ঢাকা ০৯:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলি বোমা ও ড্রোনের শব্দ ছাড়াই গাজার প্রথম রাত

যুদ্ধবিরতির পর গাজা শহরে ফিরছে ফিলিস্তিনিরা।

গাজায় গত দুই বছরে কখনো দেখা যায়নি – এমন একটি রাত কাটিয়েছে ফিলিস্তিনিরা। এই রাতে সেখানে ইসরায়েলি ড্রোন ও বিস্ফোরণের শব্দ ছিল না।

শনিবার (১১ অক্টোবর) গাজা থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খোদারি বলেন, কয়েক মাসের মধ্যে গত রাত ছিল প্রথম রাত, যেখানে ধ্বংসপ্রাপ্ত রাস্তা দিয়ে বিমান হামলা হচ্ছে না, অ্যাম্বুলেন্সের ছোটাছুটি দেখা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘আজ রাতে গাজার ওপর দিয়ে যা ঘটছে, তা হলো আশা। কোন ড্রোন নেই। কোন বোমা নেই। আকাশ কমলা দেখা যায়নি। শুধু নীরবতা। এটি প্রায় অদ্ভুত মনে হচ্ছে।’

কজন ব্যক্তি আল জাজিরাকে বলেছেন, ‘আজ ড্রোনগুলো বন্ধ হয়ে গেছে এবং আর কোনো গুঞ্জন নেই। আমরা নিরাপদ, আমাদের শিশুরা নিরাপদ। আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে শান্তিতে একত্রিত হয়েছি, এটা ভালো।’

দক্ষিণ গাজার জনাকীর্ণ অস্থায়ী শিবিরগুলোতে বারবার বাস্তুচ্যুত হওয়া পরিবারগুলো অবশেষে শান্তির মুহূর্ত খুঁজে পাচ্ছে। স্থানীয় একজন নারী আল জাজিরাকে বলেন, গত দুই বছরে আমরা যে সমস্ত যন্ত্রণা সহ্য করেছি এবং যা দেখেছি তা সত্ত্বেও, আমি যুদ্ধবিরতিতে খুশি।

তিনি বলেন, আমাদের ভেতরের ভয় চলে গেছে এবং এখন আমরা আমাদের প্রিয়জন, আমাদের পরিবার, প্রতিবেশী এবং বন্ধুদের দেখতে পাচ্ছি – যারা এখনো বেঁচে আছে। যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার পর থেকে, আমি সত্যিই খুশি। আজ আমি বাজারে গিয়ে আমার বোনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম, আমি তাকে দুই বছর ধরে দেখিনি। তাকে দেখে আমার হৃদয় সত্যিকারের আনন্দে পূর্ণ হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গাজা উপত্যকায় গতকাল শুক্রবার দখলদার ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টার দিকে ইসরায়েলি সেনারা জনবহুল এলাকা থেকে সরে যায়। এরপর থেকেই দলে দলে বাস্তুচ্যুত মানুষ নিজেদের বাড়ির পথে যাত্রা শুরু করেছে। উপকূলবর্তী সড়কগুলোতে দেখা গেছে মানুষের ঢল।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

ইসরায়েলি বোমা ও ড্রোনের শব্দ ছাড়াই গাজার প্রথম রাত

আপডেট সময় : ০৬:১৯:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

যুদ্ধবিরতির পর গাজা শহরে ফিরছে ফিলিস্তিনিরা।

গাজায় গত দুই বছরে কখনো দেখা যায়নি – এমন একটি রাত কাটিয়েছে ফিলিস্তিনিরা। এই রাতে সেখানে ইসরায়েলি ড্রোন ও বিস্ফোরণের শব্দ ছিল না।

শনিবার (১১ অক্টোবর) গাজা থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খোদারি বলেন, কয়েক মাসের মধ্যে গত রাত ছিল প্রথম রাত, যেখানে ধ্বংসপ্রাপ্ত রাস্তা দিয়ে বিমান হামলা হচ্ছে না, অ্যাম্বুলেন্সের ছোটাছুটি দেখা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘আজ রাতে গাজার ওপর দিয়ে যা ঘটছে, তা হলো আশা। কোন ড্রোন নেই। কোন বোমা নেই। আকাশ কমলা দেখা যায়নি। শুধু নীরবতা। এটি প্রায় অদ্ভুত মনে হচ্ছে।’

কজন ব্যক্তি আল জাজিরাকে বলেছেন, ‘আজ ড্রোনগুলো বন্ধ হয়ে গেছে এবং আর কোনো গুঞ্জন নেই। আমরা নিরাপদ, আমাদের শিশুরা নিরাপদ। আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে শান্তিতে একত্রিত হয়েছি, এটা ভালো।’

দক্ষিণ গাজার জনাকীর্ণ অস্থায়ী শিবিরগুলোতে বারবার বাস্তুচ্যুত হওয়া পরিবারগুলো অবশেষে শান্তির মুহূর্ত খুঁজে পাচ্ছে। স্থানীয় একজন নারী আল জাজিরাকে বলেন, গত দুই বছরে আমরা যে সমস্ত যন্ত্রণা সহ্য করেছি এবং যা দেখেছি তা সত্ত্বেও, আমি যুদ্ধবিরতিতে খুশি।

তিনি বলেন, আমাদের ভেতরের ভয় চলে গেছে এবং এখন আমরা আমাদের প্রিয়জন, আমাদের পরিবার, প্রতিবেশী এবং বন্ধুদের দেখতে পাচ্ছি – যারা এখনো বেঁচে আছে। যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার পর থেকে, আমি সত্যিই খুশি। আজ আমি বাজারে গিয়ে আমার বোনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম, আমি তাকে দুই বছর ধরে দেখিনি। তাকে দেখে আমার হৃদয় সত্যিকারের আনন্দে পূর্ণ হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গাজা উপত্যকায় গতকাল শুক্রবার দখলদার ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টার দিকে ইসরায়েলি সেনারা জনবহুল এলাকা থেকে সরে যায়। এরপর থেকেই দলে দলে বাস্তুচ্যুত মানুষ নিজেদের বাড়ির পথে যাত্রা শুরু করেছে। উপকূলবর্তী সড়কগুলোতে দেখা গেছে মানুষের ঢল।