ঢাকা ১০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে দুই মেয়েসহ গুহা থেকে উদ্ধার রুশ নারীকে ঘিরে বাড়ছে রহস্য

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে রামতীর্থ পাহাড়ের একটি প্রত্যন্ত গুহা থেকে দুই সন্তানসহ এক রুশ নারীকে উদ্ধার করা হয়

রুশ নারী নিনা কুতিনা কবে ভারতে প্রবেশ করেছেন, কত দিন ধরে আছেন, কত দিন ধরে গুহায় বসবাস করছেন, তা বোঝার চেষ্টা করছে ভারতীয় পুলিশ। তারা তদন্তে নেমে নিনার গল্পের টুকরা টুকরা অংশ জোড়া দিয়ে এ রহস্যের কিনারা করতে চাইছে।

৯ জুলাই ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের গোকর্ণের রামতীর্থ পাহাড়ের একটি গুহা থেকে দুই সন্তানসহ নিনাকে উদ্ধার করে পুলিশ। গোকর্ণ বন এলাকা ভারতের পর্যটকপ্রিয় উপকূলীয় রাজ্য গোয়ার সীমান্তে অবস্থিত। সেখানে নিয়মিত টহলের সময় দুই মেয়েসহ নিনাকে খুঁজে পায় পুলিশ।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, নিনার বয়স ৪০ বছর, দুই মেয়ের বয়স ৬ ও ৫ বছর। তাঁরা ভারতে অবস্থান করার কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তাঁদের কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুর একটি আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। নিনা ও তাঁর মেয়েদের দ্রুতই ভারত থেকে বিতাড়িত করা হবে।

নিনা ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া দুটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে তাঁর জীবনযাপনের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি এবং তাঁর মেয়েরা গুহায় সুখেই ছিলেন এবং প্রকৃতি স্বাস্থ্য ভালো রাখে। কিন্তু তাঁদের উদ্ধার করার পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো পরিষ্কারভাবে জানা যায়নি, কীভাবে ওই নারী ও তাঁর সন্তানেরা সাপ ও বন্য প্রাণীতে ভরা ওই জঙ্গলে এলেন, কত দিন ধরে সেখানে ছিলেন এবং আদতে তাঁরা কারা

পুলিশ যেভাবে খুঁজে পায়

উত্তর কন্নড় জেলার পুলিশ সুপার এম নারায়ণ বিবিসিকে বলেন, ‘এই এলাকা পর্যটকদের মধ্যে, বিশেষ করে বিদেশিদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। তবে এখানে সাপের উপদ্রব অনেক বেশি এবং বিশেষ করে বর্ষাকালে প্রায়ই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা গত বছর থেকে এই বনে নিয়মিত টহল দেওয়া শুরু করেছি।’

টহল দলের সঙ্গে থাকা আরেক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, টহলের সময় কোথায় কী আছে, তা দেখার জন্য তাঁরা একটি ঢালু পাহাড় বেয়ে নেমে গিয়েছিলেন। হঠাৎ তাঁরা দেখতে পান একটি গুহার বাইরে শাড়ির পর্দা ঝুলছে, সামনে উজ্জ্বল রঙের কাপড়চোপড় শুকাতে দেওয়া হয়েছে।

নিনার বয়স ৪০ বছর, দুই মেয়ের বয়স ৬ ও ৫ বছর। তাঁরা ভারতে অবস্থান করার কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তাঁদের কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুর একটি আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এই পুলিশ কর্মকর্তা নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি। তিনি আরও বলেন, টহল দল গুহার কাছে পৌঁছালে সোনালি চুলের একটি ছোট্ট সুন্দর মেয়ে দৌড়ে বেরিয়ে আসে। স্তম্ভিত পুলিশ কর্মকর্তারা মেয়েটিকে অনুসরণ করে গুহার ভেতর ঢুকে নিনা কুতিনা ও তাঁর অন্য মেয়েকে দেখতে পান।

গুহার ভেতর তেমন কিছু ছিল না। শুধু প্লাস্টিকের মাদুর, কাপড়চোপড়, ইনস্ট্যান্ট নুডলসের প্যাকেট এবং কিছু খাবারদাবার। গুহার ভেতর পানি চুঁইয়ে পড়ছিল।

