সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের তরমুজ। অসময়ে এমন বাম্পার ফলনে আনন্দে ভরপুর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার কৃষকরা। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে এসব তরমুজ বাজারজাত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাকুন্দিয়ার চণ্ডিপাশা ইউনিয়নের ষাইটকাহন গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন প্রথমবারের মতো তরমুজ চাষ করে পেয়েছেন সফলতা। ৪০ শতক জমিতে সুইট ব্ল্যাক-২ জাতের তরমুজ রোপণ করেন তিনি। ৫৫ দিনে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০-৪০ হাজার টাকা। বর্তমানে জমিতে রয়েছে প্রায় ১২-১৪ শত তরমুজগাছ, প্রতিটি গাছে ৪-৫টি করে ফল এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে তিন থেকে চারগুণ পর্যন্ত লাভের আশা করছেন তিনি।
জানা গেছে, যে জমি এতদিন পতিত পড়ে থাকতো, সেখানে মাত্র দুই মাসের কম সময়ে তরমুজ ফলিয়ে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। জসিমের সাফল্য দেখে আশেপাশের কৃষকরাও তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
স্থানীয় কৃষক সুরুজ, কালাম ও মতি মিয়া বলেন, ‘জসিমের জমিতে তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। এখন বাজারদর কেমন থাকে, তা দেখেই আমরাও সিদ্ধান্ত নেবো তরমুজ চাষে’।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, তরমুজ চাষ অল্প সময়ে কম খরচে বেশি লাভের সুযোগ তৈরি করে দেয়। সাধারণত ৭০ থেকে ৭৫ দিনে ফসল ঘরে তোলা যায়। এ বছর পাকুন্দিয়ায় প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চণ্ডিপাশা ইউনিয়নে। বিঘাপ্রতি ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ করে কৃষকেরা এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত লাভবান হচ্ছেন।
ঘাগড়া ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জুনের শেষের দিকে জসিম তরমুজ আবাদ করেন। প্রথমবারেই তিনি ভালো ফলন পেয়েছেন। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে তরমুজ সংগ্রহ শুরু হবে। অন্য কৃষকরাও আগ্রহী হচ্ছেন।‘
পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুর-ই-আলম বলেন, ‘আমরা কৃষকদের বাণিজ্যিক চাষাবাদে উৎসাহিত করছি। এতে তারা স্বল্প সময়ে বেশি মুনাফা পাচ্ছেন। জসিমের মতো আরও অনেকে সফল হচ্ছেন, যা অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করছে। কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকদের পাশে আছে’।
দিনকে দিন আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিতে ঝুঁকছেন উজান ভাটির কিশোরগঞ্জের কৃষকরা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে তরমুজ রপ্তানিরও সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চেতনায়২৪ ডেস্ক : 


































