ঢাকা ০৫:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
৫০ বছর পর পাকিস্তান থেকে স্বজনদের কাছে ফিরলেন পরী সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় আ.লীগের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ নেই: তথ্য উপদেষ্টা অবিলম্বে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু করতে হবে: নাহিদ ইসলাম হুথি কারা? কেন তারা সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে? নিজের বাড়ির জানালা সংস্কারে এভাবে অবহেলা করতেন? হামলার ভয়ে এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সৌদি যুবরাজ ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে: তথ্য উপদেষ্টা জন্মদিনে গাড়ি উপহার দেন মা, সেই গাড়ি দিয়ে সড়কে ৩ জনের প্রাণ নিলেন ছেলে ইন্ডিয়া জোটের পদযাত্রায় দিল্লির রাজপথে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী বাংকারযুক্ত প্রাসাদে অবস্থান বদল সৌদি যুবরাজের!

স্বামী-স্ত্রী একে অপর থেকে কতদিন দূরে থাকতে পারবে?

  • Tareq Jamil
  • আপডেট সময় : ০৪:০২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৫৪ বার পড়া হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র কুরআনে দাম্পত্য জীবনকে মহান আল্লাহর এক বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই একজন মুমিনের উচিত দাম্পত্য জীবনের প্রতিটি বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ও যত্নবান হওয়া। স্বামী ও স্ত্রী উভয়েরই একে অপরের ওপর অধিকার রয়েছে, যা পালনের মাধ্যমে একটি সুখ ও শান্তির পরিবার গড়ে ওঠে। বিদায় হজের ভাষণে প্রিয়নবী রাসুলুল্লাহ (স.) এই পারস্পরিক অধিকারের কথা ঘোষণা করে ইরশাদ করেছেন—

أَلَا إِنَّ لَكُمْ عَلَى نِسَائِكُمْ حَقًّا، وَلِنِسَائِكُمْ عَلَيْكُمْ حَقًّا

‘জেনে রাখবে, নিশ্চয়ই তোমাদের নারীদের ওপর তোমাদের অধিকার রয়েছে, আর তোমাদের ওপরও তোমাদের নারীদের অধিকার রয়েছে।’ (তিরমিজি ১১৬৩, ইবনে মাজাহ ১৮৫১)

পুরুষদের উদ্দেশে অন্য একটি হাদিসে প্রিয়নবী (স.) তাদের কল্যাণকামী হওয়ার তাগিদ দিয়ে বলেছেন—

اسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا

‘সাবধান, তোমরা নারীদের কল্যাণকামী হও।’ (তিরমিজি ৩০৮৭)

স্বামী-স্ত্রী কাছাকাছি থাকার বিধান

স্বামী-স্ত্রী একে অপরের কাছাকাছি থাকবে এবং সুখে-দুঃখে একসঙ্গে বসবাস করবে— এটাই শরিয়তের মূল কাম্য। তবে বিশেষ প্রয়োজনে বা জীবিকার তাগিদে স্বামী দূরে কোথাও গেলে, ইসলামে তার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত কোনো জরুরি কারণ ছাড়া চার মাসের বেশি সময় স্ত্রীর কাছ থেকে স্বামীর দূরে থাকা শরিয়ত সমর্থন করে না।

ইতিহাসের এক চমৎকার ঘটনায় এর সত্যতা পাওয়া যায়। এক রাতে খলিফা হজরত ওমর (রা.) প্রহরীর বেশে জনগণের খোঁজখবর নেওয়ার সময় এক ঘর থেকে এক নারীর কণ্ঠে এই মর্মে কবিতা আবৃত্তি শুনতে পান যে, দীর্ঘকাল ধরে তার স্বামী দূরে থাকায় তিনি তার নৈকট্য থেকে বঞ্চিত এবং আল্লাহর ভয় না থাকলে এই খাটের চারপাশ নড়ে উঠত (বিরহের তীব্রতায়)।

 

