ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্দোলনে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও আহতদের সুচিকিৎসার দাবিতে লক্ষ্মীপুরে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ

লক্ষ্মীপুরে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের হত্যাকারী এবং মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে লক্ষ্মীপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে আন্দোলনকারীরা। এসময় স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা এবং নিহতদের পরিবারকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে আন্দোলনকারীরা সড়কে অবস্থান নেয়। দুপুর ২ টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখে তারা। এতে প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা লক্ষ্মীপুর-ঢাকা মহাসড়ক ও রামগতি আঞ্চলিক সড়কের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ভোগান্তিতে যাত্রীরা। দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে সড়ক থেকে সরে যায় আন্দলোনকারীরা।
এরআগে দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক প্রিয়াংকা দত্ত ও সহকারী পুলিশ সুপার (সদর-সার্কেল) সোহেল রানা আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলতে গেলে তোপের মূখে পড়েন। তারা জেলা প্রশাসক ছাড়া অন্যকারো সাথে কথা বলবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। দুপুর ২ টার দিকে জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলে দাবি পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে আন্দোলনকারীরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আন্দোলনকারী ও স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে আহত রেদোয়ান হোসেন, আরিফ হোসেন ও সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা যারা আহত হয়েছি, তারা শারিরীক যন্ত্রণায় নিয়ে রাতে ঘুমাতে পারি না। অর্থের অভাবে অনেকে সুচিকিৎসা করতে পারে না। কিন্তু প্রশাসন আমাদের কারো খবর রাখে না। শহীদ পরিবারের সদস্যদের খবর নেয় না। শহীদ পরিবারের সদস্যরা খুনিদের বিরুদ্ধে মামলা করে হুমকির মধ্যেে রয়েছে। তাদেরকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে না। খুনিরা বাহিরে ঘুরতেছে। তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।
তারা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের আগে ছাত্র আন্দোলনে যারা অংশ নিয়েছে, তাদের পুলিশ খুঁজে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু ৫ আগস্টের পর ফ্যাসিস সরকারের দোসর ও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোন ভূমিকা রাখছে না। আগামী তিন দিনের মধ্যে হত্যাকারী এবং তাদের দোসরদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানায় তারা।
আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন। সেগুলো হলো- গুরুতর আহত এবং পঙ্গুত্বরবণকারীদের বিদেশে পাঠিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা। আহতদের স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজ খবর রাখা। আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের মধ্যে যারা সরকারি চাকরিতে রয়েছে, তাদেরকে চাকরিচ্যুত করা। আন্দোলনে ছাত্রদের খুনি ও তাদের দোসরদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা। যারা শহীদ হয়েছে, তাদের পরিবারের সকল প্রকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এগুলো যৌক্তিক দাবি। দাবির সাথে জেলা প্রশাসক সহমত পোষণ করছে। দাবিগুলো স্মারকলিপি আকারে দিলে উধ্বতন মহলে পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, আন্দোলনে আহত এবং নিহতদের তালিকা তৈরী করা হচ্ছে। আগামী ২/১ দিনের মধ্যে তালিকা সম্পূর্ণ হবে। তালিকা মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আহতদের সুচিকিৎসা এবং যাদের বিদেশে পাঠানোর প্রয়োজন- তাদের পাঠানোর জন্য সরকারের উধ্বতন মহলে জানানো হবে। স্থানীয়ভাবে যাদেরকে আমাদের পক্ষ থেকে সহায়তা করা সম্ভব, তাদেরকে আমরা সহায়তা করবো।
তিনি বলেন, হতাহতের ঘটনার জন্য যারা দায়ি, তাদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে। কোন আসামির বিষয়ে যদি কারো কাছে তথ্য থাকে, তাহলে প্রশাসন এবং নিকটস্থ থানায় গোপনে তথ্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। তাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। ইতোমধ্যে ৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শহীদ পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের সাথে কথা বলবো। নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে জেলা সিভিল সার্জন আহমেদ কবির বলেন, আন্দোলনে ১৬ জন শহীদের তালিকা পাঠিয়েছি। আহত ২৯১ জনের তালিকা তৈরী করা হয়েছে। তালিকার কাজ চলমান রয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (সদর-সার্কেল) সোহেল রানা আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। স্পেশাল একটি টিমও গঠন করা হয়েছে। আসামিদের লোকেশন চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এছাড়া কারা কারা দেশের বাহিরে পালিয়ে গেছে, তাদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহে দেশের ইমিগ্রেশনগুলোতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অচিরেই আমরা একটি পজিটিভ রেজাল্ট দিতে পরবো।
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট লক্ষ্মীপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার উপর গুলিবর্ষণ করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে আন্দোলনরত চারজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। আহত হয় দুই শতাধিক। জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি একেএম সালাহ উদ্দিন টিপুর নেতৃত্বে এ হমলা চালানো হয়। এ ঘটনায় টিপুকে প্রধান করে একাধিক হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। ফলে ক্ষোভ বিরাজ করছে আহত এবং নিহতদের পরিবার সহ বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকারীদের মাঝে।
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজের মামলায় নিজেই লড়তে চান শামসুল হক টুকু

