ঢাকা ০৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে হেফাজতের বিক্ষোভ সমাবেশ

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
  • ২৬২ বার পড়া হয়েছে

ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে শুক্রবার বাদ জুমা হেফাজতের বিক্ষোভ সমাবেশ

ঢাকায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের খসড়া অনুমোদন দেয়ার প্রতিবাদ এবং তা’ বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন ইসলামী দলের মাঝে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ঢাকায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ ও সার্বভৌমত্বে হুমকি বলে মনে করছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রে এ ধরনের কার্যালয় বসানো মূলত বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের ঘৃণ্য প্রচেষ্টা বলে মনে করেন তারা।

ঢাকায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুক্রবার (১০ জুলাই) বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরের সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ও নগর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক সকল ঈমানদার, দেশপ্রেমিক ও স্বাধীনতা-সচেতন নাগরিকদেরকে দলমত নির্বিশেষে আজকের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ঃ বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন প্রধান আমিরে শরীয়ত আল্লামা আবু জাফার কাসেমী ও মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন স্থাপনের অনুমোদনের তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশে কোন প্রকার মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে না যে বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপন করতে হবে। মানবাধিকার কার্যালয়ের নামে একজন সমকামীকে দূত হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে এটা ৯০% মুসলমানদের দেশে বড় লজ্জা এবং অপমান যেটা দেশের সাধারণ জনগণ এবং মুসলমান কোনদিন মেনে নিতে পারে না। প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে নেতৃদ্বয় বলেন, দ্রুত এই অনুমোদন বাতিল করুন না হয় দেশের ইসলাম প্রিয় তাওহিদী জনতা মাঠে নামতে বাধ্য হবে। বাংলাদেশের মানুষ রক্ত ও জীবন দিয়ে হলেও এই সমকামী দূত ও জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে যা সামাল দেয়া অন্তবর্তীকালীন সরকারের জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়াবে।

নেতৃদ্বয় বলেন, পৃথিবীতে অনেক রাষ্ট্রে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে সেখানে জাতিসংঘের মানবতা কোথায় ? থাকে ফিলিস্তিনে ইসরাইলিরা হাজার হাজার মুসলিম নারী পুরুষ শিশু-কিশোরদের নির্বিচারে হত্যা করছে। সেখানেতো জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস নেই। ভারতের কাশ্মীরে মুসলমানদেরকে হত্যা করে আগুনে জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে সেখানে তো জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন নেই। ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার বাংলাদেশি হাজার হাজার মানুষকে খুন করে হাত পা ভেঙে গুলি করে আহত করেছে এত বছর তো জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বাংলাদেশে স্থাপনের মনে হয়নি। যখন বাংলাদেশ জুলুম নির্যাতন খুন ধর্ষন ও দুর্নীতি থেকে মুক্ত হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখনই মানবাধিকার কমিশনের নামে বাংলাদেশে জাতিসংঘ নতুন বিশৃংখলার জাল বিস্তার করতে চাচ্ছে। এরা এদেশে সমকামিতা এবং পশ্চিমা অপসংস্কৃতি বিস্তারের নীল নকশার অংশ হিসেবে অফিস স্থাপনের এজেন্ডা হাতে নিয়েছে। যা দেশের জনগণ যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করবেই ইনশাআল্লাহ।

ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশ ঃ ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশ ও সম্মিলিত ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খায়রুল আহসান আজ এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের অন্তবর্রর্তীকালীন সরকার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় স্থাপন সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদন দিয়েছে ইহা সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং বেআইনি, বাংলাদেশের জনগণ এটা চায় না কিন্ত‘ সরকার কিসের উপর ভিত্তি করে অনুমোদন দিয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার কি কোন দেশের চাপে পড়ে মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে কিনা জাতি সেটা জানতে চায়।

তিনি বাংলাদেশের সরকারের এরকম জনবিরোধী এবং ইসলাম বিরোধী সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেওয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি আরও বলেন, এরকম বড় কোন সিদ্ধান্ত নিতে হলে সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে পরামর্শ করা জরুরি। কিন্ত তারা এগুলির কোন তোয়াক্কাই করছে না। তিনি আরও বলেন, সরকার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয় স্থাপনের এবং ইসলাম বিরোধী কোন কার্যক্রম করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নয়। তিনি অন্তবর্রর্তীকালীন সরকারকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয় স্থাপন সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের অনুমোদন জরুরি ভিত্তিতে বাতিল করার জন্য আহবান জানান।

