ঢাকা ০৮:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবার নেপালের ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৩:১৭:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২৫৪ বার পড়া হয়েছে

নেপালে প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল নেপালি কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। চলমান বিক্ষোভের মধ্যে মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেয়া হয়েছে। খবর কাঠমান্ডু পোস্টের।

সরকারের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে চলতি সপ্তাহে রাজপথে বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর বিক্ষোভ দমনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দিলে তা আরও তীব্রতর হয়। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে ১৯ জন তরুণ বিক্ষোভকারী নিহত হয়। এতে বিক্ষোভ আরও বেগমান হয়েছে।

মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভের পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চলছে। প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের বাসভবনেও আগুন দেয়ার খবর পাওয়া গেছে। অনেকে মনে করছেন, চলমান এই বিক্ষোভ কেপি শর্মা ওলি সরকারকে পতনের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।
 
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, বিক্ষোভকারীরা নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌদেল এবং প্রধানমন্ত্রী ওলির ব্যক্তিগত বাসভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ভাঙচুর করছে।
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল ওরফে প্রচণ্ড ও শের বাহাদুর দেউবা এবং জ্বালানিমন্ত্রী দীপক খাড়কার বাড়িতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িঘর এবং প্রধান দলগুলোর অফিস লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ে এবং অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভকারীরা।
 
কাঠমান্ডু উপত্যকা এবং বেশ কয়েকটি জেলায় পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে। অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের জন্য প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছেন বলেও জানা গেছে। এর ফলে অনেক মন্ত্রী পদত্যাগ করছেন এবং সরকার থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিচ্ছেন।
 
এদিকে নেপালে বসবাসকারী ভারতীয়দের সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নয়াদিল্লি সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশটির (নেপাল) ঘটনাবলী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তার নাগরিকদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘গতকাল (সোমবার) থেকে আমরা নেপালের ঘটনাবলী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং অনেক তরুণের প্রাণহানির ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমাদের প্রার্থনা নিহতদের পরিবারের সাথে আছে। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’ 
 
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং প্রতিবেশী’ হিসেবে ভারত আশা করে, সংশ্লিষ্ট সবাই সংযম দেখাবে এবং শান্তিপূর্ণ উপায় ও সংলাপের মাধ্যমে যেকোনো সমস্যা সমাধান করবে।
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

এবার নেপালের ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন

আপডেট সময় : ০৩:১৭:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নেপালে প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল নেপালি কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। চলমান বিক্ষোভের মধ্যে মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেয়া হয়েছে। খবর কাঠমান্ডু পোস্টের।

সরকারের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে চলতি সপ্তাহে রাজপথে বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর বিক্ষোভ দমনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দিলে তা আরও তীব্রতর হয়। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে ১৯ জন তরুণ বিক্ষোভকারী নিহত হয়। এতে বিক্ষোভ আরও বেগমান হয়েছে।

মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভের পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চলছে। প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের বাসভবনেও আগুন দেয়ার খবর পাওয়া গেছে। অনেকে মনে করছেন, চলমান এই বিক্ষোভ কেপি শর্মা ওলি সরকারকে পতনের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।
 
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, বিক্ষোভকারীরা নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌদেল এবং প্রধানমন্ত্রী ওলির ব্যক্তিগত বাসভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ভাঙচুর করছে।
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল ওরফে প্রচণ্ড ও শের বাহাদুর দেউবা এবং জ্বালানিমন্ত্রী দীপক খাড়কার বাড়িতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িঘর এবং প্রধান দলগুলোর অফিস লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ে এবং অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভকারীরা।
 
কাঠমান্ডু উপত্যকা এবং বেশ কয়েকটি জেলায় পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে। অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের জন্য প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছেন বলেও জানা গেছে। এর ফলে অনেক মন্ত্রী পদত্যাগ করছেন এবং সরকার থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিচ্ছেন।
 
এদিকে নেপালে বসবাসকারী ভারতীয়দের সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নয়াদিল্লি সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশটির (নেপাল) ঘটনাবলী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তার নাগরিকদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘গতকাল (সোমবার) থেকে আমরা নেপালের ঘটনাবলী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং অনেক তরুণের প্রাণহানির ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমাদের প্রার্থনা নিহতদের পরিবারের সাথে আছে। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’ 
 
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং প্রতিবেশী’ হিসেবে ভারত আশা করে, সংশ্লিষ্ট সবাই সংযম দেখাবে এবং শান্তিপূর্ণ উপায় ও সংলাপের মাধ্যমে যেকোনো সমস্যা সমাধান করবে।