পুলিশ সেখানে যে ভিডিও করেছে, সেটা দেখেছে বিবিসি। ভিডিওতে উজ্জ্বল রঙের ভারতীয় পোশাক পরা শিশুদের ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাসতে দেখা যাচ্ছে।

এম নারায়ণ বলেন, ‘সেখানে ওই নারী এবং তাঁর সন্তানেরা আরামে ছিলেন বলেই মনে হয়েছে। সেখানে বসবাস করা যে বিপজ্জনক, ওই নারীকে তা বোঝাতে আমাদের বেশ খানিকটা সময় লেগেছে।’

পুলিশ আরও বলেছে, তারা যখন ওই নারীকে সাপ এবং অন্যান্য বন্য প্রাণীর কারণে গুহায় বসবাস করা অনিরাপদ বোঝাচ্ছিলেন, তখন ওই নারী বলেন, ‘বন্য প্রাণী ও সাপ আমাদের বন্ধু। মানুষই বিপজ্জনক।’

গুহা থেকে উদ্ধারের পর নিনা ও তাঁর মেয়েদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরীক্ষার পর তাঁরা সম্পূর্ণ সুস্থ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

নিনা কুতিনা কে

ভারতে বিদেশিদের নিবন্ধন দপ্তরের (এফআরআরও) একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, নিনা রুশ নাগরিক এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাঁকে তাঁর দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, তাঁরা চেন্নাইয়ে রুশ কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বিবিসিও দিল্লিতে রুশ দূতাবাসে এ বিষয়ে লিখিতভাবে জানতে চেয়েছে, তবে এখনো সাড়া মেলেনি।

ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই ও পিটিআইকে দেওয়া ভিডিও সাক্ষাৎকারে নিনা বলেন, তিনি রাশিয়ায় জন্মেছেন, তবে গত ১৫ বছর সেখানে থাকেননি। তিনি কোস্টারিকা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার বালি, থাইল্যান্ড, নেপাল, ইউক্রেনসহ অনেক দেশে ভ্রমণ করেছেন।

গুহায় ওই নারী এবং তাঁর সন্তানেরা আরামে ছিলেন বলেই মনে হয়েছে। সেখানে বসবাস করা যে বিপজ্জনক, ওই নারীকে তা বোঝাতে আমাদের বেশ খানিকটা সময় লেগেছে।

এম নারায়ণ, উত্তর কন্নড় জেলার পুলিশ সুপার।

নিনা আরও বলেন, তাঁর চার সন্তান। তাঁদের বয়স ২০ থেকে ৫ বছরের মধ্যে। তাঁর বড় ছেলে গত বছর গোয়ায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। কর্মকর্তারা বলেছেন, তাঁর দ্বিতীয় সন্তান ১১ বছরের একটি ছেলে, রাশিয়ায় বসবাস করে।

কর্মকর্তারা আরও বলেন, তাঁরা রুশ কনস্যুলেটকে নিনার দ্বিতীয় সন্তানের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার রাতে এফআরআরওর কর্মকর্তারা বলেন, তাঁরা নিনার দুই মেয়ের বাবাকে খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর নাম ড্রোর গোল্ডস্টেইন। তিনি একজন ইসরায়েলি ব্যবসায়ী। তিনি সে সময়ে ভারতে থাকায় এফআরআরওর কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে দেখা করে নিনা ও তাঁর মেয়েদের দেশে ফেরত পাঠানোর খরচ দিতে রাজি করানোর চেষ্টা করেছেন।

নিনা বলেছেন, তাঁর চার সন্তান। তাঁদের বয়স ২০ থেকে ৫ বছরের মধ্যে। তাঁর বড় ছেলে গত বছর গোয়ায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। পুলিশ বলেছে, তাঁর দ্বিতীয় সন্তান ১১ বছরের একটি ছেলে, রাশিয়ায় বসবাস করে।

গতকাল বুধবার গোল্ডস্টেইন এনডিটিভিকে বলেন, তাঁকে না জানিয়েই নিনা গোয়া ছাড়েন এবং তিনি তাঁদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পুলিশকে জানিয়েছেন।

এই ইসরায়েলি ব্যবসায়ী আরও বলেছেন, তিনি তাঁর মেয়েদের যৌথ অভিভাবকত্ব চান এবং সরকার যেন তাঁদের রাশিয়ায় পাঠাতে না পারে, সে জন্য তিনি সবকিছু করবেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