খেলাফত আন্দোলন ঃ বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিরোধী জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তকে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি আখ্যায়িত করে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে ইসলাম ও মুসলিম দেশ গুলোর জন্য কোন উপকারে আসে নাই। তারা যেসব দেশে অফিস খোলে সেদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে। জাতিসংঘের কথিত মানবাধিকার কার্যালয় বাংলাদেশে পশ্চিমাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে এবং মুসলিম দেশের ধর্মীয় সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জীবনে হস্তক্ষেপের পথ উন্মুক্ত করবে। তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার নামে জাতিসংঘ ইসলামী শরিয়াহ, পারিবারিক আইন,সামাজিক রীতিনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত বাস্তবায়ন করছে।

বুধবার (৯ জুলাই) বিকেলে ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলপুর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মিছিল পূর্ব সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দলের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ হাফেজ্জী,সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, প্রচার সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী, মহানগর আমির মাওলানা মাহবুবুর রহমান ও মুফতি আবুল হাসান কাসেমী, মাওলানা গাজী ইউসুফ, মাওলানা নূরুর রহমান ও জনাব শাহিন আলম।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ঃ জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব শাইখুল হাদিস ড. গোলাম মুহিউদ্দিন ইকরাম জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের খসড়া অনুমোদনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, জাতিসংঘ ফিলিস্তিন ও গাজায় বিশ্ব মানবতার দুশমন ইসরাইলি বর্বরোচিত হত্যাকা- বন্ধ করতে কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি। দেশে দেশে মুসলমানদের অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের দৃশ্যমান কোন ভূমিকা নেই। যুগ যুগ ধরে ফিলিস্তিনের লাখ লাখ মুসলিম নারী শিশুকে হত্যা করে ইসরাইল মানবাধিকারের কবর রচনা করেছে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘ নিরীহ ফিলিস্তিনিদের রক্ষায় সন্তোষজনক ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশে অফিস স্থাপনের সুযোগ দিলে এরা রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। অবিলম্বে এই দেশ বিরোধী আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত বাতিল করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের নিকট জোর দাবি জানান তিনি।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে হেফাজতের বিক্ষোভ সমাবেশ

আপডেট সময় : ১০:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫

ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে শুক্রবার বাদ জুমা হেফাজতের বিক্ষোভ সমাবেশ

ঢাকায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের খসড়া অনুমোদন দেয়ার প্রতিবাদ এবং তা’ বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন ইসলামী দলের মাঝে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ঢাকায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ ও সার্বভৌমত্বে হুমকি বলে মনে করছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রে এ ধরনের কার্যালয় বসানো মূলত বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের ঘৃণ্য প্রচেষ্টা বলে মনে করেন তারা।

ঢাকায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুক্রবার (১০ জুলাই) বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরের সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ও নগর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক সকল ঈমানদার, দেশপ্রেমিক ও স্বাধীনতা-সচেতন নাগরিকদেরকে দলমত নির্বিশেষে আজকের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ঃ বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন প্রধান আমিরে শরীয়ত আল্লামা আবু জাফার কাসেমী ও মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন স্থাপনের অনুমোদনের তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশে কোন প্রকার মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে না যে বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপন করতে হবে। মানবাধিকার কার্যালয়ের নামে একজন সমকামীকে দূত হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে এটা ৯০% মুসলমানদের দেশে বড় লজ্জা এবং অপমান যেটা দেশের সাধারণ জনগণ এবং মুসলমান কোনদিন মেনে নিতে পারে না। প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে নেতৃদ্বয় বলেন, দ্রুত এই অনুমোদন বাতিল করুন না হয় দেশের ইসলাম প্রিয় তাওহিদী জনতা মাঠে নামতে বাধ্য হবে। বাংলাদেশের মানুষ রক্ত ও জীবন দিয়ে হলেও এই সমকামী দূত ও জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে যা সামাল দেয়া অন্তবর্তীকালীন সরকারের জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়াবে।

