আট দলের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নবম আসর। গ্রুপপর্বের লড়াই শেষে বিদায় নিয়েছে চার দল। আসরের প্রথম সেমিফাইনালের হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ভারত-অস্ট্রেলিয়া। টুর্নামেন্টের আয়োজক পাকিস্তান হলেও রাজনৈতিক কারণে দেশটিতে খেলতে যায়নি ভারত। হাইব্রিড মডেলের আসরে ভারতের সঙ্গে খেলতে পাকিস্তান থেকে অজিদের উড়াল দিতে হয়েছে দুবাইয়ে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টায় শুরু হবে মাঠের লড়াই। সেমিফাইনালে নিশ্চিতভাবে বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রতিশোধ নিতে মুখিয়ে থাকবে ভারত। আর অস্ট্রেলিয়া চাইবে আইসিসি টুর্নামেন্টে নিজেদের দাপট ধরে রাখতে।
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের উৎসব মাটি করে চ্যাম্পিয়ন হয় অস্ট্রেলিয়া। ট্রাভিস হেডের তাণ্ডব সেদিন থামাতে পারেনি ভারতীয় বোলাররা। আজ তার প্রতিশোধ নিতে চাইবে ম্যান ইন ব্লুরা, অন্যদিকে অজিরা চাইবে ১৬ বছরের আক্ষেপ ঘোচাতে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শেষ শিরোপা ঘরে তুলেছিলো ২০০৯ সালে।
এমন ম্যাচের আগে ভারত যেমন অ্যাডভান্টেজে এগিয়ে, অস্ট্রেলিয়া বোলিং বিভাগে তারকা তিন পেসার (প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও মিচেল স্টার্ক) ছাড়া একপ্রকার খর্বশক্তির দল নিয়ে খেলছে। তার পরও দলটা অস্ট্রেলিয়া। বোলিং বিভাগের তিন চেনা অস্ত্রকে ছাড়াই প্রমাণ করে ছেড়েছে কেন তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। এই ম্যাচটা আবার গত ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের পুনর্মঞ্চায়ন।
দুবাইয়ের এই ম্যাচে স্পিন যে বড় ভূমিকা রাখবে তাতে সন্দেহ নেই। সর্বশেষ ম্যাচে বরুণ চক্রবর্তীর স্পিন ভেলকিতে হেরেছে নিউজিল্যান্ড। ৪২ রানে নিয়েছেন ৫উইকেট। তার কথা উঠতেই স্মিথ জানালেন, শুধু বরুণ নয়, আমার মনে হয় ওদের বাকি স্পিনাররাও মানসম্পন্ন। আমার মনে হয় ম্যাচটা আমরা হারবো নাকি জিতবো, সেটা নির্ভর করবে ওদের স্পিন কীভাবে খেলবো। বিশেষ করে মাঝের ওভারগুলোতে। আমরা এখানে যেভাবে এসেছি, তাতে এটা অবশ্যই চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে।
সবগুলো ম্যাচ একই ভেন্যুতে খেলাটা একপ্রকার বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে ভারতীয় দলকে। রাজনৈতিক বৈরী সম্পর্কে দেশটির সরকার রোহিতদের পাকিস্তান সফরে রাজি হয়নি। তাই নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে দুবাই বেছে নিয়েছে। কিন্তু সেই সুযোগে তারা টুর্নামেন্টে এক জায়গাতেই ঘাঁটি তৈরি করেছে। অথচ বাকি দলগুলোকে বিভিন্ন শহর সফর করতে হয়েছে। বিষয়টা নিয়ে ম্যাচের আগে প্রশ্ন উঠতেই রোহিত বলেছেন, আসলে পিচ একই রকম দেখতে কিন্তু যখন খেলা হয়, তখন সেটা ভিন্নভাবে আচরণ করে। তাই এটা বলার সুযোগ নেই গতকালকের মতো আজ একইভাবে খেলার সুযোগ পাচ্ছি।
একই ভেন্যুতে খেলায় সেটা হোমগ্রাউন্ডের মতোই হওয়ার কথা। কিন্তু রোহিত জানিয়েছেন,আমরা এটাও জানি না সেমিফাইনালে কোনও পিচে খেলা হবে। এটা আমাদের হোম গ্রাউন্ড না, দুবাই। এখানে অনেক ম্যাচ খেলার সুযোগও পাই না। ফলে এটা আমাদের জন্য নতুন।
মুখোমুখির দীর্ঘ পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে জয়ের পাল্লা ভারি অস্ট্রেলিয়ার দিকে। ১৫১ ওয়ানডেতে অজিদের ৮৪ জয়ের বিপরীতে ভারত জিতেছে ৫৭টিতে। বাকি ১০ ম্যাচ শেষ হয়েছে ফল ছাড়াই। টাই হয়নি কোনো ম্যাচে। ৫৭ জয়ের মধ্যে ৩৩ ম্যাচে ঘরের মাঠে জয় পেয়েছে ভারত। প্রতিপক্ষের মাঠে ১৪ ও নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ১০ জয় আছে রোহিত শর্মাদের। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া নিজেদের মাটিতে জিততে পেরেছে ৩৮ ম্যাচ। ৩৪ ম্যাচ ভারতের মাঠে এবং নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ১২ জয় আছে স্টিভেন স্মিথদের।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আগে ভারতের সঙ্গে ৪ বার দেখা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। পাল্লা ভারী ভারতের। প্রতিযোগিতার প্রথম দুই আসরে জয় পেয়েছিল ভারত, বিপরীতে ২০০৬ আসরে জয় আছে অজিদের। ২০০৯-এর ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। ২০০২ আসরে বৃষ্টির কারণে রিজার্ভ ডেতেও ম্যাচ মাঠে না গড়ালে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। পরে ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রতিযোগিতাটিতে দ্বিতীয়বার নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের দেখা পায় টিম ইন্ডিয়া। অন্যদিকে ২০০৬ ও ২০০৯ আসরে দুবার চ্যাম্পিয়ন হয় অস্ট্রেলিয়া।
চেতনায়২৪ ডেস্ক : 






