আন্দোলনে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও আহতদের সুচিকিৎসার দাবিতে লক্ষ্মীপুরে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৮:১৬:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০২৪
লক্ষ্মীপুরে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের হত্যাকারী এবং মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে লক্ষ্মীপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে আন্দোলনকারীরা। এসময় স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা এবং নিহতদের পরিবারকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে আন্দোলনকারীরা সড়কে অবস্থান নেয়। দুপুর ২ টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখে তারা। এতে প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা লক্ষ্মীপুর-ঢাকা মহাসড়ক ও রামগতি আঞ্চলিক সড়কের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ভোগান্তিতে যাত্রীরা। দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে সড়ক থেকে সরে যায় আন্দলোনকারীরা।
এরআগে দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক প্রিয়াংকা দত্ত ও সহকারী পুলিশ সুপার (সদর-সার্কেল) সোহেল রানা আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলতে গেলে তোপের মূখে পড়েন। তারা জেলা প্রশাসক ছাড়া অন্যকারো সাথে কথা বলবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। দুপুর ২ টার দিকে জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলে দাবি পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে আন্দোলনকারীরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আন্দোলনকারী ও স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে আহত রেদোয়ান হোসেন, আরিফ হোসেন ও সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা যারা আহত হয়েছি, তারা শারিরীক যন্ত্রণায় নিয়ে রাতে ঘুমাতে পারি না। অর্থের অভাবে অনেকে সুচিকিৎসা করতে পারে না। কিন্তু প্রশাসন আমাদের কারো খবর রাখে না। শহীদ পরিবারের সদস্যদের খবর নেয় না। শহীদ পরিবারের সদস্যরা খুনিদের বিরুদ্ধে মামলা করে হুমকির মধ্যেে রয়েছে। তাদেরকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে না। খুনিরা বাহিরে ঘুরতেছে। তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।
তারা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের আগে ছাত্র আন্দোলনে যারা অংশ নিয়েছে, তাদের পুলিশ খুঁজে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু ৫ আগস্টের পর ফ্যাসিস সরকারের দোসর ও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোন ভূমিকা রাখছে না। আগামী তিন দিনের মধ্যে হত্যাকারী এবং তাদের দোসরদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানায় তারা।
আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন। সেগুলো হলো- গুরুতর আহত এবং পঙ্গুত্বরবণকারীদের বিদেশে পাঠিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা। আহতদের স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজ খবর রাখা। আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের মধ্যে যারা সরকারি চাকরিতে রয়েছে, তাদেরকে চাকরিচ্যুত করা। আন্দোলনে ছাত্রদের খুনি ও তাদের দোসরদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা। যারা শহীদ হয়েছে, তাদের পরিবারের সকল প্রকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এগুলো যৌক্তিক দাবি। দাবির সাথে জেলা প্রশাসক সহমত পোষণ করছে। দাবিগুলো স্মারকলিপি আকারে দিলে উধ্বতন মহলে পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, আন্দোলনে আহত এবং নিহতদের তালিকা তৈরী করা হচ্ছে। আগামী ২/১ দিনের মধ্যে তালিকা সম্পূর্ণ হবে। তালিকা মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আহতদের সুচিকিৎসা এবং যাদের বিদেশে পাঠানোর প্রয়োজন- তাদের পাঠানোর জন্য সরকারের উধ্বতন মহলে জানানো হবে। স্থানীয়ভাবে যাদেরকে আমাদের পক্ষ থেকে সহায়তা করা সম্ভব, তাদেরকে আমরা সহায়তা করবো।
তিনি বলেন, হতাহতের ঘটনার জন্য যারা দায়ি, তাদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে। কোন আসামির বিষয়ে যদি কারো কাছে তথ্য থাকে, তাহলে প্রশাসন এবং নিকটস্থ থানায় গোপনে তথ্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। তাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। ইতোমধ্যে ৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শহীদ পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের সাথে কথা বলবো। নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে জেলা সিভিল সার্জন আহমেদ কবির বলেন, আন্দোলনে ১৬ জন শহীদের তালিকা পাঠিয়েছি। আহত ২৯১ জনের তালিকা তৈরী করা হয়েছে। তালিকার কাজ চলমান রয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (সদর-সার্কেল) সোহেল রানা আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। স্পেশাল একটি টিমও গঠন করা হয়েছে। আসামিদের লোকেশন চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এছাড়া কারা কারা দেশের বাহিরে পালিয়ে গেছে, তাদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহে দেশের ইমিগ্রেশনগুলোতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অচিরেই আমরা একটি পজিটিভ রেজাল্ট দিতে পরবো।
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট লক্ষ্মীপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার উপর গুলিবর্ষণ করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে আন্দোলনরত চারজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। আহত হয় দুই শতাধিক। জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি একেএম সালাহ উদ্দিন টিপুর নেতৃত্বে এ হমলা চালানো হয়। এ ঘটনায় টিপুকে প্রধান করে একাধিক হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। ফলে ক্ষোভ বিরাজ করছে আহত এবং নিহতদের পরিবার সহ বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকারীদের মাঝে।