নেতৃদ্বয় বলেন, পৃথিবীতে অনেক রাষ্ট্রে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে সেখানে জাতিসংঘের মানবতা কোথায় ? থাকে ফিলিস্তিনে ইসরাইলিরা হাজার হাজার মুসলিম নারী পুরুষ শিশু-কিশোরদের নির্বিচারে হত্যা করছে। সেখানেতো জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস নেই। ভারতের কাশ্মীরে মুসলমানদেরকে হত্যা করে আগুনে জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে সেখানে তো জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন নেই। ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার বাংলাদেশি হাজার হাজার মানুষকে খুন করে হাত পা ভেঙে গুলি করে আহত করেছে এত বছর তো জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বাংলাদেশে স্থাপনের মনে হয়নি। যখন বাংলাদেশ জুলুম নির্যাতন খুন ধর্ষন ও দুর্নীতি থেকে মুক্ত হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখনই মানবাধিকার কমিশনের নামে বাংলাদেশে জাতিসংঘ নতুন বিশৃংখলার জাল বিস্তার করতে চাচ্ছে। এরা এদেশে সমকামিতা এবং পশ্চিমা অপসংস্কৃতি বিস্তারের নীল নকশার অংশ হিসেবে অফিস স্থাপনের এজেন্ডা হাতে নিয়েছে। যা দেশের জনগণ যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করবেই ইনশাআল্লাহ।

ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশ ঃ ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশ ও সম্মিলিত ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খায়রুল আহসান আজ এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের অন্তবর্রর্তীকালীন সরকার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় স্থাপন সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদন দিয়েছে ইহা সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং বেআইনি, বাংলাদেশের জনগণ এটা চায় না কিন্ত‘ সরকার কিসের উপর ভিত্তি করে অনুমোদন দিয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার কি কোন দেশের চাপে পড়ে মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে কিনা জাতি সেটা জানতে চায়।

তিনি বাংলাদেশের সরকারের এরকম জনবিরোধী এবং ইসলাম বিরোধী সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেওয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি আরও বলেন, এরকম বড় কোন সিদ্ধান্ত নিতে হলে সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে পরামর্শ করা জরুরি। কিন্ত তারা এগুলির কোন তোয়াক্কাই করছে না। তিনি আরও বলেন, সরকার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয় স্থাপনের এবং ইসলাম বিরোধী কোন কার্যক্রম করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নয়। তিনি অন্তবর্রর্তীকালীন সরকারকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয় স্থাপন সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের অনুমোদন জরুরি ভিত্তিতে বাতিল করার জন্য আহবান জানান।

খেলাফত আন্দোলন ঃ বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিরোধী জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তকে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি আখ্যায়িত করে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে ইসলাম ও মুসলিম দেশ গুলোর জন্য কোন উপকারে আসে নাই। তারা যেসব দেশে অফিস খোলে সেদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে। জাতিসংঘের কথিত মানবাধিকার কার্যালয় বাংলাদেশে পশ্চিমাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে এবং মুসলিম দেশের ধর্মীয় সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জীবনে হস্তক্ষেপের পথ উন্মুক্ত করবে। তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার নামে জাতিসংঘ ইসলামী শরিয়াহ, পারিবারিক আইন,সামাজিক রীতিনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত বাস্তবায়ন করছে।

বুধবার (৯ জুলাই) বিকেলে ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলপুর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মিছিল পূর্ব সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দলের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ হাফেজ্জী,সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, প্রচার সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী, মহানগর আমির মাওলানা মাহবুবুর রহমান ও মুফতি আবুল হাসান কাসেমী, মাওলানা গাজী ইউসুফ, মাওলানা নূরুর রহমান ও জনাব শাহিন আলম।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ঃ জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব শাইখুল হাদিস ড. গোলাম মুহিউদ্দিন ইকরাম জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের খসড়া অনুমোদনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, জাতিসংঘ ফিলিস্তিন ও গাজায় বিশ্ব মানবতার দুশমন ইসরাইলি বর্বরোচিত হত্যাকা- বন্ধ করতে কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি। দেশে দেশে মুসলমানদের অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের দৃশ্যমান কোন ভূমিকা নেই। যুগ যুগ ধরে ফিলিস্তিনের লাখ লাখ মুসলিম নারী শিশুকে হত্যা করে ইসরাইল মানবাধিকারের কবর রচনা করেছে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘ নিরীহ ফিলিস্তিনিদের রক্ষায় সন্তোষজনক ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশে অফিস স্থাপনের সুযোগ দিলে এরা রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। অবিলম্বে এই দেশ বিরোধী আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত বাতিল করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের নিকট জোর দাবি জানান তিনি।