ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

ইরানকে সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে চীন, হুমকিতে মার্কিন বাহিনী!

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:১৭:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৪০ বার পড়া হয়েছে

ইরান চীনের সঙ্গে উন্নত অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সিএম-৩০২ কেনার একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। এ আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়টি সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে। এমন সময়ে এ আলোচনা এগোচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছাকাছি এলাকায় বড় পরিসরে নৌবাহিনী মোতায়েন করছে এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ২৯০ কিলোমিটার পাল্লার সিএম-৩০২ নিম্ন উচ্চতায় ও উচ্চ গতিতে উড়ে শত্রুপক্ষের নৌ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে সক্ষম। ক্ষেপণাস্ত্রটি পেলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌ-অভিযানের জন্য তা বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

প্রতিবেদন অনুসারে, অন্তত দুই বছর ধরে চলা এ ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত আলোচনা গত জুনে ইসরাইল-ইরান স্বল্পস্থায়ী সংঘাতের পর গতি পায়। আলোচনার অগ্রগতির সময় ইরানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা চীন সফর করেন।

তবে সম্ভাব্য চুক্তিতে কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে, এর মূল্য কত এবং তা সরবরাহের বিষয়ে চীনের প্রতিশ্রুতি কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
 
ইরানের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, মিত্রদের সঙ্গে ইরানের সামরিক চুক্তি রয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি সেই অংশীদারিত্ব কাজে লাগানোর উপযুক্ত সময়। এ বিষয়ে চীনা কর্মকর্তাদের এবং হোয়াইট হাউসের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি।
 
এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি না হলে কঠোর অবস্থান নেয়া হবে। 
 
চীনের সঙ্গে চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে এটি ইরানের কাছে উন্নত সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের একটি বড় উদাহরণ হবে। ২০০৬ সালে আরোপিত এবং গত সেপ্টেম্বরে পুনর্বহাল হওয়া জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে এমন লেনদেন আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত হয়ে উঠতে পারে।
 
বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
 
এদিকে মার্কিন নৌবাহিনী প্রস্তুতি জোরদার করেছে। বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড-সহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ ইরানের নিকটবর্তী অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, চীন ইরানে একটি পশ্চিমাপন্থি সরকার প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ঠেকাতে আগ্রহী, যা তাদের আঞ্চলিক স্বার্থের জন্য হুমকি হতে পারে।
 
সিএম-৩০২ ক্ষেপণাস্ত্রটিকে শীর্ষস্থানীয় জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে বাজারজাত করছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন। এটি বৃহৎ নৌযান ধ্বংস করতে সক্ষম।
 
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এম-৩০২ ছাড়াও ইরান চীনের কাছ থেকে ভূমি-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক প্রযুক্তি এবং অ্যান্টি-স্যাটেলাইট সক্ষমতা অর্জনের বিষয়েও আলোচনা করছে। ১৯৮০-এর দশকে চীন ইরানের অন্যতম প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী ছিল। তবে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে অস্ত্র হস্তান্তর কমে যায়।
আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানকে সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে চীন, হুমকিতে মার্কিন বাহিনী!

আপডেট সময় : ০৫:১৭:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইরান চীনের সঙ্গে উন্নত অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সিএম-৩০২ কেনার একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। এ আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়টি সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে। এমন সময়ে এ আলোচনা এগোচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছাকাছি এলাকায় বড় পরিসরে নৌবাহিনী মোতায়েন করছে এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ২৯০ কিলোমিটার পাল্লার সিএম-৩০২ নিম্ন উচ্চতায় ও উচ্চ গতিতে উড়ে শত্রুপক্ষের নৌ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে সক্ষম। ক্ষেপণাস্ত্রটি পেলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌ-অভিযানের জন্য তা বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

প্রতিবেদন অনুসারে, অন্তত দুই বছর ধরে চলা এ ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত আলোচনা গত জুনে ইসরাইল-ইরান স্বল্পস্থায়ী সংঘাতের পর গতি পায়। আলোচনার অগ্রগতির সময় ইরানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা চীন সফর করেন।

তবে সম্ভাব্য চুক্তিতে কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে, এর মূল্য কত এবং তা সরবরাহের বিষয়ে চীনের প্রতিশ্রুতি কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
 
ইরানের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, মিত্রদের সঙ্গে ইরানের সামরিক চুক্তি রয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি সেই অংশীদারিত্ব কাজে লাগানোর উপযুক্ত সময়। এ বিষয়ে চীনা কর্মকর্তাদের এবং হোয়াইট হাউসের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি।
 
এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি না হলে কঠোর অবস্থান নেয়া হবে। 
 
চীনের সঙ্গে চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে এটি ইরানের কাছে উন্নত সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের একটি বড় উদাহরণ হবে। ২০০৬ সালে আরোপিত এবং গত সেপ্টেম্বরে পুনর্বহাল হওয়া জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে এমন লেনদেন আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত হয়ে উঠতে পারে।
 
বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
 
এদিকে মার্কিন নৌবাহিনী প্রস্তুতি জোরদার করেছে। বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড-সহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ ইরানের নিকটবর্তী অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, চীন ইরানে একটি পশ্চিমাপন্থি সরকার প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ঠেকাতে আগ্রহী, যা তাদের আঞ্চলিক স্বার্থের জন্য হুমকি হতে পারে।
 
সিএম-৩০২ ক্ষেপণাস্ত্রটিকে শীর্ষস্থানীয় জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে বাজারজাত করছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন। এটি বৃহৎ নৌযান ধ্বংস করতে সক্ষম।
 
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এম-৩০২ ছাড়াও ইরান চীনের কাছ থেকে ভূমি-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক প্রযুক্তি এবং অ্যান্টি-স্যাটেলাইট সক্ষমতা অর্জনের বিষয়েও আলোচনা করছে। ১৯৮০-এর দশকে চীন ইরানের অন্যতম প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী ছিল। তবে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে অস্ত্র হস্তান্তর কমে যায়।