ঢাকা ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
৫০ বছর পর পাকিস্তান থেকে স্বজনদের কাছে ফিরলেন পরী সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় আ.লীগের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ নেই: তথ্য উপদেষ্টা অবিলম্বে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু করতে হবে: নাহিদ ইসলাম হুথি কারা? কেন তারা সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে? নিজের বাড়ির জানালা সংস্কারে এভাবে অবহেলা করতেন? হামলার ভয়ে এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সৌদি যুবরাজ ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে: তথ্য উপদেষ্টা জন্মদিনে গাড়ি উপহার দেন মা, সেই গাড়ি দিয়ে সড়কে ৩ জনের প্রাণ নিলেন ছেলে ইন্ডিয়া জোটের পদযাত্রায় দিল্লির রাজপথে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী বাংকারযুক্ত প্রাসাদে অবস্থান বদল সৌদি যুবরাজের!

শিশুর ঠান্ডা লাগার আশঙ্কায় মা কি তায়াম্মুম করতে পারবেন?

  • Tareq Jamil
  • আপডেট সময় : ০৩:৩২:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৪৯ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

ইসলামে মানুষের জন্য পবিত্রতা অর্জনের বিধান সহজ ও বাস্তবসম্মত করা হয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে অজু বা গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করার সুযোগও এ বিধানেরই অংশ। পানি না পাওয়া কিংবা পানি ব্যবহারে শরিয়তসম্মত কোনো অসুবিধা থাকলে তায়াম্মুমের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা যায়।

হাদিসে তায়াম্মুমকে উম্মতে মুহাম্মাদির বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আগের নবীদের উম্মতদের তুলনায় এই উম্মতকে তিনটি বিষয়ে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে—তাদের কাতারকে ফেরেশতাদের কাতারের মতো করা হয়েছে, পুরো পৃথিবীকে তাদের জন্য মসজিদ বানানো হয়েছে এবং পানি না পাওয়া গেলে মাটিকে পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে।

(সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০৯)

পবিত্র কুরআনেও তায়াম্মুমের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর যদি তোমরা অসুস্থ হও বা সফরে থাক বা তোমাদের কেউ মলত্যাগ করে আসে অথবা তোমরা স্ত্রী সহবাস কর এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে।’

(সুরা মায়েদা, আয়াত: ৬)

শিশুর ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা থাকলে কী করবেন?

তায়াম্মুম বৈধ হওয়ার জন্য কুরআন-হাদিসে নির্ধারিত কিছু শর্ত রয়েছে। এর অন্যতম হলো পানি ব্যবহার করতে অপারগ হওয়া বা পানি ব্যবহারের কারণে বাস্তব ক্ষতির আশঙ্কা থাকা।

এখন প্রশ্ন হলো, শীতকালে কোনো মা যদি সহবাস বা অন্য কোনো কারণে অপবিত্র হন এবং পানি দিয়ে গোসল করলে তার নবজাতক কিংবা অন্য বয়সি শিশুর ঠান্ডা লাগা বা ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তাহলে তিনি কি গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করতে পারবেন?

ফিকহবিদদের মতামত অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে প্রথমে গরম পানি দিয়ে গোসল করে পবিত্রতা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। অর্থাৎ শুধু ঠান্ডা পানির কারণে তায়াম্মুমের সুযোগ তৈরি হবে না, যদি পানি গরম করে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকে।

তবে যদি গরম পানির ব্যবস্থা না থাকে এবং মায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা কিংবা কোনো অভিজ্ঞ মুসলিম চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গোসল করালে শিশুর গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা থাকে এবং সেই আশঙ্কা দূর করার অন্য কোনো উপায়ও না থাকে, তাহলে মা গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করতে পারবেন। এর মাধ্যমে তিনি শরিয়তসম্মতভাবে পবিত্রতা অর্জন করে নামাজসহ সংশ্লিষ্ট ইবাদত আদায় করতে পারবেন।

অন্যদিকে, যদি এ ধরনের বাস্তব ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে কিংবা গরম পানি ব্যবহার করে নিরাপদে গোসল করা সম্ভব হয়, তাহলে পানি ব্যবহার করেই গোসল করতে হবে। একইভাবে শুধু অজুর প্রয়োজন হলে সরাসরি অজু করতে হবে।

(ফতোয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৭৯)

সুতরাং শিশুর ঠান্ডা লাগার আশঙ্কাকে তায়াম্মুমের কারণ হিসেবে গ্রহণ করার আগে পরিস্থিতির বাস্তবতা বিবেচনা করা জরুরি। গরম পানির ব্যবস্থা থাকলে তা ব্যবহার করাই মূল বিধান; আর পানি ব্যবহারে শিশুর বাস্তব ক্ষতির আশঙ্কা থেকে গেলে এবং তা এড়ানোর অন্য কোনো উপায় না থাকলে তায়াম্মুমের সুযোগ রয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫০ বছর পর পাকিস্তান থেকে স্বজনদের কাছে ফিরলেন পরী

শিশুর ঠান্ডা লাগার আশঙ্কায় মা কি তায়াম্মুম করতে পারবেন?

