ঢাকা ০৬:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সার্কের বিকল্প নতুন জোট আনছে চীন-পাকিস্তান, সঙ্গে বাংলাদেশও

দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন একটি আঞ্চলিক জোট গঠনের পরিকল্পনায় একযোগে কাজ করছে চীন ও পাকিস্তান। ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন অকার্যকর হয়ে পড়া দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) বিকল্প হয়ে উঠতে পারে এই উদ্যোগ। পাকিস্তানি দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশও যুক্ত রয়েছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি চীনের কুনমিং শহরে চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৯ জুনের এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্য, যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়িয়ে আঞ্চলিক সংহতি জোরদার করার পাশাপাশি সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশগুলোকে নতুন এই জোটে অন্তর্ভুক্ত করার পথ তৈরি করা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদ ও বেইজিং ইতোমধ্যেই এই পরিকল্পনা নিয়ে অনেক দূর এগিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভারতকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা সাড়া দেবে না। কারণ, ভারতের আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থান ও স্বার্থ ভিন্ন। তবে শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, আফগানিস্তানসহ আরও কয়েকটি দেশ নতুন এই উদ্যোগে যোগ দিতে পারে।

প্রস্তাবিত এই জোটের মূল লক্ষ্য হবে আঞ্চলিক বাণিজ্য, সংযুক্ততা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি। একসময় সার্ককে দক্ষিণ এশিয়ার ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন’ বলা হলেও, ভারত-পাকিস্তান বৈরিতা ও রাজনৈতিক জটিলতায় ২০১৪ সালের পর থেকে এটি কার্যত অচল হয়ে আছে। ২০১৬ সালে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, ভারত বয়কট করায় সম্মেলনটি বাতিল হয়। তখন বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও সমর্থন পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ, কাশ্মীরের পেহেলগামের হামলার ঘটনার পর ভারত পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের জন্য সার্কভুক্ত বিশেষ ভিসা সুবিধাও বাতিল করেছে, যা সংস্থাটির ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করেছে।

চীন ও পাকিস্তান মনে করছে, একাধিক দেশের অংশগ্রহণে নতুন এই জোট অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও মতাদর্শগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এদিকে, ভারতও সাম্প্রতিক সময়ে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) প্রতি আগ্রহ হারিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সর্বশেষ দুটি এসসিও সম্মেলনে অংশ নেননি, যেখানে চীন, রাশিয়া, ইরান ও পাকিস্তানসহ মধ্য এশিয়ার শক্তিধর দেশগুলো রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় সার্কের স্থবিরতার সুযোগে এই নতুন জোট বড় ধরনের আঞ্চলিক পরিবর্তন এনে দিতে পারে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

সার্কের বিকল্প নতুন জোট আনছে চীন-পাকিস্তান, সঙ্গে বাংলাদেশও

আপডেট সময় : ০৪:৪০:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন একটি আঞ্চলিক জোট গঠনের পরিকল্পনায় একযোগে কাজ করছে চীন ও পাকিস্তান। ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন অকার্যকর হয়ে পড়া দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) বিকল্প হয়ে উঠতে পারে এই উদ্যোগ। পাকিস্তানি দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশও যুক্ত রয়েছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি চীনের কুনমিং শহরে চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৯ জুনের এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্য, যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়িয়ে আঞ্চলিক সংহতি জোরদার করার পাশাপাশি সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশগুলোকে নতুন এই জোটে অন্তর্ভুক্ত করার পথ তৈরি করা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদ ও বেইজিং ইতোমধ্যেই এই পরিকল্পনা নিয়ে অনেক দূর এগিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভারতকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা সাড়া দেবে না। কারণ, ভারতের আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থান ও স্বার্থ ভিন্ন। তবে শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, আফগানিস্তানসহ আরও কয়েকটি দেশ নতুন এই উদ্যোগে যোগ দিতে পারে।

প্রস্তাবিত এই জোটের মূল লক্ষ্য হবে আঞ্চলিক বাণিজ্য, সংযুক্ততা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি। একসময় সার্ককে দক্ষিণ এশিয়ার ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন’ বলা হলেও, ভারত-পাকিস্তান বৈরিতা ও রাজনৈতিক জটিলতায় ২০১৪ সালের পর থেকে এটি কার্যত অচল হয়ে আছে। ২০১৬ সালে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, ভারত বয়কট করায় সম্মেলনটি বাতিল হয়। তখন বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও সমর্থন পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ, কাশ্মীরের পেহেলগামের হামলার ঘটনার পর ভারত পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের জন্য সার্কভুক্ত বিশেষ ভিসা সুবিধাও বাতিল করেছে, যা সংস্থাটির ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করেছে।

চীন ও পাকিস্তান মনে করছে, একাধিক দেশের অংশগ্রহণে নতুন এই জোট অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও মতাদর্শগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এদিকে, ভারতও সাম্প্রতিক সময়ে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) প্রতি আগ্রহ হারিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সর্বশেষ দুটি এসসিও সম্মেলনে অংশ নেননি, যেখানে চীন, রাশিয়া, ইরান ও পাকিস্তানসহ মধ্য এশিয়ার শক্তিধর দেশগুলো রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় সার্কের স্থবিরতার সুযোগে এই নতুন জোট বড় ধরনের আঞ্চলিক পরিবর্তন এনে দিতে পারে।