ঢাকা ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

২৮ বছর পরও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে প্রিন্সেস ডায়ানার শেষ কথা

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৪১:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
  • ২৬৩ বার পড়া হয়েছে
আজ রোববার (৩১ আগস্ট) প্রিন্সেস ডায়ানার ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৭ সালের এই দিনে ফ্রান্সের প্যারিসে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মাত্র ৩৬ বছর বয়সে প্রাণ হারান যুক্তরাজ্যের প্রাক্তন রাজবধূ, প্রিন্সেস অব ওয়েলস ডায়ানা। তার মৃত্যু সংবাদে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছিল বিশ্ববাসী।

‘দ্য পিপল’স প্রিন্সেস’ নামে খ্যাত ডায়ানা রাজকীয় মর্যাদা ছাড়িয়ে ছিলেন সাধারণ মানুষের আপনজন। তার সৌন্দর্য, মানবিকতা ও দয়ার মনোভাব তাকে এনে দিয়েছিল এক অনন্য মর্যাদা।

ডায়ানা সেদিন প্যারিসের একটি টানেলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় মার্সিডিজ গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন হেনরি পল, যিনি পরে তদন্তে মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে জানা যায়। গাড়িতে ডায়ানার সঙ্গী দোদি ফায়েদও ছিলেন। ঘটনাস্থলে মারা যান তিনজনই।

সরকারি তদন্তে দুর্ঘটনার জন্য অতিরিক্ত গতি ও চালকের নেশাগ্রস্ত অবস্থাকে দায়ী করা হলেও, ডায়ানার মৃত্যু ঘিরে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও নানা প্রশ্ন আজও ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনেকেই মনে করেন, তার মৃত্যুর আসল কারণ এখনো ধোঁয়াশায় ঢাকা।

সেই রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এক দমকলকর্মী জানিয়েছিলেন, তিনি যখন ডায়ানাকে উদ্ধার করছিলেন, তখন তিনি কাতর কণ্ঠে বলেছিলেন, “হে ঈশ্বর, কী ঘটে গেল?” পরে জানতে পারেন, যাকে তিনি উদ্ধার করছিলেন, তিনি ছিলেন প্রিন্সেস ডায়ানা। এটি ছিল হয়তো তার জীবনের শেষ শব্দ।

ডায়ানার মৃত্যু বিশ্বজুড়ে মানবিকতা ও করুণার প্রতীক হিসেবে তার চিরস্থায়ী অবস্থান তৈরি করেছে। তিনি যুদ্ধক্ষেত্রের ক্ষতিগ্রস্ত শিশু, এইডস আক্রান্ত রোগী কিংবা ভূমিমাইন আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যেভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, তা আজও মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

তবে ডায়ানার স্মৃতিকে ঘিরে সম্প্রতি নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম জানিয়েছে, তার দুই পুত্র প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারি ২০২৭ সালে মায়ের স্মরণে আলাদা দুটি তথ্যচিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এই পৃথক প্রকল্প দুটির কারণে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের দূরত্ব আরও বাড়তে পারে এবং ডায়ানার উত্তরাধিকার নিয়েও তৈরি হতে পারে নতুন বিতর্ক।

তবুও, আজকের দিনে পৃথিবীর নানা প্রান্তে লাখো মানুষ স্মরণ করছে সেই নারীকে। তিনি ছিলেন হৃদয়ের রাজকন্যা, ‘দ্য পিপল’স প্রিন্সেস’। তার দয়া, সাহস ও মানবিকতা আজও অনুপ্রেরণা হয়ে বেঁচে আছে কোটি মানুষের মাঝে।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২৮ বছর পরও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে প্রিন্সেস ডায়ানার শেষ কথা

আপডেট সময় : ০২:৪১:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
আজ রোববার (৩১ আগস্ট) প্রিন্সেস ডায়ানার ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৭ সালের এই দিনে ফ্রান্সের প্যারিসে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মাত্র ৩৬ বছর বয়সে প্রাণ হারান যুক্তরাজ্যের প্রাক্তন রাজবধূ, প্রিন্সেস অব ওয়েলস ডায়ানা। তার মৃত্যু সংবাদে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছিল বিশ্ববাসী।

‘দ্য পিপল’স প্রিন্সেস’ নামে খ্যাত ডায়ানা রাজকীয় মর্যাদা ছাড়িয়ে ছিলেন সাধারণ মানুষের আপনজন। তার সৌন্দর্য, মানবিকতা ও দয়ার মনোভাব তাকে এনে দিয়েছিল এক অনন্য মর্যাদা।

ডায়ানা সেদিন প্যারিসের একটি টানেলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় মার্সিডিজ গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন হেনরি পল, যিনি পরে তদন্তে মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে জানা যায়। গাড়িতে ডায়ানার সঙ্গী দোদি ফায়েদও ছিলেন। ঘটনাস্থলে মারা যান তিনজনই।

সরকারি তদন্তে দুর্ঘটনার জন্য অতিরিক্ত গতি ও চালকের নেশাগ্রস্ত অবস্থাকে দায়ী করা হলেও, ডায়ানার মৃত্যু ঘিরে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও নানা প্রশ্ন আজও ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনেকেই মনে করেন, তার মৃত্যুর আসল কারণ এখনো ধোঁয়াশায় ঢাকা।

সেই রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এক দমকলকর্মী জানিয়েছিলেন, তিনি যখন ডায়ানাকে উদ্ধার করছিলেন, তখন তিনি কাতর কণ্ঠে বলেছিলেন, “হে ঈশ্বর, কী ঘটে গেল?” পরে জানতে পারেন, যাকে তিনি উদ্ধার করছিলেন, তিনি ছিলেন প্রিন্সেস ডায়ানা। এটি ছিল হয়তো তার জীবনের শেষ শব্দ।

ডায়ানার মৃত্যু বিশ্বজুড়ে মানবিকতা ও করুণার প্রতীক হিসেবে তার চিরস্থায়ী অবস্থান তৈরি করেছে। তিনি যুদ্ধক্ষেত্রের ক্ষতিগ্রস্ত শিশু, এইডস আক্রান্ত রোগী কিংবা ভূমিমাইন আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যেভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, তা আজও মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

তবে ডায়ানার স্মৃতিকে ঘিরে সম্প্রতি নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম জানিয়েছে, তার দুই পুত্র প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারি ২০২৭ সালে মায়ের স্মরণে আলাদা দুটি তথ্যচিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এই পৃথক প্রকল্প দুটির কারণে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের দূরত্ব আরও বাড়তে পারে এবং ডায়ানার উত্তরাধিকার নিয়েও তৈরি হতে পারে নতুন বিতর্ক।

তবুও, আজকের দিনে পৃথিবীর নানা প্রান্তে লাখো মানুষ স্মরণ করছে সেই নারীকে। তিনি ছিলেন হৃদয়ের রাজকন্যা, ‘দ্য পিপল’স প্রিন্সেস’। তার দয়া, সাহস ও মানবিকতা আজও অনুপ্রেরণা হয়ে বেঁচে আছে কোটি মানুষের মাঝে।