ঢাকা ১১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাতিল ৫০ বছরের পুরোনো ব্যবস্থা ১ কোটি ৩০ লাখ প্রবাসী শ্রমিকদের সুখবর দিলো সৌদি

দীর্ঘদিনের বিতর্কিত কাফালা (অভিভাবকত্ব) ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে সৌদি আরব। দেশটি গত পাঁচ দশক ধরে বিদেশি শ্রমিকদের চাকরি ও বসবাসের অনুমতি নিয়ন্ত্রণ করতো এই ব্যবস্থার মাধ্যমে।

জানা গেছে, দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয় জুন ২০২৫-এ ঘোষিত এ সংস্কারের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ প্রবাসী শ্রমিকের জন্য নতুন কর্মসংস্থান কাঠামো চালু করেছে। এদের অধিকাংশই দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশ—বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিক।

কাফালা ব্যবস্থা কী

‘কাফালা’ শব্দটির অর্থ ‘অভিভাবকত্ব’ বা ‘স্পনসরশিপ’। ১৯৫০-এর দশকে উপসাগরীয় দেশগুলো বিশেষ করে সৌদি আরব এ ব্যবস্থা চালু করে। এর অধীনে বিদেশি শ্রমিকদের আইনি মর্যাদা নির্ভর করত নিয়োগকর্তা বা ‘কফিল’-এর ওপর। চাকরি পরিবর্তন, দেশত্যাগ কিংবা আইনি প্রতিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সম্পূর্ণ অনুমতি নিতে হতো কফিল। মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবস্থাকে শোষণমূলক ও আধুনিক দাসপ্রথার সঙ্গে তুলনা করে আসছিল।

সময়ের সঙ্গে এই কাঠামো শ্রমিকদের ওপর একতরফা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে, সীমিত করে দেয় তাদের স্বাধীনতা ও অধিকার। নির্মাণ, গৃহকর্ম, হোটেল-রেস্তোরাঁ, কৃষিসহ নানা খাতে কর্মরত লক্ষ লক্ষ প্রবাসী এ ব্যবস্থার ভুক্তভোগী ছিলেন।

নতুন শ্রম কাঠামো

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)-এর বরাতে জানা গেছে, নতুন ব্যবস্থায় এখন থেকে শ্রমিকরা বর্তমান নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়াই চাকরি পরিবর্তন করতে পারবেন, দেশত্যাগের জন্য আর আলাদা ‘এক্সিট ভিসা’ লাগবে না এবং তারা আইনি সুরক্ষা পাবেন যা আগে কাফালা ব্যবস্থায় ছিল না।

এই সংস্কার দেশটির ভিশন ২০৩০ উদ্যোগের অংশ, যার লক্ষ্য অর্থনীতিকে আধুনিকায়ন ও বিদেশি শ্রমিকদের কল্যাণ বৃদ্ধি করা। সৌদি কর্তৃপক্ষ একে ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যা দিলেও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে—বাস্তবায়নের মান ও পর্যবেক্ষণই নির্ধারণ করবে শ্রমিকদের প্রকৃত সুফল।

কারা উপকৃত হবেন

সৌদি আরবে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ প্রবাসী শ্রমিক রয়েছেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪২ শতাংশ। ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, শুধু বাংলাদেশ থেকেই ৪ লাখ ৯৮ হাজারের বেশি কর্মী সেখানে কর্মরত ছিলেন। গৃহকর্মী শ্রেণিতে প্রবাসীদের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ, যারা সবাই বিদেশি নাগরিক।

নতুন নীতির ফলে প্রবাসীরা আরও স্বাধীনভাবে চাকরির শর্ত নির্ধারণ করতে পারবেন, বেতন-সুবিধা নিয়ে আলোচনার সুযোগ বাড়বে, এবং কর্মক্ষেত্রে মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফের ২৫ এজেন্সির নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার আশঙ্কা বায়রার একাংশের

বাতিল ৫০ বছরের পুরোনো ব্যবস্থা ১ কোটি ৩০ লাখ প্রবাসী শ্রমিকদের সুখবর দিলো সৌদি

আপডেট সময় : ০৭:৩৭:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

দীর্ঘদিনের বিতর্কিত কাফালা (অভিভাবকত্ব) ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে সৌদি আরব। দেশটি গত পাঁচ দশক ধরে বিদেশি শ্রমিকদের চাকরি ও বসবাসের অনুমতি নিয়ন্ত্রণ করতো এই ব্যবস্থার মাধ্যমে।

জানা গেছে, দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয় জুন ২০২৫-এ ঘোষিত এ সংস্কারের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ প্রবাসী শ্রমিকের জন্য নতুন কর্মসংস্থান কাঠামো চালু করেছে। এদের অধিকাংশই দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশ—বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিক।

কাফালা ব্যবস্থা কী

‘কাফালা’ শব্দটির অর্থ ‘অভিভাবকত্ব’ বা ‘স্পনসরশিপ’। ১৯৫০-এর দশকে উপসাগরীয় দেশগুলো বিশেষ করে সৌদি আরব এ ব্যবস্থা চালু করে। এর অধীনে বিদেশি শ্রমিকদের আইনি মর্যাদা নির্ভর করত নিয়োগকর্তা বা ‘কফিল’-এর ওপর। চাকরি পরিবর্তন, দেশত্যাগ কিংবা আইনি প্রতিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সম্পূর্ণ অনুমতি নিতে হতো কফিল। মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবস্থাকে শোষণমূলক ও আধুনিক দাসপ্রথার সঙ্গে তুলনা করে আসছিল।

সময়ের সঙ্গে এই কাঠামো শ্রমিকদের ওপর একতরফা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে, সীমিত করে দেয় তাদের স্বাধীনতা ও অধিকার। নির্মাণ, গৃহকর্ম, হোটেল-রেস্তোরাঁ, কৃষিসহ নানা খাতে কর্মরত লক্ষ লক্ষ প্রবাসী এ ব্যবস্থার ভুক্তভোগী ছিলেন।

নতুন শ্রম কাঠামো

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)-এর বরাতে জানা গেছে, নতুন ব্যবস্থায় এখন থেকে শ্রমিকরা বর্তমান নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়াই চাকরি পরিবর্তন করতে পারবেন, দেশত্যাগের জন্য আর আলাদা ‘এক্সিট ভিসা’ লাগবে না এবং তারা আইনি সুরক্ষা পাবেন যা আগে কাফালা ব্যবস্থায় ছিল না।

এই সংস্কার দেশটির ভিশন ২০৩০ উদ্যোগের অংশ, যার লক্ষ্য অর্থনীতিকে আধুনিকায়ন ও বিদেশি শ্রমিকদের কল্যাণ বৃদ্ধি করা। সৌদি কর্তৃপক্ষ একে ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যা দিলেও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে—বাস্তবায়নের মান ও পর্যবেক্ষণই নির্ধারণ করবে শ্রমিকদের প্রকৃত সুফল।

কারা উপকৃত হবেন

সৌদি আরবে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ প্রবাসী শ্রমিক রয়েছেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪২ শতাংশ। ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, শুধু বাংলাদেশ থেকেই ৪ লাখ ৯৮ হাজারের বেশি কর্মী সেখানে কর্মরত ছিলেন। গৃহকর্মী শ্রেণিতে প্রবাসীদের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ, যারা সবাই বিদেশি নাগরিক।

নতুন নীতির ফলে প্রবাসীরা আরও স্বাধীনভাবে চাকরির শর্ত নির্ধারণ করতে পারবেন, বেতন-সুবিধা নিয়ে আলোচনার সুযোগ বাড়বে, এবং কর্মক্ষেত্রে মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।