পরের দিন ভোরে সেই মহিলাকে ডেকে পাঠানোর পর তিনি খলিফাকে জানান যে তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে জিহাদের ময়দানে রয়েছেন। তখন হজরত ওমর (রা.) তার কন্যা উম্মুল মুমিনিন হজরত হাফসা (রা.)-এর কাছে গিয়ে জানতে চান, নারীরা তাদের স্বামী থেকে কতদিন পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করতে পারে? জবাবে হজরত হাফসা (রা.) বলেন, ‘মেয়েরা তাদের স্বামী থেকে চার মাস পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করতে পারে।’ এরপর থেকেই হজরত ওমর (রা.) নিয়ম করেন যে, প্রতি চার মাস পরপর মুজাহিদ বাহিনীকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফেরত নিয়ে নতুন বাহিনী পাঠিয়ে দেওয়া হবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাজজাক ১২৫৯৪)

দূরে থাকার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ও বিধান

  • অনুমতি ও আত্মসংযম: কোনো বিশেষ প্রয়োজনে স্বামী যদি চার মাসের বেশি সময় দূরে থাকতে চান, তবে অবশ্যই স্ত্রীর কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় অনুমতি দেন এবং এই দীর্ঘ সময়ে স্বামী বা স্ত্রী উভয়েই নিজেদের পবিত্রতা ও চরিত্র রক্ষা করতে পারবেন বলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হন, তবে তা জায়েজ হতে পারে।
  • গুনাহের আশঙ্কা: যদি দূরে থাকার কারণে স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে কোনো ধরনের গুনাহে জড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দেয়, তবে চার মাসের কম সময়ও দূরে থাকা জায়েজ হবে না। (নাসাঈ ৩৪০৫, ফতোয়ায়ে শামি ৪/৩৭৯, ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া ২৯/৪৮, আহসানুল ফতোয়া ১/৪০০)

দাম্পত্য সম্পর্ক কেবল জাগতিক কোনো বন্ধন নয়, এটি ইবাদতের পরিপূরক এক পবিত্র সম্পর্ক। তাই স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার রক্ষা, একে অপরের মনস্তাত্ত্বিক চাহিদার মূল্যায়ন এবং শরিয়তের বিধানগুলো যথাযথভাবে মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শরিয়তের প্রতিটি নির্দেশনা সঠিকভাবে পালন করে একটি শান্তিময় ও বরকতময় দাম্পত্য জীবন গড়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।

 

ইসলাম   দাম্পত্য   জীবন   হাদিস

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫০ বছর পর পাকিস্তান থেকে স্বজনদের কাছে ফিরলেন পরী

স্বামী-স্ত্রী একে অপর থেকে কতদিন দূরে থাকতে পারবে?

আপডেট সময় : ০৪:০২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পবিত্র কুরআনে দাম্পত্য জীবনকে মহান আল্লাহর এক বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই একজন মুমিনের উচিত দাম্পত্য জীবনের প্রতিটি বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ও যত্নবান হওয়া। স্বামী ও স্ত্রী উভয়েরই একে অপরের ওপর অধিকার রয়েছে, যা পালনের মাধ্যমে একটি সুখ ও শান্তির পরিবার গড়ে ওঠে। বিদায় হজের ভাষণে প্রিয়নবী রাসুলুল্লাহ (স.) এই পারস্পরিক অধিকারের কথা ঘোষণা করে ইরশাদ করেছেন—

أَلَا إِنَّ لَكُمْ عَلَى نِسَائِكُمْ حَقًّا، وَلِنِسَائِكُمْ عَلَيْكُمْ حَقًّا

‘জেনে রাখবে, নিশ্চয়ই তোমাদের নারীদের ওপর তোমাদের অধিকার রয়েছে, আর তোমাদের ওপরও তোমাদের নারীদের অধিকার রয়েছে।’ (তিরমিজি ১১৬৩, ইবনে মাজাহ ১৮৫১)

পুরুষদের উদ্দেশে অন্য একটি হাদিসে প্রিয়নবী (স.) তাদের কল্যাণকামী হওয়ার তাগিদ দিয়ে বলেছেন—

اسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا

‘সাবধান, তোমরা নারীদের কল্যাণকামী হও।’ (তিরমিজি ৩০৮৭)

স্বামী-স্ত্রী কাছাকাছি থাকার বিধান

স্বামী-স্ত্রী একে অপরের কাছাকাছি থাকবে এবং সুখে-দুঃখে একসঙ্গে বসবাস করবে— এটাই শরিয়তের মূল কাম্য। তবে বিশেষ প্রয়োজনে বা জীবিকার তাগিদে স্বামী দূরে কোথাও গেলে, ইসলামে তার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত কোনো জরুরি কারণ ছাড়া চার মাসের বেশি সময় স্ত্রীর কাছ থেকে স্বামীর দূরে থাকা শরিয়ত সমর্থন করে না।

ইতিহাসের এক চমৎকার ঘটনায় এর সত্যতা পাওয়া যায়। এক রাতে খলিফা হজরত ওমর (রা.) প্রহরীর বেশে জনগণের খোঁজখবর নেওয়ার সময় এক ঘর থেকে এক নারীর কণ্ঠে এই মর্মে কবিতা আবৃত্তি শুনতে পান যে, দীর্ঘকাল ধরে তার স্বামী দূরে থাকায় তিনি তার নৈকট্য থেকে বঞ্চিত এবং আল্লাহর ভয় না থাকলে এই খাটের চারপাশ নড়ে উঠত (বিরহের তীব্রতায়)।

 

পরের দিন ভোরে সেই মহিলাকে ডেকে পাঠানোর পর তিনি খলিফাকে জানান যে তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে জিহাদের ময়দানে রয়েছেন। তখন হজরত ওমর (রা.) তার কন্যা উম্মুল মুমিনিন হজরত হাফসা (রা.)-এর কাছে গিয়ে জানতে চান, নারীরা তাদের স্বামী থেকে কতদিন পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করতে পারে? জবাবে হজরত হাফসা (রা.) বলেন, ‘মেয়েরা তাদের স্বামী থেকে চার মাস পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করতে পারে।’ এরপর থেকেই হজরত ওমর (রা.) নিয়ম করেন যে, প্রতি চার মাস পরপর মুজাহিদ বাহিনীকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফেরত নিয়ে নতুন বাহিনী পাঠিয়ে দেওয়া হবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাজজাক ১২৫৯৪)

দূরে থাকার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ও বিধান

  • অনুমতি ও আত্মসংযম: কোনো বিশেষ প্রয়োজনে স্বামী যদি চার মাসের বেশি সময় দূরে থাকতে চান, তবে অবশ্যই স্ত্রীর কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় অনুমতি দেন এবং এই দীর্ঘ সময়ে স্বামী বা স্ত্রী উভয়েই নিজেদের পবিত্রতা ও চরিত্র রক্ষা করতে পারবেন বলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হন, তবে তা জায়েজ হতে পারে।
  • গুনাহের আশঙ্কা: যদি দূরে থাকার কারণে স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে কোনো ধরনের গুনাহে জড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দেয়, তবে চার মাসের কম সময়ও দূরে থাকা জায়েজ হবে না। (নাসাঈ ৩৪০৫, ফতোয়ায়ে শামি ৪/৩৭৯, ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া ২৯/৪৮, আহসানুল ফতোয়া ১/৪০০)

দাম্পত্য সম্পর্ক কেবল জাগতিক কোনো বন্ধন নয়, এটি ইবাদতের পরিপূরক এক পবিত্র সম্পর্ক। তাই স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার রক্ষা, একে অপরের মনস্তাত্ত্বিক চাহিদার মূল্যায়ন এবং শরিয়তের বিধানগুলো যথাযথভাবে মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শরিয়তের প্রতিটি নির্দেশনা সঠিকভাবে পালন করে একটি শান্তিময় ও বরকতময় দাম্পত্য জীবন গড়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।

 

ইসলাম   দাম্পত্য   জীবন   হাদিস