ঢাকা ১০:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘যেকোনো উপায়ে’ হরমুজ প্রণালি সচল করা হবে: রুবিও

চলমান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইরান রাজি থাকুক বা না থাকুক, ‘যেকোনো উপায়ে’ বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত (সচল) করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

সোমবার (৩০ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ব তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।

রুবিও দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সব সময় কূটনৈতিক সমাধান পছন্দ করেন। বর্তমানে বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ‘গোপন আলোচনা’ ও বার্তা আদান-প্রদান চলছে। যদিও ইরান বরাবরই এ ধরনের আলোচনার খবর অস্বীকার করে আসছে।

রুবিও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফলাফল চান। আমরা এই সমস্যার সমাধান অনেক আগেই করতে পারতাম।’ তিনি আরও জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইরানে স্থলসেনা মোতায়েন নিয়ে জল্পনা চললেও রুবিও জানান, মার্কিন সামরিক অভিযানের লক্ষ্যগুলো অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য অর্জনে কয়েক মাস নয়, মাত্র কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। আমরা এরই মধ্যে ইরানের বিমান ও নৌবাহিনী প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছি। এখন লক্ষ্য হলো তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া।’

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন তার পুরোনো অবস্থানেই অটল। রুবিও অভিযোগ করেন, তেহরান পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করে বিশ্বকে ব্ল্যাকমেইল করতে চায়। পাশাপাশি তিনি ইরানে ‘শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন’ দেখার আকাঙ্ক্ষাও ব্যক্ত করেন।

ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে ‘সমস্যা’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, দেশটির সম্পদ সাধারণ মানুষের কাজে না লাগিয়ে হিজবুল্লাহ, হামাস ও শিয়া মিলিশিয়াদের পেছনে ব্যয় করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের দাবি নাকচ করে দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হলে এই আন্তর্জাতিক জলপথ হয় ইরান নিজে খুলে দেবে, নয়তো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক জোট এটি উন্মুক্ত করতে বাধ্য করবে।’ এই পথ বন্ধ রাখলে তেহরানকে ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে রুবিও বলেন, ইরানের স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মূলত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইনের মতো প্রতিবেশীদের লক্ষ্য করে তৈরি। তাই ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করতে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর কথা বিবেচনা করছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

গত এক মাসের এই যুদ্ধে ইরানে ১ হাজার ৯৩৭ জন এবং ইসরাইলে ২০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ১৩ জন মার্কিন সেনাও এই সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

‘যেকোনো উপায়ে’ হরমুজ প্রণালি সচল করা হবে: রুবিও

আপডেট সময় : ১২:৫৯:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

চলমান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইরান রাজি থাকুক বা না থাকুক, ‘যেকোনো উপায়ে’ বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত (সচল) করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

সোমবার (৩০ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ব তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।

রুবিও দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সব সময় কূটনৈতিক সমাধান পছন্দ করেন। বর্তমানে বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ‘গোপন আলোচনা’ ও বার্তা আদান-প্রদান চলছে। যদিও ইরান বরাবরই এ ধরনের আলোচনার খবর অস্বীকার করে আসছে।

রুবিও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফলাফল চান। আমরা এই সমস্যার সমাধান অনেক আগেই করতে পারতাম।’ তিনি আরও জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইরানে স্থলসেনা মোতায়েন নিয়ে জল্পনা চললেও রুবিও জানান, মার্কিন সামরিক অভিযানের লক্ষ্যগুলো অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য অর্জনে কয়েক মাস নয়, মাত্র কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। আমরা এরই মধ্যে ইরানের বিমান ও নৌবাহিনী প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছি। এখন লক্ষ্য হলো তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া।’

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন তার পুরোনো অবস্থানেই অটল। রুবিও অভিযোগ করেন, তেহরান পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করে বিশ্বকে ব্ল্যাকমেইল করতে চায়। পাশাপাশি তিনি ইরানে ‘শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন’ দেখার আকাঙ্ক্ষাও ব্যক্ত করেন।

ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে ‘সমস্যা’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, দেশটির সম্পদ সাধারণ মানুষের কাজে না লাগিয়ে হিজবুল্লাহ, হামাস ও শিয়া মিলিশিয়াদের পেছনে ব্যয় করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের দাবি নাকচ করে দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হলে এই আন্তর্জাতিক জলপথ হয় ইরান নিজে খুলে দেবে, নয়তো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক জোট এটি উন্মুক্ত করতে বাধ্য করবে।’ এই পথ বন্ধ রাখলে তেহরানকে ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে রুবিও বলেন, ইরানের স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মূলত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইনের মতো প্রতিবেশীদের লক্ষ্য করে তৈরি। তাই ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করতে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর কথা বিবেচনা করছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

গত এক মাসের এই যুদ্ধে ইরানে ১ হাজার ৯৩৭ জন এবং ইসরাইলে ২০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ১৩ জন মার্কিন সেনাও এই সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা