ঢাকা ০৯:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাগড়াছড়িতে কিশোরী ধর্ষণে সড়ক অবরোধ চলছে

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:৫১:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২৫৫ বার পড়া হয়েছে

খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে ডাকা সকাল-সন্ধ্যার সড়ক অবরোধ চলছে। 

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোর পাঁচটায় এই অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচির কারণে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি, খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সকালে জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ করেন অবরোধকারীরা।

শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে খাগড়াছড়ি পৌর শহর ঘুরে দেখা যায়, অবরোধের কারণে দূরপাল্লার কোনো বাস চলাচল করছে না। পর্যটকবাহী জিপসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচলও বন্ধ রয়েছে। তবে শহরের শাপলা চত্বর এলাকায় কিছু অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, অবরোধের সমর্থনে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কের চেঙ্গী সেতু, স্বনির্ভর এলাকা; খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কের পেরাছড়া, টেকনিক্যাল স্কুল, ভাইবোনছড়া, গাছবাগান; খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের চার মাইল, ৯ মাইল; এবং খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের মহালছড়ি ২৪ মাইল, সিঙ্গিবালা এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকেই অবরোধকারীরা সড়কে অবস্থান নেন।

কিছু স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলা হয় এবং কোথাও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। তবে পুলিশ গিয়ে কিছু এলাকায় পোড়া টায়ার ও গাছের গুঁড়ি সরিয়ে নেয়।

‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’র মুখপাত্র উক্যেনু মারমা সকাল আটটার দিকে বলেন, এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে পূর্বনির্ধারিত অবরোধ চলছে। সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে এ কর্মসূচি পালনের অনুরোধ করছি।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বাতেন মৃধা বলেন, রাস্তায় দু-একটি টায়ার পোড়ানো হয়েছে, কিছু জায়গায় ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কিছু বাস পুলিশি পাহারায় শহরে নিয়ে আসা হয়েছে। কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে ওই কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ওই রাত ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে একটি খেত থেকে উদ্ধার করেন স্বজনেরা।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাকে ছয় দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

ওই কিশোরীর বাবা বলেন, আমার মেয়ে প্রতিদিন সন্ধ্যায় প্রাইভেট পড়তে যেত এবং রাত ৯টার দিকে বাসায় ফিরত—এটাই ছিল তার নিয়মিত রুটিন। তবে মঙ্গলবার সে নির্ধারিত সময়মতো না ফেরায় আমরা ওই শিক্ষকের বাসায় যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি, অন্যান্য দিনের মতোই প্রাইভেট ক্লাস শেষ হয়েছে। এরপর স্থানীয়দের নিয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। একপর্যায়ে রাত ১১টার দিকে তাকে একটি ফসলি খেতে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়?

খাগড়াছড়িতে কিশোরী ধর্ষণে সড়ক অবরোধ চলছে

আপডেট সময় : ১১:৫১:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে ডাকা সকাল-সন্ধ্যার সড়ক অবরোধ চলছে। 

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোর পাঁচটায় এই অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচির কারণে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি, খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সকালে জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ করেন অবরোধকারীরা।

শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে খাগড়াছড়ি পৌর শহর ঘুরে দেখা যায়, অবরোধের কারণে দূরপাল্লার কোনো বাস চলাচল করছে না। পর্যটকবাহী জিপসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচলও বন্ধ রয়েছে। তবে শহরের শাপলা চত্বর এলাকায় কিছু অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, অবরোধের সমর্থনে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কের চেঙ্গী সেতু, স্বনির্ভর এলাকা; খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কের পেরাছড়া, টেকনিক্যাল স্কুল, ভাইবোনছড়া, গাছবাগান; খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের চার মাইল, ৯ মাইল; এবং খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের মহালছড়ি ২৪ মাইল, সিঙ্গিবালা এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকেই অবরোধকারীরা সড়কে অবস্থান নেন।

কিছু স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলা হয় এবং কোথাও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। তবে পুলিশ গিয়ে কিছু এলাকায় পোড়া টায়ার ও গাছের গুঁড়ি সরিয়ে নেয়।

‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’র মুখপাত্র উক্যেনু মারমা সকাল আটটার দিকে বলেন, এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে পূর্বনির্ধারিত অবরোধ চলছে। সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে এ কর্মসূচি পালনের অনুরোধ করছি।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বাতেন মৃধা বলেন, রাস্তায় দু-একটি টায়ার পোড়ানো হয়েছে, কিছু জায়গায় ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কিছু বাস পুলিশি পাহারায় শহরে নিয়ে আসা হয়েছে। কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে ওই কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ওই রাত ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে একটি খেত থেকে উদ্ধার করেন স্বজনেরা।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাকে ছয় দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

ওই কিশোরীর বাবা বলেন, আমার মেয়ে প্রতিদিন সন্ধ্যায় প্রাইভেট পড়তে যেত এবং রাত ৯টার দিকে বাসায় ফিরত—এটাই ছিল তার নিয়মিত রুটিন। তবে মঙ্গলবার সে নির্ধারিত সময়মতো না ফেরায় আমরা ওই শিক্ষকের বাসায় যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি, অন্যান্য দিনের মতোই প্রাইভেট ক্লাস শেষ হয়েছে। এরপর স্থানীয়দের নিয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। একপর্যায়ে রাত ১১টার দিকে তাকে একটি ফসলি খেতে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।