ঢাকা ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

বিমানবন্দরের আগুনে পুড়েছে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের মালামাল

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:৫১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৫২ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্সে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে গেছে রাশিয়া থেকে আনা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। মমতা ট্রেডিং কোম্পানি নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং) প্রতিষ্ঠান এ দাবি করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা সরকার বিপ্লব হোসাইন জানান, ‘রাশিয়া থেকে সাতটি শিপমেন্টে প্রায় ১৮ টন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এসেছে ছয় দিন আগে। পরমাণু শক্তি কমিশনের এনওসি (অনাপত্তিপত্র) না পাওয়ায় মালামাল খালাসে দেরি হয়। রোববার তা খালাস করার কথা ছিল।’

তবে প্রকল্পের বাংলাদেশি ও রুশ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। এতে ঘটনাটি নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ধোঁয়াশা ও রহস্য।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্স ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আকাশপথে বিভিন্ন দেশের আমদানি করা পণ্য রাখার এই গুদামে প্রায় সাত ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বিজিবি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে পুড়ে যায় কোটি টাকার মালামাল।

‘রাশিয়ানরা কিছুই জানে না’

বিষয়টি জানতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের পরিচালক মো. কবির হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের চারজন কর্মকর্তা বলেন, ‘রূপপুর প্রকল্পের বেশিরভাগ মালামাল আসে পানিপথে, কিছু আসে বিমানে। এগুলোর আমদানি ও স্থাপনের দায়িত্ব রাশিয়ান ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু প্রকল্প এলাকায় মালামাল পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত এর দায় প্রকল্প কর্তৃপক্ষের নয়।’

একজন কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা রাশিয়ানদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা জানিয়েছেন, এমন কোনো শিপমেন্ট সম্পর্কে তারা অবগত নন। তাছাড়া মমতা ট্রেডিং নামের কোনো প্রতিষ্ঠানকেও তারা কোনো কাজ দেয়নি।’

সাব-কন্ট্রাক্টরদের গোলকধাঁধা প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়ার মূল ঠিকাদার ‘রসাটম’ তাদের কাজের সুবিধার্থে স্থানীয় অনেক প্রতিষ্ঠানকে সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। সেই সাব-কন্ট্রাক্টররা আবার অন্য প্রতিষ্ঠানকে সাব-কন্ট্রাক্ট দেয়। ফলে মালামাল কোথা থেকে আসছে, কীভাবে আসছে-সব তথ্য সবসময় মূল ঠিকাদার বা প্রকল্প কর্তৃপক্ষের জানা থাকে না।

সূত্রটির ভাষায়, ‘যদি সত্যিই ১৮ টন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম রাশিয়া থেকে আসে, তবে রাশিয়ানদের না জানার প্রশ্নই ওঠে না। ঘটনাটি নিঃসন্দেহে রহস্যজনক এবং বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন।’

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিমানবন্দরের আগুনে পুড়েছে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের মালামাল

আপডেট সময় : ০৬:৫১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্সে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে গেছে রাশিয়া থেকে আনা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। মমতা ট্রেডিং কোম্পানি নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং) প্রতিষ্ঠান এ দাবি করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা সরকার বিপ্লব হোসাইন জানান, ‘রাশিয়া থেকে সাতটি শিপমেন্টে প্রায় ১৮ টন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এসেছে ছয় দিন আগে। পরমাণু শক্তি কমিশনের এনওসি (অনাপত্তিপত্র) না পাওয়ায় মালামাল খালাসে দেরি হয়। রোববার তা খালাস করার কথা ছিল।’

তবে প্রকল্পের বাংলাদেশি ও রুশ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। এতে ঘটনাটি নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ধোঁয়াশা ও রহস্য।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্স ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আকাশপথে বিভিন্ন দেশের আমদানি করা পণ্য রাখার এই গুদামে প্রায় সাত ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বিজিবি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে পুড়ে যায় কোটি টাকার মালামাল।

‘রাশিয়ানরা কিছুই জানে না’

বিষয়টি জানতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের পরিচালক মো. কবির হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের চারজন কর্মকর্তা বলেন, ‘রূপপুর প্রকল্পের বেশিরভাগ মালামাল আসে পানিপথে, কিছু আসে বিমানে। এগুলোর আমদানি ও স্থাপনের দায়িত্ব রাশিয়ান ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু প্রকল্প এলাকায় মালামাল পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত এর দায় প্রকল্প কর্তৃপক্ষের নয়।’

একজন কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা রাশিয়ানদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা জানিয়েছেন, এমন কোনো শিপমেন্ট সম্পর্কে তারা অবগত নন। তাছাড়া মমতা ট্রেডিং নামের কোনো প্রতিষ্ঠানকেও তারা কোনো কাজ দেয়নি।’

সাব-কন্ট্রাক্টরদের গোলকধাঁধা প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়ার মূল ঠিকাদার ‘রসাটম’ তাদের কাজের সুবিধার্থে স্থানীয় অনেক প্রতিষ্ঠানকে সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। সেই সাব-কন্ট্রাক্টররা আবার অন্য প্রতিষ্ঠানকে সাব-কন্ট্রাক্ট দেয়। ফলে মালামাল কোথা থেকে আসছে, কীভাবে আসছে-সব তথ্য সবসময় মূল ঠিকাদার বা প্রকল্প কর্তৃপক্ষের জানা থাকে না।

সূত্রটির ভাষায়, ‘যদি সত্যিই ১৮ টন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম রাশিয়া থেকে আসে, তবে রাশিয়ানদের না জানার প্রশ্নই ওঠে না। ঘটনাটি নিঃসন্দেহে রহস্যজনক এবং বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন।’