আপডেট সময় : ০৩:৩২:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

ইসলামে মানুষের জন্য পবিত্রতা অর্জনের বিধান সহজ ও বাস্তবসম্মত করা হয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে অজু বা গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করার সুযোগও এ বিধানেরই অংশ। পানি না পাওয়া কিংবা পানি ব্যবহারে শরিয়তসম্মত কোনো অসুবিধা থাকলে তায়াম্মুমের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা যায়।

হাদিসে তায়াম্মুমকে উম্মতে মুহাম্মাদির বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আগের নবীদের উম্মতদের তুলনায় এই উম্মতকে তিনটি বিষয়ে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে—তাদের কাতারকে ফেরেশতাদের কাতারের মতো করা হয়েছে, পুরো পৃথিবীকে তাদের জন্য মসজিদ বানানো হয়েছে এবং পানি না পাওয়া গেলে মাটিকে পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে।

(সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০৯)

পবিত্র কুরআনেও তায়াম্মুমের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর যদি তোমরা অসুস্থ হও বা সফরে থাক বা তোমাদের কেউ মলত্যাগ করে আসে অথবা তোমরা স্ত্রী সহবাস কর এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে।’

(সুরা মায়েদা, আয়াত: ৬)

শিশুর ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা থাকলে কী করবেন?

তায়াম্মুম বৈধ হওয়ার জন্য কুরআন-হাদিসে নির্ধারিত কিছু শর্ত রয়েছে। এর অন্যতম হলো পানি ব্যবহার করতে অপারগ হওয়া বা পানি ব্যবহারের কারণে বাস্তব ক্ষতির আশঙ্কা থাকা।

এখন প্রশ্ন হলো, শীতকালে কোনো মা যদি সহবাস বা অন্য কোনো কারণে অপবিত্র হন এবং পানি দিয়ে গোসল করলে তার নবজাতক কিংবা অন্য বয়সি শিশুর ঠান্ডা লাগা বা ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তাহলে তিনি কি গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করতে পারবেন?

ফিকহবিদদের মতামত অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে প্রথমে গরম পানি দিয়ে গোসল করে পবিত্রতা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। অর্থাৎ শুধু ঠান্ডা পানির কারণে তায়াম্মুমের সুযোগ তৈরি হবে না, যদি পানি গরম করে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকে।

তবে যদি গরম পানির ব্যবস্থা না থাকে এবং মায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা কিংবা কোনো অভিজ্ঞ মুসলিম চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গোসল করালে শিশুর গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা থাকে এবং সেই আশঙ্কা দূর করার অন্য কোনো উপায়ও না থাকে, তাহলে মা গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করতে পারবেন। এর মাধ্যমে তিনি শরিয়তসম্মতভাবে পবিত্রতা অর্জন করে নামাজসহ সংশ্লিষ্ট ইবাদত আদায় করতে পারবেন।

অন্যদিকে, যদি এ ধরনের বাস্তব ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে কিংবা গরম পানি ব্যবহার করে নিরাপদে গোসল করা সম্ভব হয়, তাহলে পানি ব্যবহার করেই গোসল করতে হবে। একইভাবে শুধু অজুর প্রয়োজন হলে সরাসরি অজু করতে হবে।

(ফতোয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৭৯)

সুতরাং শিশুর ঠান্ডা লাগার আশঙ্কাকে তায়াম্মুমের কারণ হিসেবে গ্রহণ করার আগে পরিস্থিতির বাস্তবতা বিবেচনা করা জরুরি। গরম পানির ব্যবস্থা থাকলে তা ব্যবহার করাই মূল বিধান; আর পানি ব্যবহারে শিশুর বাস্তব ক্ষতির আশঙ্কা থেকে গেলে এবং তা এড়ানোর অন্য কোনো উপায় না থাকলে তায়াম্মুমের সুযোগ রয়েছে।