ভারতে দুই মেয়েসহ গুহা থেকে উদ্ধার রুশ নারীকে ঘিরে বাড়ছে রহস্য

আপডেট সময় : ০২:২৮:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে রামতীর্থ পাহাড়ের একটি প্রত্যন্ত গুহা থেকে দুই সন্তানসহ এক রুশ নারীকে উদ্ধার করা হয়

রুশ নারী নিনা কুতিনা কবে ভারতে প্রবেশ করেছেন, কত দিন ধরে আছেন, কত দিন ধরে গুহায় বসবাস করছেন, তা বোঝার চেষ্টা করছে ভারতীয় পুলিশ। তারা তদন্তে নেমে নিনার গল্পের টুকরা টুকরা অংশ জোড়া দিয়ে এ রহস্যের কিনারা করতে চাইছে।

৯ জুলাই ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের গোকর্ণের রামতীর্থ পাহাড়ের একটি গুহা থেকে দুই সন্তানসহ নিনাকে উদ্ধার করে পুলিশ। গোকর্ণ বন এলাকা ভারতের পর্যটকপ্রিয় উপকূলীয় রাজ্য গোয়ার সীমান্তে অবস্থিত। সেখানে নিয়মিত টহলের সময় দুই মেয়েসহ নিনাকে খুঁজে পায় পুলিশ।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, নিনার বয়স ৪০ বছর, দুই মেয়ের বয়স ৬ ও ৫ বছর। তাঁরা ভারতে অবস্থান করার কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তাঁদের কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুর একটি আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। নিনা ও তাঁর মেয়েদের দ্রুতই ভারত থেকে বিতাড়িত করা হবে।

নিনা ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া দুটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে তাঁর জীবনযাপনের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি এবং তাঁর মেয়েরা গুহায় সুখেই ছিলেন এবং প্রকৃতি স্বাস্থ্য ভালো রাখে। কিন্তু তাঁদের উদ্ধার করার পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো পরিষ্কারভাবে জানা যায়নি, কীভাবে ওই নারী ও তাঁর সন্তানেরা সাপ ও বন্য প্রাণীতে ভরা ওই জঙ্গলে এলেন, কত দিন ধরে সেখানে ছিলেন এবং আদতে তাঁরা কারা

পুলিশ যেভাবে খুঁজে পায়

উত্তর কন্নড় জেলার পুলিশ সুপার এম নারায়ণ বিবিসিকে বলেন, ‘এই এলাকা পর্যটকদের মধ্যে, বিশেষ করে বিদেশিদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। তবে এখানে সাপের উপদ্রব অনেক বেশি এবং বিশেষ করে বর্ষাকালে প্রায়ই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা গত বছর থেকে এই বনে নিয়মিত টহল দেওয়া শুরু করেছি।’

টহল দলের সঙ্গে থাকা আরেক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, টহলের সময় কোথায় কী আছে, তা দেখার জন্য তাঁরা একটি ঢালু পাহাড় বেয়ে নেমে গিয়েছিলেন। হঠাৎ তাঁরা দেখতে পান একটি গুহার বাইরে শাড়ির পর্দা ঝুলছে, সামনে উজ্জ্বল রঙের কাপড়চোপড় শুকাতে দেওয়া হয়েছে।

নিনার বয়স ৪০ বছর, দুই মেয়ের বয়স ৬ ও ৫ বছর। তাঁরা ভারতে অবস্থান করার কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তাঁদের কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুর একটি আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এই পুলিশ কর্মকর্তা নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি। তিনি আরও বলেন, টহল দল গুহার কাছে পৌঁছালে সোনালি চুলের একটি ছোট্ট সুন্দর মেয়ে দৌড়ে বেরিয়ে আসে। স্তম্ভিত পুলিশ কর্মকর্তারা মেয়েটিকে অনুসরণ করে গুহার ভেতর ঢুকে নিনা কুতিনা ও তাঁর অন্য মেয়েকে দেখতে পান।

গুহার ভেতর তেমন কিছু ছিল না। শুধু প্লাস্টিকের মাদুর, কাপড়চোপড়, ইনস্ট্যান্ট নুডলসের প্যাকেট এবং কিছু খাবারদাবার। গুহার ভেতর পানি চুঁইয়ে পড়ছিল।

