বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, একজন খুনি শেখ হাসিনা, যার বিরুদ্ধে শতাধিক হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে, বাংলাদেশের আদালতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। একজন খুনি, একজন হত্যাকারী, গ্রেপ্তারী পরোয়ানাভূক্ত আসামিকে ভারত আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আইনের শাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করে দিয়েছে। আমরা অন্তবর্তীকালী সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই, যে কোন মূল্যে আন্তজার্তিক বিশ্বের সহযোগীতা নিয়ে হলেও এ সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। ইন্টারপোলে রেড এলার্ট জারি করে খুনি শেখ হাসিনাসহ তার সকল দোসরকে ধরে এনে বাংলার মাটিতে বিচার করতে হবে।
শাপলা চত্ত্বরে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যার বিচারের দাবী এবং নৈরাজ্যবাদ প্রতিরোধে লক্ষ্মীপুরে আয়োজিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের গণ সমাবেশে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
খেলাফত মজলিস লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার আয়োজনে শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জেলা শহরের উত্তর তেমুহনীর লিল্লাহ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়৷
মামুনুল হক বলেন, শেখ হাসিনা প্রতিশোধের রাজনীতি করেছিল। সে প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিল বাংলাদেশের কাছ থেকে, বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে। এমনকি নিজের দল আওয়ামী লীগের কাছ থেকে। তার ধারণা ছিল ১৯৭৫ সালে তার বাবাকে খুন করেছে এদেশের মানুষ আর আওয়ামী লীগ। এজন্য সে ঘোষণা দিয়েছিল- যারা তার বাবার হত্যাকাণ্ডে উল্লাস প্রকাশ করেছে, সে এ জাতির কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করবে। এরপর বিগত ৫০ বছর ধরে শেখ হাসিনা প্রতিশোধের রাজনীতি করে গেছে। এভাবে সে প্রতিশোধ ও বিভাজনের রাজনীতি করে দেশকে ধ্বংস করার যত আয়োজন সবগুলো সে করেছে। সে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চায়নি, তিনি চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হতে।
মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে জানিয়ে খেলাফত মজলিসের এ নেতা বলেন, বাংলাদেশ যাতে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে, সে জন্য লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার করে দেশকে তলাবিহীন ঝুঁড়িতে পরিণত করেছে। মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি করেছে। বাংলাদেশের অস্তিত্বকে বিপন্ন করাই ছিল শেখ হাসিনার রাজনীতি। অন্য আরেকটি দেশের সেবাদাসী হিসেবে বাংলাদেশের ক্ষমতার মসনদকে কুক্ষিগত করে এদেশের মানুষের ইচ্ছা এবং অভিপ্রায়ের বিরুদ্ধে সে রাজনীতি করে গেছে।
বলেন, ১৫ বছর পর্যন্ত ভারত শুধুমাত্র শেখ হাসিনার সাথে সম্পর্ক করেছে। আর এ সম্পর্ক রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে এবং বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতাকে তার দু’পায়ের নীচে ফেলেছে। বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে সারা পৃথিবীতে আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করেছে। মানুষকে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে অধিকার হারা করেছে। আর তাদের (ভারত) এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখেছিল।
মামুনুল হক বলেন, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামের নবী প্রেমী তৌহিদী জনতার উপর পরিচালিত গণহত্যার এখনো পর্যন্ত মামলা দায়ের হয়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই এই গণহত্যার জন্য, ২০২১ সালের মোদী বিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের জন্য শেখ হাসিনা এবং খুনির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হতে হবে। সে মামলায় বিচার করতে হবে। বাংলার মানুষ ইতিহাসের জঘন্যতম খুনির বিচার দেখতে চায়।
বলেন, যে দেশে ফ্যাসিবাদ উৎখাতের জন্য স্বৈরাচার পতনের জন্য হাজার হাজার মানুষ জীবন দিয়েছে, শুধু ১লা জুলাই থেকে আগস্ট -২০২৪ সালের সর্বশেষ রিপোর্ট পর্যন্ত ১৬৩২ জন মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আরও কত অসংখ্য মানুষ গুমের শিকার হয়েছে, তাদের লাশের হদিস পরিবারের কাছে নেই। এভাবে বিগত ১৫ বছরে কত হাজার মানুষকে হত্যা করে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মসনদকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চেয়েছিল।
ইনসাফ পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্খা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা চাই একটি বৈষম্য বিহীন বাংলাদেশ গড়তে, ইনসাফ পূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে। বৈষম্যহীন ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে হলে মানব রচিত তন্ত্র-মন্ত্র দিয়ে পূর্ণাঙ্গ ইনসাফ সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন আল্লাহ প্রদত্ত রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। সে বন্দোবস্ত হলো খেলাফত ব্যবস্থা৷
বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদ উৎখাত করে আমাদের যাত্রা থামিয়ে দিতে চাইনা৷ আমরা চাই পূর্ণাঙ্গ খেলাফত কায়েমের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়তে।
মামুনুল হক বলেন, ফ্যাসিবাদিকে কোনভাবে আর বাংলাদেশে পুনর্বাসিত হতে দেওয়া যাবে না। অন্তবর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ জানাই, সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে তারা প্রমান করেছে, আওয়ামী লীগ এবং তার রাজনীতি ছিল সন্ত্রাস নির্ভর রাজনীতি। আমরা বলতে চাই- শুধু ছাত্রলীগ না, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকেও বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করতে হবে।
যারা আমার মায়ের বুক খালি করেছে, যারা দেশের প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনকে মৃত্যুপুরী করেছে, সারা বাংলার ৫৫ হাজার বর্গ মাইলকে এ দেশের সন্তানদের রক্ত দ্বারা লাল করেছে, সে আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ রাজনীতি করার কোন অধিকার নেই।
গণ সমাবেশে খেলাফত মজলিসের জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা লোকমান হোসাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজি, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মাদ ফয়সাল, মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা আবু সাঈদ নোমান ও মাওলানা ওজায়ের আমিন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লক্ষ্মীপুরের সমন্বয়ক মো. বায়েজিদ সহ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বরেণ্য উলামায়ে কেরামগণ।
মোঃ নিজাম উদ্দিন 





































