলিশের উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পরবর্তী তারিখে সাক্ষীদের হাজির করা হবে। সাক্ষী হাজিরের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কোর্টের। এত দিন তারা কেন করেননি। বিষয়টি আমার জানা নেই।

এ মামলার বিচারের বিষয়ে জানতে বাদী রিপন হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজের মামলায় নিজেই লড়তে চান শামসুল হক টুকু

মালিকসহ তিনজনের বিচার হয়নি ৯ বছরেও : কর্মচারীকে হত্যা

আপডেট সময় : ০৪:২৮:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪

নয় বছর আগে মতিঝিল ঘরোয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় একটি মোবাইল চুরি হয়। এ ঘটনার জেরে ২০১৫ সালের ২৭ অক্টোবর রুটি তৈরির হেলপার রিয়াদ হোসেন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তদন্ত শেষে হোটেল মালিক আরিফুর রহমান সোহেলসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

তবে এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি বিচারকার্যক্রম। কবে নাগাদ শেষ হবে সেটা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। যদিও রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যাশা, আদালত খুললে নতুন বছরে এ মামলার বিচারে গতি আসবে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার বিচারব্যবস্থাকে শেষ করে দিয়েছিল।

সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারবঞ্চিত হয়েছে। এখন আদালতে অবকাশকালীন ছুটি চলছে। আদালত খুললে এই হত্যা মামলায় সাক্ষীদের আদালতে হাজির করা হবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

বর্তমানে মামলাটি ঢাকার অতিরিক্ত দায়রা জজ ইব্রাহিম মিয়ার আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সর্বশেষ গত ২ অক্টোবর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ছিল। ওই দিন কোনো সাক্ষী হাজির না হওয়ায় আগামী ১৫ জানুয়ারি নতুন দিন ধার্য করেন আদালত।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে মতিঝিল ঘরোয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় একটি মোবাইল চুুরির ঘটনায় রুটি তৈরির হেলপার রিয়াদ হোসেনকে সন্দেহ করে মালিক আরিফ হোসেন সোহেলের নির্দেশে বেঁধে রাখা হয়। অন্য হোটেলে কর্মরত রিয়াদের ভাই রিপন হোসেন ভাইয়ের সন্ধানে এসে জানতে পারেন, মালিক এ ঘটনার বিচার করবেন।

পরে মালিকের জন্য তিনি হোটেলটির সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে হোটেলের মালিক গ্রিল কারিগর জসিমের সহায়তায় রিয়াদকে স্বামীবাগ এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যান। এরপর খবির মেছিয়ারসহ আরো তিন-চারজনের সহায়তায় রিয়াদকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। রাত ১টার দিকে মুখের ভেতর আরিফ হোসেন সোহেল গুলি করেন। এরপর আসামিরা গুরুতর আহত রিয়াদকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় পরের দিন ২৮ অক্টোবর রিয়াদের ভাই রিপন হোসেন রাজধানীর ওয়ারী থানায় মতিঝিল ঘরোয়া হোটেলের মালিক আরিফ হোসেন সোহেলসহ তিনজনকে আসামি করে একটা হত্যা মামলা করেন।

মামলার অন্য দুই আসামি হলেন- গ্রিলের কারিগর মো. জসিম চৌকিদার ও খবির মেছিয়ার। তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ২২ জুলাই মালিকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ওয়ারী থানা পুলিশের পরিদর্শক আলিম হোসেন শিকদার। সেখানে তিনজনকে আসামি করেন তিনি। ওই বছরের ডিসেম্বরের ১ তারিখে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।পুলিশ কেন সাক্ষী হাজির করতে পারছেন না জানতে চাইলে ডিএমপির (প্রসিকিউশন বিভাগ) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মাইনুদ্দিন আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে সাক্ষী হাজিরের দায়িত্বে থাকা মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলেন। পরে পুলিশের উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পরবর্তী তারিখে সাক্ষীদের হাজির করা হবে। সাক্ষী হাজিরের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কোর্টের। এত দিন তারা কেন করেননি। বিষয়টি আমার জানা নেই।

এ মামলার বিচারের বিষয়ে জানতে বাদী রিপন হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।