ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করছে সরকার: অমিত

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:৪৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৫২ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে দেশে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে বিঘ্ন ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প আন্তর্জাতিক উৎস থেকে পরিশোধিত তেল আমদানি শুরু করেছে সরকার। বিষয়টি জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানির সরবরাহ রাখতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে বেশি পরিমাণে পরিশোধিত তেল আমদানি করছে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমানে চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং ভারত থেকে পরিশোধিত তেল আমদানি করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে,দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সাধারণত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আনা অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে দেশের মোট চাহিদার পাঁচ ভাগের এক ভাগ মেটায়। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি অপরিশোধিত তেলের সংকটে পড়েছে।

১৫ লাখ মেট্রিক টন পেট্রোলিয়াম পরিশোধনের ক্ষমতা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠানটি ৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল, ৬ লাখ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল এবং ৩ লাখ মেট্রিক টন অকটেন ও পেট্রোল উৎপাদন করে। দেশে ডিজেলের মোট ৪৫ লাখ মেট্রিক টন চাহিদার বিপরীতে ইআরএল থেকে আসে ১৫ লাখ মেট্রিক টন, আর বাকিটা পরিশোধিত আকারে আমদানি করা হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মার্চ ও এপ্রিল মাসের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অপরিশোধিত তেল আমদানি করা সম্ভব হয়নি। গত মার্চ মাসে এক লাখ মেট্রিক টন অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড নিয়ে একটি জাহাজ লোড করা হলেও নিরাপত্তার কারণে সেটি এখনও পারস্য উপসাগরের রাস তানুয়ারা বন্দরে আটকে আছে।

এ ছাড়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আরও এক লাখ মেট্রিক টনের একটি চালান বাতিল করেছে। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল লোড হওয়ার কথা রয়েছে, যা হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে মে মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। মে মাসে বাড়তি তেল সরবরাহের জন্য সৌদি আরামকোর কাছে অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

জরুরি প্রয়োজন মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১০ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ডলার ব্যয়ে এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল আমদানির কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত তেল আমদানি অব্যাহত থাকায় ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ থাকলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

আপলোডকারীর তথ্য

অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়?

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করছে সরকার: অমিত

আপডেট সময় : ১০:৪৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে দেশে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে বিঘ্ন ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প আন্তর্জাতিক উৎস থেকে পরিশোধিত তেল আমদানি শুরু করেছে সরকার। বিষয়টি জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানির সরবরাহ রাখতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে বেশি পরিমাণে পরিশোধিত তেল আমদানি করছে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমানে চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং ভারত থেকে পরিশোধিত তেল আমদানি করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে,দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সাধারণত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আনা অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে দেশের মোট চাহিদার পাঁচ ভাগের এক ভাগ মেটায়। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি অপরিশোধিত তেলের সংকটে পড়েছে।

১৫ লাখ মেট্রিক টন পেট্রোলিয়াম পরিশোধনের ক্ষমতা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠানটি ৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল, ৬ লাখ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল এবং ৩ লাখ মেট্রিক টন অকটেন ও পেট্রোল উৎপাদন করে। দেশে ডিজেলের মোট ৪৫ লাখ মেট্রিক টন চাহিদার বিপরীতে ইআরএল থেকে আসে ১৫ লাখ মেট্রিক টন, আর বাকিটা পরিশোধিত আকারে আমদানি করা হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মার্চ ও এপ্রিল মাসের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অপরিশোধিত তেল আমদানি করা সম্ভব হয়নি। গত মার্চ মাসে এক লাখ মেট্রিক টন অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড নিয়ে একটি জাহাজ লোড করা হলেও নিরাপত্তার কারণে সেটি এখনও পারস্য উপসাগরের রাস তানুয়ারা বন্দরে আটকে আছে।

এ ছাড়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আরও এক লাখ মেট্রিক টনের একটি চালান বাতিল করেছে। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল লোড হওয়ার কথা রয়েছে, যা হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে মে মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। মে মাসে বাড়তি তেল সরবরাহের জন্য সৌদি আরামকোর কাছে অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

জরুরি প্রয়োজন মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১০ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ডলার ব্যয়ে এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল আমদানির কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত তেল আমদানি অব্যাহত থাকায় ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ থাকলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।