পুলিশ সেখানে যে ভিডিও করেছে, সেটা দেখেছে বিবিসি। ভিডিওতে উজ্জ্বল রঙের ভারতীয় পোশাক পরা শিশুদের ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাসতে দেখা যাচ্ছে।

এম নারায়ণ বলেন, ‘সেখানে ওই নারী এবং তাঁর সন্তানেরা আরামে ছিলেন বলেই মনে হয়েছে। সেখানে বসবাস করা যে বিপজ্জনক, ওই নারীকে তা বোঝাতে আমাদের বেশ খানিকটা সময় লেগেছে।’

পুলিশ আরও বলেছে, তারা যখন ওই নারীকে সাপ এবং অন্যান্য বন্য প্রাণীর কারণে গুহায় বসবাস করা অনিরাপদ বোঝাচ্ছিলেন, তখন ওই নারী বলেন, ‘বন্য প্রাণী ও সাপ আমাদের বন্ধু। মানুষই বিপজ্জনক।’

গুহা থেকে উদ্ধারের পর নিনা ও তাঁর মেয়েদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরীক্ষার পর তাঁরা সম্পূর্ণ সুস্থ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

নিনা কুতিনা কে

ভারতে বিদেশিদের নিবন্ধন দপ্তরের (এফআরআরও) একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, নিনা রুশ নাগরিক এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাঁকে তাঁর দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, তাঁরা চেন্নাইয়ে রুশ কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বিবিসিও দিল্লিতে রুশ দূতাবাসে এ বিষয়ে লিখিতভাবে জানতে চেয়েছে, তবে এখনো সাড়া মেলেনি।

ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই ও পিটিআইকে দেওয়া ভিডিও সাক্ষাৎকারে নিনা বলেন, তিনি রাশিয়ায় জন্মেছেন, তবে গত ১৫ বছর সেখানে থাকেননি। তিনি কোস্টারিকা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার বালি, থাইল্যান্ড, নেপাল, ইউক্রেনসহ অনেক দেশে ভ্রমণ করেছেন।

গুহায় ওই নারী এবং তাঁর সন্তানেরা আরামে ছিলেন বলেই মনে হয়েছে। সেখানে বসবাস করা যে বিপজ্জনক, ওই নারীকে তা বোঝাতে আমাদের বেশ খানিকটা সময় লেগেছে।

এম নারায়ণ, উত্তর কন্নড় জেলার পুলিশ সুপার।

নিনা আরও বলেন, তাঁর চার সন্তান। তাঁদের বয়স ২০ থেকে ৫ বছরের মধ্যে। তাঁর বড় ছেলে গত বছর গোয়ায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। কর্মকর্তারা বলেছেন, তাঁর দ্বিতীয় সন্তান ১১ বছরের একটি ছেলে, রাশিয়ায় বসবাস করে।

কর্মকর্তারা আরও বলেন, তাঁরা রুশ কনস্যুলেটকে নিনার দ্বিতীয় সন্তানের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার রাতে এফআরআরওর কর্মকর্তারা বলেন, তাঁরা নিনার দুই মেয়ের বাবাকে খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর নাম ড্রোর গোল্ডস্টেইন। তিনি একজন ইসরায়েলি ব্যবসায়ী। তিনি সে সময়ে ভারতে থাকায় এফআরআরওর কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে দেখা করে নিনা ও তাঁর মেয়েদের দেশে ফেরত পাঠানোর খরচ দিতে রাজি করানোর চেষ্টা করেছেন।

নিনা বলেছেন, তাঁর চার সন্তান। তাঁদের বয়স ২০ থেকে ৫ বছরের মধ্যে। তাঁর বড় ছেলে গত বছর গোয়ায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। পুলিশ বলেছে, তাঁর দ্বিতীয় সন্তান ১১ বছরের একটি ছেলে, রাশিয়ায় বসবাস করে।

গতকাল বুধবার গোল্ডস্টেইন এনডিটিভিকে বলেন, তাঁকে না জানিয়েই নিনা গোয়া ছাড়েন এবং তিনি তাঁদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পুলিশকে জানিয়েছেন।

এই ইসরায়েলি ব্যবসায়ী আরও বলেছেন, তিনি তাঁর মেয়েদের যৌথ অভিভাবকত্ব চান এবং সরকার যেন তাঁদের রাশিয়ায় পাঠাতে না পারে, সে জন্য তিনি সবকিছু করবেন।