ঢাকা ০৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবার জিয়াউল আহসানের ফ্ল্যাট সিলগালা

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:০০:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৩৭ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রীর নামে থাকা একটি ফ্ল্যাট সিলগালা করেছে প্রশাসন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে রূপগঞ্জ উপজেলার জলসিঁড়ি প্রজেক্টের ১২ নম্বর সেক্টরের ৫০৬ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর প্লটে অবস্থিত ‘জয়িতা’ নামে আটতলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট সিলগালা করা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আরডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার পারভেজ এ অভিযান পরিচালনা করেন।

প্রশাসন জানায়, ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাট ভাড়া দেয়া এবং ভাড়াটিয়া বসবাস করায় সেগুলো আপাতত সিলগালা করা হয়নি।

অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন: পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো দেলোয়ার হোসেন, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশীলদার আবুল কালামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, গত বছরের ২৪ এপ্রিল ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের (বরখাস্ত) একটি বাগানবাড়িসহ চারটি বাড়ি এবং তিনটি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দেন আদালত।

এ ছাড়া জিয়াউলের নামে থাকা আরও নয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব ব্যাংক হিসেবে জমা থাকা অর্থের পরিমাণ এক কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর বাইরে তার নামে থাকা বিভিন্ন কৃষিজমিও জব্দের আদেশ দেন ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জিয়াউল আহসানের আটতলা একটি বাড়ি, বরিশালে একটি বাগানবাড়ি, একটি একতলা বাড়ি ও নির্মাণাধীন আটতলা একটি বাড়ি রয়েছে; আর ফ্ল্যাট তিনটি ঢাকার মিরপুর, উত্তরা ও মিরপুর ডিওএইচএসে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ২৩ জানুয়ারি জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন।
 
মামলায় অভিযোগ করা হয়, জিয়াউল আহসান নিজ নামে ২২ কোটি ২৭ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিজের ব্যাংক হিসাবে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা করার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া তার নামে থাকা আটটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুদক।

অভিযোগ অনুযায়ী, স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহায়তায় এ অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়। দুদকের মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ মামলায় গত বছরের ৭ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

এবার জিয়াউল আহসানের ফ্ল্যাট সিলগালা

আপডেট সময় : ১০:০০:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রীর নামে থাকা একটি ফ্ল্যাট সিলগালা করেছে প্রশাসন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে রূপগঞ্জ উপজেলার জলসিঁড়ি প্রজেক্টের ১২ নম্বর সেক্টরের ৫০৬ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর প্লটে অবস্থিত ‘জয়িতা’ নামে আটতলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট সিলগালা করা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আরডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার পারভেজ এ অভিযান পরিচালনা করেন।

প্রশাসন জানায়, ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাট ভাড়া দেয়া এবং ভাড়াটিয়া বসবাস করায় সেগুলো আপাতত সিলগালা করা হয়নি।

অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন: পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো দেলোয়ার হোসেন, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশীলদার আবুল কালামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, গত বছরের ২৪ এপ্রিল ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের (বরখাস্ত) একটি বাগানবাড়িসহ চারটি বাড়ি এবং তিনটি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দেন আদালত।

এ ছাড়া জিয়াউলের নামে থাকা আরও নয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব ব্যাংক হিসেবে জমা থাকা অর্থের পরিমাণ এক কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর বাইরে তার নামে থাকা বিভিন্ন কৃষিজমিও জব্দের আদেশ দেন ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জিয়াউল আহসানের আটতলা একটি বাড়ি, বরিশালে একটি বাগানবাড়ি, একটি একতলা বাড়ি ও নির্মাণাধীন আটতলা একটি বাড়ি রয়েছে; আর ফ্ল্যাট তিনটি ঢাকার মিরপুর, উত্তরা ও মিরপুর ডিওএইচএসে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ২৩ জানুয়ারি জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন।
 
মামলায় অভিযোগ করা হয়, জিয়াউল আহসান নিজ নামে ২২ কোটি ২৭ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিজের ব্যাংক হিসাবে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা করার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া তার নামে থাকা আটটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুদক।

অভিযোগ অনুযায়ী, স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহায়তায় এ অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়। দুদকের মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ মামলায় গত বছরের ৭ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখানো হয়।