মধ্যপ্রাচ্যের দখলদার ইসরায়েলের নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচারে নেওয়া পদক্ষেপের জেরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) চার বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বুধবার (২০ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন আইসিসির ফরাসি বিচারক নিকোলাস ইয়ান গুইলু, ফিজির নাজহাত শামীম খান, সেনেগালের মামে মানদিয়ায়ে নিয়াং এবং কানাডার কিম্বারলি প্রোস্ট। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণায়ও এ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত বছরের নভেম্বরে গাজা সংঘাতে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ত এবং হামাস নেতা ইব্রাহিম আল-মাসরির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আইসিসির বিচারকরা।
পরবর্তীকালে বিষয়টি নিয়ে আইসিসির প্রাক-বিচার প্যানেলের বিচারক গুইলু পরোয়ানার ঘোষণা দেন। ওই প্যানেলের প্রসিকিউটর ছিলেন নাজহাত শামীম খান ও মামে মানদিয়ায়ে নিয়াং।
এর আগে প্রায় তিন মাস আগে আইসিসির আরও চার বিচারকের ওপর একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। তখন যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, এসব বিচারক আইসিসির ‘‘অবৈধ ও ভিত্তিহীন পদক্ষেপে’’ জড়িত, যা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরায়েলকে নিশানা বানিয়েছে।
গত জুনে আইসিসি এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে জানায়, ওয়াশিংটন আদালতের স্বাধীনতাকে খর্ব করার চেষ্টা করছে। তবে সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।
২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে পারে, যদি তা সদস্য রাষ্ট্রে ঘটে বা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ থেকে রেফার করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ইসরায়েল এ আদালতের সদস্য নয়।
বর্তমানে আইসিসি ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ, রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন, সুদান, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, ভেনেজুয়েলা ও আফগানিস্তানসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধাপরাধ তদন্ত করছে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট চার বিচারকের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যে কোনো সম্পদ জব্দ হবে এবং তারা কার্যত মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে চলে যাবেন।