ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

পেপ্যাল বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা কতটুকু, সমস্যা কোথায়?

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:২৯:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৫১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে পেপ্যাল সরাসরি চালু হওয়ার সম্ভাবনা বহু বছর ধরেই আলোচনা হচ্ছে, কিন্তু এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে আসেনি। সম্ভাবনা একেবারে নেই— এমন না, তবে কিছু কাঠামোগত বাধা এখনো রয়ে গেছে।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে আজ থেকে প্রায় ১৮ বছর যাবৎ তিনটি সরকার এসেছে এবং এই তিনটি সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মহোদয়গণ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এমনকি সংসদে আন্তর্জাতিক PayPal বাংলাদেশে আসছে এই হাইপ তুলেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আমরা এই ১৮ বছরের মধ্যে কোনো সময়ই লক্ষ্য করিনি যে এই প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা বাংলাদেশে এসেছেন। লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংক অথবা বিটিআরসি কিম্বা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এমন নজিরও নেই।

তাই প্রশ্ন থেকে যায়, এসব কি শুধুই রাজনৈতিক বুলি? তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এই প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে আনা এবং কার্যক্রম শুরু করার সকল বন্দোবস্ত করে ফেলা উচিত। এখানে কিছু বিষয় বলে রাখা ভালো যে, এক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা কতটুকু, সম্ভাবনা কী এবং সমাধান কী?

সম্ভাবনা কতটুকু?

মাঝারি (Medium) বলা যায়। বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং ও রেমিট্যান্স বাজার বড় হওয়ায় PayPal-এর আগ্রহ আছে; সরকারও ডিজিটাল পেমেন্ট বাড়াতে আগ্রহী।

তবে নিকট ভবিষ্যতে (১–২ বছর) ফুল সার্ভিস চালু হওয়ার সম্ভাবনা কম, আংশিক সেবা (যেমন: PayPal/Xoom) আসার সম্ভাবনা বেশি।

প্রধান সমস্যাগুলো কোথায়?

১. বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ (Forex Control):

বাংলাদেশে বাংলাদেশ ব্যাংক খুব কঠোরভাবে ডলার লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করে। পেপ্যাল হলে ইউজাররা সহজে ডলার রাখতে/পাঠাতে পারবে। এতে মানি ফ্লো মনিটর করা কঠিন হতে পারে, এটি সবচেয়ে বড় বাধা।

২. KYC ও AML (মানি লন্ডারিং ঝুঁকি):

PayPal-এর গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড খুব কঠিন। বাংলাদেশের অনেক ব্যবহারকারীর ডকুমেন্টেশন ও ভেরিফিকেশন সিস্টেম এখনো পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ না।

৩. পেমেন্ট গেটওয়ে ও ব্যাংকিং ইন্টিগ্রেশন:

লোকাল ব্যাংকগুলোর সাথে গভীর ইন্টিগ্রেশন দরকার। অনেক ব্যাংকের API, রিয়েল-টাইম সেটেলমেন্ট এখনো উন্নত নয়।

৪. রেগুলেটরি অনুমোদন ও নীতিমালা:

PayPal চাইলে সরাসরি অপারেট করতে পারে না। Bangladesh Telecommunication Regulatory Commission ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ একাধিক সংস্থার অনুমোদন লাগে।

৫. ট্যাক্স ও কমপ্লায়েন্স ইস্যু:

আন্তর্জাতিক লেনদেনে ট্যাক্স ট্র্যাকিং জটিল। সরকার রাজস্ব হারানোর ঝুঁকি দেখে।

বাস্তবতা: এখন কী হচ্ছে?

বাংলাদেশে সরাসরি PayPal না থাকলেও Payoneer, Wise এগুলো ব্যবহার করে ফ্রিল্যান্সাররা কাজ চালাচ্ছে। আগে PayPal-এর Xoom সার্ভিস আনার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু সেটাও পূর্ণাঙ্গভাবে জনপ্রিয় হয়নি।

ভবিষ্যতে আসতে হলে কী দরকার?

  • বৈদেশিক মুদ্রা নীতিতে কিছুটা উদারতা।
  • ডিজিটাল KYC উন্নত করা।
  • ব্যাংকিং API ও পেমেন্ট অবকাঠামো আধুনিক করা
  • সরকার ও PayPal-এর মধ্যে নীতিগত সমঝোতা।

সংক্ষেপে যদি বলি PayPal আসবে— সম্ভাবনা আছে; কিন্তু এখনই না।

প্রধান বাধা: Forex control + regulatory environment

সরকার যদি পলিসি দ্রুত তৈরি না করে; যা হবে বিনিয়োগবান্ধব তাহলে কোনোভাবেই এ সকল প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আসবে না এটা পরিষ্কার।
আমরা প্রত্যাশা করি বর্তমান সরকার সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করবেন।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পেপ্যাল বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা কতটুকু, সমস্যা কোথায়?

