ঢাকা ১০:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বড় দুর্নীতির তদন্তে দুদকের ধীরগতি কেন?

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:২১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৬৭ বার পড়া হয়েছে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ওঠা বড় দুর্নীতির জট এক বছরেও খুলতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মেগা প্রকল্পে ৮০ হাজার কোটি টাকা লুট, ৩০০ মিলিয়ন ডলার পাচার, বিমানবন্দর কিংবা বিদ্যুৎ খাতসহ ১৫ বছরে হাসিনা-জয়সহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির খোঁজে মাঠে নেমেছিল সংস্থাটি। তবে চার্জশিট হয়েছে কেবল পূর্বাচলে ভুয়া তথ্য দিয়ে প্লট নেয়ার মামলায়। বাকি ফাইল আটকে আছে চিঠি চালাচালি ও আর কর্মকর্তার রদবদলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় দুর্নীতি তদন্তে ধীরগতি দুদকের অক্ষমতা স্পষ্ট, আর দেরিতে নষ্ট হতে পারে আলামতও।

অভ্যুত্থানের মুখে দেশ থেকে পালানোর পর থেকে বিগত ১৫ বছরে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের দুর্নীতির ফিরিস্তি একে একে জমা হতে থাকে দুদকে। এসব দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা মেলায় অনুসন্ধানে একাধিক ফাইলও খোলে সংস্থাটি।

শেখ হাসিনা-জয়সহ সংশ্লিষ্টদের অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ ৯ মেগা প্রকল্প থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট, বিদেশে ৩০০ মিলিয়ন ডলার পাচার, পূর্বাচল প্রকল্পে নিয়ম ভেঙে প্লট গ্রহণ, বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে আত্মসাৎ, বিদ্যুৎ খাতে লুটপাটসহ একাধিক অনুসন্ধান।

এমনকি ২০০৮ সালের নির্বাচনী হলফনামায় শেখ হাসিনার মিথ্যা তথ্য প্রদানের প্রমাণ ঘটা করে জানান দেয় দুদক। কিন্তু পূর্বাচলে প্লট গ্রহণের মামলার চার্জশিট ছাড়া বাকিসব অনুসন্ধান বছর পেরিয়ে গেলেও আলোর মুখ দেখেনি। জানতে চাইলে পূর্বাচলের তদন্তের সফলতার কথা শোনান দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ৬টি মামলা চলমান অবস্থায় রয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণের পরে অক্টোবরের শেষদিকে বা নভেম্বরের প্রথমদিকে আদালতের রায় পাওয়া যেতে পারে।

শেখ হাসিনার বড় দুর্নীতি দৃশ্যপটে আনতে না পারা দুদকের ব্যর্থতা বলে মনে করেন দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মঈদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিশাল আর্থিক লুটপাটের ঘটনাগুলো এখনই উদ্‌ঘাটন না করতে পারলে যত সময় যাবে; ততই প্রমাণ ও সাক্ষ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে অসুবিধা হবে।

আর দুদকের কাজের গতি আনতে আমলাতান্ত্রিক প্রভাব মুক্ত করতে হবে বলে মত দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সাজুর তিনি বলেন, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গড়ে তুলতে হলে আমলা নির্ভরতা অবশ্যই কমাতে হবে।

অবশ্য সজীব ওয়াজেদ জয়ের অবৈধ সম্পদ আর সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সূচনা ফাউন্ডেশনের অর্থ লুটের ঘটনায় মামলা করেছে দুদক।

আপলোডকারীর তথ্য

অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়?

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বড় দুর্নীতির তদন্তে দুদকের ধীরগতি কেন?

আপডেট সময় : ০২:২১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ওঠা বড় দুর্নীতির জট এক বছরেও খুলতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মেগা প্রকল্পে ৮০ হাজার কোটি টাকা লুট, ৩০০ মিলিয়ন ডলার পাচার, বিমানবন্দর কিংবা বিদ্যুৎ খাতসহ ১৫ বছরে হাসিনা-জয়সহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির খোঁজে মাঠে নেমেছিল সংস্থাটি। তবে চার্জশিট হয়েছে কেবল পূর্বাচলে ভুয়া তথ্য দিয়ে প্লট নেয়ার মামলায়। বাকি ফাইল আটকে আছে চিঠি চালাচালি ও আর কর্মকর্তার রদবদলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় দুর্নীতি তদন্তে ধীরগতি দুদকের অক্ষমতা স্পষ্ট, আর দেরিতে নষ্ট হতে পারে আলামতও।

অভ্যুত্থানের মুখে দেশ থেকে পালানোর পর থেকে বিগত ১৫ বছরে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের দুর্নীতির ফিরিস্তি একে একে জমা হতে থাকে দুদকে। এসব দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা মেলায় অনুসন্ধানে একাধিক ফাইলও খোলে সংস্থাটি।

শেখ হাসিনা-জয়সহ সংশ্লিষ্টদের অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ ৯ মেগা প্রকল্প থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট, বিদেশে ৩০০ মিলিয়ন ডলার পাচার, পূর্বাচল প্রকল্পে নিয়ম ভেঙে প্লট গ্রহণ, বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে আত্মসাৎ, বিদ্যুৎ খাতে লুটপাটসহ একাধিক অনুসন্ধান।

এমনকি ২০০৮ সালের নির্বাচনী হলফনামায় শেখ হাসিনার মিথ্যা তথ্য প্রদানের প্রমাণ ঘটা করে জানান দেয় দুদক। কিন্তু পূর্বাচলে প্লট গ্রহণের মামলার চার্জশিট ছাড়া বাকিসব অনুসন্ধান বছর পেরিয়ে গেলেও আলোর মুখ দেখেনি। জানতে চাইলে পূর্বাচলের তদন্তের সফলতার কথা শোনান দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ৬টি মামলা চলমান অবস্থায় রয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণের পরে অক্টোবরের শেষদিকে বা নভেম্বরের প্রথমদিকে আদালতের রায় পাওয়া যেতে পারে।

শেখ হাসিনার বড় দুর্নীতি দৃশ্যপটে আনতে না পারা দুদকের ব্যর্থতা বলে মনে করেন দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মঈদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিশাল আর্থিক লুটপাটের ঘটনাগুলো এখনই উদ্‌ঘাটন না করতে পারলে যত সময় যাবে; ততই প্রমাণ ও সাক্ষ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে অসুবিধা হবে।

আর দুদকের কাজের গতি আনতে আমলাতান্ত্রিক প্রভাব মুক্ত করতে হবে বলে মত দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সাজুর তিনি বলেন, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গড়ে তুলতে হলে আমলা নির্ভরতা অবশ্যই কমাতে হবে।

অবশ্য সজীব ওয়াজেদ জয়ের অবৈধ সম্পদ আর সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সূচনা ফাউন্ডেশনের অর্থ লুটের ঘটনায় মামলা করেছে দুদক।