ঢাকা ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জমি নিয়ে বিরোধ

ভাইকে ফাঁসাতে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করে হারুন

লক্ষ্মীপুরে জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় ভাই হিরনকে ফাঁসাতে হারুনুর রশিদ তার নিজের স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করে।
গ্রেপ্তারের পর ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় হারুন।  আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়।
সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কায়সার হামিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি কায়সার হামিদ বলেন, আসামি হারুন তার ভাই হিরনকে ফাঁসাতে হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছেন। তখন নিজের শরীরেও দা দিয়ে আঘাত করে ঘটনাটি ডাকাতি বলে প্রচার করেন। তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার ঘটনা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
হারুন সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের ঝাউডগি গ্রামের নুর মোহাম্মদ ডাক্তার বাড়ির মৃত হানিফ মোল্লার ছেলে। তিনি পেশায় ইটভাটার মাঝি ছিলেন।
পুলিশ জানায়, হারুনের সঙ্গে তার ভাই হিরনের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ১৫ অক্টোবর রাতে খাওয়া ধাওয়া শেষে হারুন ও তার পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। ওই রাতে পৌনে ৩ টার দিকে হারুন পাশ্ববর্তী বিয়ে বাড়ির সাজসজ্জা দেখতে যাওয়ার কথা বলে স্ত্রী জেসমিনকে নিয়ে ঘরের বাহিরে বের হয়। একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হারুন তার স্ত্রীকে হত্যা করে। ঘটনাটি ডাকাতি বলে প্রচার করতে হারুন নিজেই তার হাতে ও ঘাঁড়ে কাটা জখম করে। পরে দা পুকুরের পানিতে পরিস্কারের পর বসতঘরে রেখে প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করে। এতে আশপাশের লোকজন বাড়িতে আসলে সবাইকে জানায় ৭-৮ জনের ডাকাতদল তাদেরকে কুপিয়েছে।
ঘটনার পর হারুন বাড়ির লোকজনের কাছে দাবি করেছেন, ৭-৮ জন দুর্বৃত্ত প্রথমে তার উপর হামলা করে। তিনি দৌঁড়ে পালিয়ে যান। তার স্ত্রী তাকে বাঁচাতে বের হলে দুর্বৃত্তরা তাকেও কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনার সাথে তার ছোট ভাই হিরন জড়িত ছিল বলে তিনি পুলিশ, গণমাধ্যম এবং স্থানীয়দের কাছে দাবি করেছেন। পুলিশ সে সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হিরণকে আটক করে।
মূলত জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ভাই হিরন ও হিরনের স্ত্রীকে ফাঁসাতে হারুন নিজের স্ত্রীকে হত্যা করে ডাকাতির নাটক সাজায়।
জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় হারুনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। রোববার (২০ অক্টোবর) দুপুরে আদালতেও ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় হারুন।
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজের মামলায় নিজেই লড়তে চান শামসুল হক টুকু

জমি নিয়ে বিরোধ

ভাইকে ফাঁসাতে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করে হারুন

আপডেট সময় : ১২:০০:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০২৪
লক্ষ্মীপুরে জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় ভাই হিরনকে ফাঁসাতে হারুনুর রশিদ তার নিজের স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করে।
গ্রেপ্তারের পর ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় হারুন।  আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়।
সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কায়সার হামিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি কায়সার হামিদ বলেন, আসামি হারুন তার ভাই হিরনকে ফাঁসাতে হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছেন। তখন নিজের শরীরেও দা দিয়ে আঘাত করে ঘটনাটি ডাকাতি বলে প্রচার করেন। তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার ঘটনা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
হারুন সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের ঝাউডগি গ্রামের নুর মোহাম্মদ ডাক্তার বাড়ির মৃত হানিফ মোল্লার ছেলে। তিনি পেশায় ইটভাটার মাঝি ছিলেন।
পুলিশ জানায়, হারুনের সঙ্গে তার ভাই হিরনের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ১৫ অক্টোবর রাতে খাওয়া ধাওয়া শেষে হারুন ও তার পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। ওই রাতে পৌনে ৩ টার দিকে হারুন পাশ্ববর্তী বিয়ে বাড়ির সাজসজ্জা দেখতে যাওয়ার কথা বলে স্ত্রী জেসমিনকে নিয়ে ঘরের বাহিরে বের হয়। একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হারুন তার স্ত্রীকে হত্যা করে। ঘটনাটি ডাকাতি বলে প্রচার করতে হারুন নিজেই তার হাতে ও ঘাঁড়ে কাটা জখম করে। পরে দা পুকুরের পানিতে পরিস্কারের পর বসতঘরে রেখে প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করে। এতে আশপাশের লোকজন বাড়িতে আসলে সবাইকে জানায় ৭-৮ জনের ডাকাতদল তাদেরকে কুপিয়েছে।
ঘটনার পর হারুন বাড়ির লোকজনের কাছে দাবি করেছেন, ৭-৮ জন দুর্বৃত্ত প্রথমে তার উপর হামলা করে। তিনি দৌঁড়ে পালিয়ে যান। তার স্ত্রী তাকে বাঁচাতে বের হলে দুর্বৃত্তরা তাকেও কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনার সাথে তার ছোট ভাই হিরন জড়িত ছিল বলে তিনি পুলিশ, গণমাধ্যম এবং স্থানীয়দের কাছে দাবি করেছেন। পুলিশ সে সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হিরণকে আটক করে।
মূলত জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ভাই হিরন ও হিরনের স্ত্রীকে ফাঁসাতে হারুন নিজের স্ত্রীকে হত্যা করে ডাকাতির নাটক সাজায়।
জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় হারুনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। রোববার (২০ অক্টোবর) দুপুরে আদালতেও ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় হারুন।