আপডেট সময় : ১২:২৯:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশে পেপ্যাল সরাসরি চালু হওয়ার সম্ভাবনা বহু বছর ধরেই আলোচনা হচ্ছে, কিন্তু এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে আসেনি। সম্ভাবনা একেবারে নেই— এমন না, তবে কিছু কাঠামোগত বাধা এখনো রয়ে গেছে।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে আজ থেকে প্রায় ১৮ বছর যাবৎ তিনটি সরকার এসেছে এবং এই তিনটি সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মহোদয়গণ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এমনকি সংসদে আন্তর্জাতিক PayPal বাংলাদেশে আসছে এই হাইপ তুলেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আমরা এই ১৮ বছরের মধ্যে কোনো সময়ই লক্ষ্য করিনি যে এই প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা বাংলাদেশে এসেছেন। লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংক অথবা বিটিআরসি কিম্বা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এমন নজিরও নেই।

তাই প্রশ্ন থেকে যায়, এসব কি শুধুই রাজনৈতিক বুলি? তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এই প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে আনা এবং কার্যক্রম শুরু করার সকল বন্দোবস্ত করে ফেলা উচিত। এখানে কিছু বিষয় বলে রাখা ভালো যে, এক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা কতটুকু, সম্ভাবনা কী এবং সমাধান কী?

সম্ভাবনা কতটুকু?

মাঝারি (Medium) বলা যায়। বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং ও রেমিট্যান্স বাজার বড় হওয়ায় PayPal-এর আগ্রহ আছে; সরকারও ডিজিটাল পেমেন্ট বাড়াতে আগ্রহী।

তবে নিকট ভবিষ্যতে (১–২ বছর) ফুল সার্ভিস চালু হওয়ার সম্ভাবনা কম, আংশিক সেবা (যেমন: PayPal/Xoom) আসার সম্ভাবনা বেশি।

প্রধান সমস্যাগুলো কোথায়?

১. বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ (Forex Control):

বাংলাদেশে বাংলাদেশ ব্যাংক খুব কঠোরভাবে ডলার লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করে। পেপ্যাল হলে ইউজাররা সহজে ডলার রাখতে/পাঠাতে পারবে। এতে মানি ফ্লো মনিটর করা কঠিন হতে পারে, এটি সবচেয়ে বড় বাধা।

২. KYC ও AML (মানি লন্ডারিং ঝুঁকি):

PayPal-এর গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড খুব কঠিন। বাংলাদেশের অনেক ব্যবহারকারীর ডকুমেন্টেশন ও ভেরিফিকেশন সিস্টেম এখনো পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ না।

৩. পেমেন্ট গেটওয়ে ও ব্যাংকিং ইন্টিগ্রেশন:

লোকাল ব্যাংকগুলোর সাথে গভীর ইন্টিগ্রেশন দরকার। অনেক ব্যাংকের API, রিয়েল-টাইম সেটেলমেন্ট এখনো উন্নত নয়।

৪. রেগুলেটরি অনুমোদন ও নীতিমালা:

PayPal চাইলে সরাসরি অপারেট করতে পারে না। Bangladesh Telecommunication Regulatory Commission ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ একাধিক সংস্থার অনুমোদন লাগে।

৫. ট্যাক্স ও কমপ্লায়েন্স ইস্যু:

আন্তর্জাতিক লেনদেনে ট্যাক্স ট্র্যাকিং জটিল। সরকার রাজস্ব হারানোর ঝুঁকি দেখে।

বাস্তবতা: এখন কী হচ্ছে?

বাংলাদেশে সরাসরি PayPal না থাকলেও Payoneer, Wise এগুলো ব্যবহার করে ফ্রিল্যান্সাররা কাজ চালাচ্ছে। আগে PayPal-এর Xoom সার্ভিস আনার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু সেটাও পূর্ণাঙ্গভাবে জনপ্রিয় হয়নি।

ভবিষ্যতে আসতে হলে কী দরকার?

  • বৈদেশিক মুদ্রা নীতিতে কিছুটা উদারতা।
  • ডিজিটাল KYC উন্নত করা।
  • ব্যাংকিং API ও পেমেন্ট অবকাঠামো আধুনিক করা
  • সরকার ও PayPal-এর মধ্যে নীতিগত সমঝোতা।

সংক্ষেপে যদি বলি PayPal আসবে— সম্ভাবনা আছে; কিন্তু এখনই না।

প্রধান বাধা: Forex control + regulatory environment

সরকার যদি পলিসি দ্রুত তৈরি না করে; যা হবে বিনিয়োগবান্ধব তাহলে কোনোভাবেই এ সকল প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আসবে না এটা পরিষ্কার।
আমরা প্রত্যাশা করি বর্তমান সরকার সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করবেন।