ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজেট পাসে ব্যর্থ সিনেট, ছয় বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে ফের সরকার শাটডাউন

যুক্তরাষ্ট্রে ছয় বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ফের শুরু হয়েছে সরকার শাটডাউন। বাজেট নিয়ে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে অচলাবস্থার কারণে সময়মতো ব্যয়বিল পাস না হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ১ অক্টোবর, স্থানীয় সময় মধ্যরাত থেকে সরকারি কার্যক্রমের বড় একটি অংশ স্থগিত হয়ে গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সিনেটে শেষ মুহূর্তের অর্থায়ন বিল পাস না হওয়ায়, সরকারের অধিকাংশ ফেডারেল সংস্থা এখন আইন অনুযায়ী কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। এই শাটডাউনের ফলে বিপুলসংখ্যক সরকারি কর্মী বেতন ছাড়াই ছুটিতে যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ বেতন ছাড়াই জরুরি পরিষেবা চালিয়ে যাবেন। শাটডাউনের আওতায় সরকারি সেবার অনেক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ বড় শাটডাউন হয়েছিল ২০১৮-২০১৯ সালে। তখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে বাজেট বরাদ্দ চেয়ে কংগ্রেসে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ডেমোক্র্যাটদের আপত্তির মুখে সেই বিল পাস হয়নি। ফলে শাটডাউন দীর্ঘ ৩৫ দিন পর্যন্ত গড়িয়েছিল, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ শাটডাউন হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

নতুন করে শুরু হওয়া এ শাটডাউনের ফলে বিভিন্ন ফেডারেল এজেন্সি, গবেষণা কার্যক্রম, পাসপোর্ট অফিস, জাতীয় উদ্যান, ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ফেডারেল সরকারের অধীন লাখো কর্মী। তারা কেউ বেতন ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছেন, কেউ আবার কাজ থেকে সাময়িক অব্যাহতি পেয়েছেন।

শাটডাউনের সময় শুধু জাতীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত রক্ষা, জরুরি চিকিৎসা এবং আকাশপথ নিয়ন্ত্রণের মতো বিভাগগুলো খোলা থাকে। অন্যান্য বিভাগগুলোকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ হিসেবে চিহ্নিত করে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ সেবা কার্যক্রমও বন্ধ থাকছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট বছর শুরু হয় ১ অক্টোবর থেকে। প্রতি বছর ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন অর্থবছরের ব্যয় বাজেট পাস করতে হয়। কিন্তু এবার কংগ্রেসের দুই কক্ষে দলীয় মতানৈক্যের কারণে সময়মতো বাজেট পাস সম্ভব হয়নি। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মতভেদ এতটাই প্রকট যে, অন্তর্বর্তীকালীন অর্থায়ন প্রস্তাবও গৃহীত হয়নি।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজের মামলায় নিজেই লড়তে চান শামসুল হক টুকু

বাজেট পাসে ব্যর্থ সিনেট, ছয় বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে ফের সরকার শাটডাউন

আপডেট সময় : ১২:০২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রে ছয় বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ফের শুরু হয়েছে সরকার শাটডাউন। বাজেট নিয়ে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে অচলাবস্থার কারণে সময়মতো ব্যয়বিল পাস না হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ১ অক্টোবর, স্থানীয় সময় মধ্যরাত থেকে সরকারি কার্যক্রমের বড় একটি অংশ স্থগিত হয়ে গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সিনেটে শেষ মুহূর্তের অর্থায়ন বিল পাস না হওয়ায়, সরকারের অধিকাংশ ফেডারেল সংস্থা এখন আইন অনুযায়ী কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। এই শাটডাউনের ফলে বিপুলসংখ্যক সরকারি কর্মী বেতন ছাড়াই ছুটিতে যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ বেতন ছাড়াই জরুরি পরিষেবা চালিয়ে যাবেন। শাটডাউনের আওতায় সরকারি সেবার অনেক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ বড় শাটডাউন হয়েছিল ২০১৮-২০১৯ সালে। তখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে বাজেট বরাদ্দ চেয়ে কংগ্রেসে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ডেমোক্র্যাটদের আপত্তির মুখে সেই বিল পাস হয়নি। ফলে শাটডাউন দীর্ঘ ৩৫ দিন পর্যন্ত গড়িয়েছিল, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ শাটডাউন হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

নতুন করে শুরু হওয়া এ শাটডাউনের ফলে বিভিন্ন ফেডারেল এজেন্সি, গবেষণা কার্যক্রম, পাসপোর্ট অফিস, জাতীয় উদ্যান, ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ফেডারেল সরকারের অধীন লাখো কর্মী। তারা কেউ বেতন ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছেন, কেউ আবার কাজ থেকে সাময়িক অব্যাহতি পেয়েছেন।

শাটডাউনের সময় শুধু জাতীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত রক্ষা, জরুরি চিকিৎসা এবং আকাশপথ নিয়ন্ত্রণের মতো বিভাগগুলো খোলা থাকে। অন্যান্য বিভাগগুলোকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ হিসেবে চিহ্নিত করে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ সেবা কার্যক্রমও বন্ধ থাকছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট বছর শুরু হয় ১ অক্টোবর থেকে। প্রতি বছর ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন অর্থবছরের ব্যয় বাজেট পাস করতে হয়। কিন্তু এবার কংগ্রেসের দুই কক্ষে দলীয় মতানৈক্যের কারণে সময়মতো বাজেট পাস সম্ভব হয়নি। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মতভেদ এতটাই প্রকট যে, অন্তর্বর্তীকালীন অর্থায়ন প্রস্তাবও গৃহীত হয়নি।