ঢাকা ০৬:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজ দলের কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:২৪:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৫৮ বার পড়া হয়েছে

যশোরের শার্শায় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের ধরে বিএনপির দুই কর্মী ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই হামলাকারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসাসহ তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে পুলিশ।

বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুরের উপজেলার দাউদখালী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন, উপজেলার গোগা কালীয়ানী গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে ইমরান হোসেন (৩৪) এবং পাঁচভুলোট গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে আরিফ পারভেজ (২৩)।

স্থানীয়রা জানান, দাউদখালী গ্রামের নিকিরি পাড়ার আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কাদেরসহ কয়েকটি পরিবারকে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আলী বিশ্বাসের পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চলছিল। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা ঘোষণা দেয় যে, ওই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিএনপির কোনো কর্মকাণ্ডে থাকতে পারবেন না।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এই ঘোষণায় ক্ষিপ্ত হয়ে কুদ্দুস আলী বিশ্বাসের নির্দেশে সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা আজিবর বদ্দীর ছেলে সাজু বদ্দির নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি গ্রুপ দাউদখালী গ্রামের স্থানীয় বিএনপি কর্মী জাহান আলী ধাবকের ছেলে আলী হোসেনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলে। এতে বাধা দিতে গেলে তার ভাই জাকির হোসেনকেও মারধর করা হয়।

পরে গ্রামবাসী প্রতিহত করতে এগিয়ে এলে সাজু বদ্দি পিস্তল বের করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। গুলির শব্দে আরও লোকজন ছুটে এলে তারা আবারও গুলি ছুড়ে এবং নিজেদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পালানোর সময় গ্রামবাসী দুই জনকে ধরে ফেলে এবং পুলিশে সোপর্দ করে।

আহত আলী হোসেনের ভাই বিএনপির দাউদখালী গ্রামের বিএনপি কর্মী জাকির হোসেন জানান, আমি দলীয় মিটিং এ কুদ্দুস আলী বিশ্বাস আওয়ামী লীগপন্থিদের সহায়তা করছেন বলে অভিযোগ করেছি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আমাকে মোবাইলে নানা হুমকি দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই ৪/৫টি মোটরসাইকেলে একদল এসে আমার ভাইকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। আমি ঠেকাতে গেলে আমাকেও মারধর করে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আলী বিশ্বাস জানান, এ ঘটনার সঙ্গে আমি সংশ্লিষ্ট না। আমি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ আছি। কারও ওপরে হামলা করার কোনো নির্দেশ দেইনি। দলের মধ্যে একটি গ্রুপ এসব রটাচ্ছে।

এ বিষয়ে নাভারণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন জানান, আটক দুইজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৩টি মটর সাইকেল ও গুলির খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের আটক ও আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

নিজ দলের কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০৪:২৪:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

যশোরের শার্শায় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের ধরে বিএনপির দুই কর্মী ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই হামলাকারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসাসহ তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে পুলিশ।

বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুরের উপজেলার দাউদখালী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন, উপজেলার গোগা কালীয়ানী গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে ইমরান হোসেন (৩৪) এবং পাঁচভুলোট গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে আরিফ পারভেজ (২৩)।

স্থানীয়রা জানান, দাউদখালী গ্রামের নিকিরি পাড়ার আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কাদেরসহ কয়েকটি পরিবারকে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আলী বিশ্বাসের পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চলছিল। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা ঘোষণা দেয় যে, ওই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিএনপির কোনো কর্মকাণ্ডে থাকতে পারবেন না।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এই ঘোষণায় ক্ষিপ্ত হয়ে কুদ্দুস আলী বিশ্বাসের নির্দেশে সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা আজিবর বদ্দীর ছেলে সাজু বদ্দির নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি গ্রুপ দাউদখালী গ্রামের স্থানীয় বিএনপি কর্মী জাহান আলী ধাবকের ছেলে আলী হোসেনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলে। এতে বাধা দিতে গেলে তার ভাই জাকির হোসেনকেও মারধর করা হয়।

পরে গ্রামবাসী প্রতিহত করতে এগিয়ে এলে সাজু বদ্দি পিস্তল বের করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। গুলির শব্দে আরও লোকজন ছুটে এলে তারা আবারও গুলি ছুড়ে এবং নিজেদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পালানোর সময় গ্রামবাসী দুই জনকে ধরে ফেলে এবং পুলিশে সোপর্দ করে।

আহত আলী হোসেনের ভাই বিএনপির দাউদখালী গ্রামের বিএনপি কর্মী জাকির হোসেন জানান, আমি দলীয় মিটিং এ কুদ্দুস আলী বিশ্বাস আওয়ামী লীগপন্থিদের সহায়তা করছেন বলে অভিযোগ করেছি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আমাকে মোবাইলে নানা হুমকি দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই ৪/৫টি মোটরসাইকেলে একদল এসে আমার ভাইকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। আমি ঠেকাতে গেলে আমাকেও মারধর করে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আলী বিশ্বাস জানান, এ ঘটনার সঙ্গে আমি সংশ্লিষ্ট না। আমি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ আছি। কারও ওপরে হামলা করার কোনো নির্দেশ দেইনি। দলের মধ্যে একটি গ্রুপ এসব রটাচ্ছে।

এ বিষয়ে নাভারণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন জানান, আটক দুইজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৩টি মটর সাইকেল ও গুলির খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের আটক ও আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।