উপসহকারী প্রকৌশলী (বি/আর) পদে ১২৮ জন এবং উপসহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) পদে ৬২ জন নিয়োগ দেবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস (এমইএস)। অনলাইনে আবেদন করা যাবে ৮ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত। নিয়োগ পরীক্ষার ধরন, প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ ও প্রস্তুতি নিয়ে লিখেছেন সাজিদ মাহমুদ।
দুই পদের ক্ষেত্রেই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা হয়। আবেদন বাছাই করে যোগ্য প্রার্থীদের প্রথমেই লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। উত্তীর্ণ হলেই জানানো হবে মৌখিক বা ভাইভা পরীক্ষার তারিখ। মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস (এমইএস) ও পিএসসি নন-ক্যাডারসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুতে উপসহকারী প্রকৌশলী নিয়োগের বিগত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেখলেই স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
বিগত প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, লিখিত পরীক্ষা রচনামূলক ও এমসিকিউ পদ্ধতিতে নেওয়া হয়েছে। তবে এমইএস এবার কী ধরনের পরীক্ষা নেবে, তা নির্ভর করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ বিধি ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর।
বিগত প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ
২০২৩ সালের বাংলাদেশ বিদুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস, মেকানিক্যাল বা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং) নিয়োগের পরীক্ষা হয়েছে এক ঘণ্টায়। প্রশ্নপত্র ছিল ১০০ নম্বরের।
এর মধ্যে নন-ডিপার্টমেন্টাল এমসিকিউতে ২৫ নম্বর এবং ডিপার্টমেন্টাল লিখিত রচনামূলক প্রশ্নে ৭৫ নম্বর বরাদ্দ ছিল। লিখিত প্রশ্নে ১০টি প্রশ্নের মধ্যে ৫টি প্রশ্নের নম্বর ৭ করে এবং ৫টি প্রশ্নের নম্বর ছিল ৮ করে। এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি ও পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব ছিল বুয়েটের। এ ছাড়া ডিপিডিসি, পিজিসিবির একই পদের পরীক্ষায় নন-ডিপার্টমেন্টাল ৩০ নম্বর ও ডিপার্টমেন্টাল ৭০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।
ইজিসিবির পরীক্ষাও ছিল ৭০ নম্বরের। এর মধ্যে ২০ নম্বর নন-ডিপার্টমেন্টাল ও ৫০ নম্বর ডিপার্টমেন্টাল বিষয়ের প্রশ্ন। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, বাংলাদেশ রেলওয়েসহ সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উপসহকারী প্রকৌশলী পদের পরীক্ষায়ও নন-ডিপার্টমেন্টাল পরীক্ষায় গড়ে ২৫ থেকে ৩০ নম্বরের বিষয়ভিত্তিক এমসিকিউ প্রশ্ন হয়েছে। বিষয়গুলো হলো বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ক্ষেত্রবিশেষে পদার্থ-রসায়ন ও সাধারণ জ্ঞান। ডিপার্টমেন্টাল প্রশ্নের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সব প্রতিষ্ঠানই রচনামূলক পদ্ধতিতে প্রশ্ন করেছে।
উপসহকারী প্রকৌশলী পদের বিগত পরীক্ষাগুলোতে দেখা গেছে, লিখিত রচনামূলক বা সংক্ষিপ্ত লিখিত পদ্ধতি অথবা এমসিকিউ পদ্ধতি—এই তিন ধরনের পরীক্ষা হয়। পদভিত্তিক লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন আসতে পারে মাধ্যমিক নবম-দশম শ্রেণি এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি ও গণিত পাঠ্য বই থেকে। মাধ্যমিক ও একাদশ শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ অংশ, সাহিত্য, গদ্য ও পদ্য অংশ, ইংরেজি বিষয়ে গ্রামারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং গণিতে পাটিগণিত, বীজগণিত, জ্যামিতি, ত্রিকোণমিতি থেকে প্রশ্ন হতে পারে। সাধারণ জ্ঞান অংশে সমসাময়িক বিষয়, চলতি ঘটনা, দৈনন্দিন বিজ্ঞান, ইতিহাস, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। ডিপ্লোমা পর্যায়ের বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু থেকেই মূলত লিখিত রচনামূলক প্রশ্ন করা হয়। তাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে ডিপ্লোমা ও পদসংশ্লিষ্ট বিষয়ে। উপসহকারী প্রকৌশলী পদের বিগত নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেখলে প্রশ্নের মান ও পরীক্ষার বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া বাজারে উপসহকারী প্রকৌশলী নিয়োগের প্রস্তুতিমূলক বেশ কিছু সহায়ক বই পাওয়া যায়।
সুযোগ যাঁদের
উপসহকারী প্রকৌশলী (বি/আর) পদে আবেদনের শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে চার বছর মেয়াদি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি। একই গ্রেডভুক্ত উপসহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) পদে আবেদন করতে হলে চার বছর মেয়াদি ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস, মেকানিক্যাল বা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা থাকতে হবে।
১৭ নভেম্বর ২০২৪ তারিখ অনুযায়ী প্রার্থীর বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩০ বছর। তবে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা সন্তান ও প্রতিবন্ধী কোটার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩২ বছর। প্রার্থী নিয়োগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কোটা বিষয়ের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুসারে কোটা নির্ধারণ করা হবে।
বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা
দুই পদেই নিয়োগ দেওয়া হবে রাজম্ব খাতে। নিয়োগপ্রাপ্তরা জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী দশম গ্রেডে ১৬,০০০-৩৮,৬৪০ টাকা মাসিক বেতন ও অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
আবেদন যেভাবে
অনলাইনে (http://mes.teletalk.com.bd) আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে ১৭ নভেম্বর ২০২৪ তারিখ থেকে। আবেদনের শেষ তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০২৪। অনলাইনে আবেদনের সময় প্রার্থীর নির্ধারিত সাইজের ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করতে হবে। আবেদনের সময় ইউজার আইডি পাবেন প্রার্থীরা। আবেদন জমা দেওয়ার সময় থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি জমা দিতে হবে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ও পরীক্ষার দরকারি তথ্য জানা যাবে এমইএস (www.mes.portal.gov.bd) ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (www.mod.gov.bd) ওয়েবসাইটে।