ঢাকা ০৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালীতে প্লাস্টিকমুক্ত পরিবেশের কর্মশালায় প্লাস্টিক ব্যানার !

নোয়াখালী, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫: ‘Zero Waste Bangladesh’ এবং ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’ উপলক্ষে প্লাস্টিক পণ্যের বিকল্প ব্যবহার বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক জনাব খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর, নোয়াখালীর উপপরিচালক মিহির লাল। তবে, এই কর্মশালার মূল বার্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে আয়োজকদের পিছনে থাকা PVC প্লাস্টিকের ব্যানার, যা পরিবেশ দূষণের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

কর্মশালায় বক্তারা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (Single-Use Plastic) দূষণ রোধে কাগজ, পাট, বাঁশ, এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান। কিন্তু, আয়োজকদের পিছনে থাকা PVC প্লাস্টিকের ব্যানারটি পুরো আয়োজনের বার্তার সাথে সাংঘর্ষিক ও অপ্রাসঙ্গিক। PVC (Polyvinyl Chloride) প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, পুনঃব্যবহারযোগ্য নয় এবং এটি পুড়লে বিষাক্ত ডাইঅক্সিন উৎপন্ন হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

এই ঘটনাকে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এবং সচেতন নাগরিকরা ভণ্ডামি হিসেবে দেখছেন। নোয়াখালী পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার-এর সভাপতি ইসমাইল হোসেন সজীব বলেন, “যারা পরিবেশ রক্ষার কথা বলছেন, তারাই যদি পরিবেশ দূষণকারী উপকরণ ব্যবহার করেন, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে কী বার্তা পৌঁছাবে?”

নোয়াখালী নাগরিক কমিটির অন্যতম সদস্য তুহিন ইমরান বলেন, “এটি দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও প্রহসনের শামিল। প্রশাসন যদি সত্যিই প্লাস্টিকমুক্ত পরিবেশ গড়তে চায়, তাহলে তাদের নিজেদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে।”

এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালায় PVC ব্যানারের ব্যবহার প্রশাসনের অসংগতি প্রকাশ করে। পরিবেশ রক্ষার নীতিমালার আলোকে সরকারি দপ্তরগুলোকে অবশ্যই প্লাস্টিকমুক্ত উপকরণ ব্যবহারে উদ্যোগ নিতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের উচিত নিজেদের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে এমন ভুল না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই কর্মশালার প্রতিশ্রুতিগুলো কি বাস্তবে কার্যকর হবে, নাকি এটি ছিল শুধুই আনুষ্ঠানিকতা? প্লাস্টিক দূষণ রোধে শুধু বক্তৃতা নয়, বরং প্রশাসনকে প্রথমেই নিজেদের কার্যক্রমে পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

সচেতন নাগরিকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে প্রশাসনের এমন দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি হবে না এবং পরিবেশ রক্ষার বার্তা কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বাস্তবেও প্রতিফলিত হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

নোয়াখালীতে প্লাস্টিকমুক্ত পরিবেশের কর্মশালায় প্লাস্টিক ব্যানার !

আপডেট সময় : ০২:১৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

নোয়াখালী, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫: ‘Zero Waste Bangladesh’ এবং ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’ উপলক্ষে প্লাস্টিক পণ্যের বিকল্প ব্যবহার বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক জনাব খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর, নোয়াখালীর উপপরিচালক মিহির লাল। তবে, এই কর্মশালার মূল বার্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে আয়োজকদের পিছনে থাকা PVC প্লাস্টিকের ব্যানার, যা পরিবেশ দূষণের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

কর্মশালায় বক্তারা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (Single-Use Plastic) দূষণ রোধে কাগজ, পাট, বাঁশ, এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান। কিন্তু, আয়োজকদের পিছনে থাকা PVC প্লাস্টিকের ব্যানারটি পুরো আয়োজনের বার্তার সাথে সাংঘর্ষিক ও অপ্রাসঙ্গিক। PVC (Polyvinyl Chloride) প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, পুনঃব্যবহারযোগ্য নয় এবং এটি পুড়লে বিষাক্ত ডাইঅক্সিন উৎপন্ন হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

এই ঘটনাকে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এবং সচেতন নাগরিকরা ভণ্ডামি হিসেবে দেখছেন। নোয়াখালী পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার-এর সভাপতি ইসমাইল হোসেন সজীব বলেন, “যারা পরিবেশ রক্ষার কথা বলছেন, তারাই যদি পরিবেশ দূষণকারী উপকরণ ব্যবহার করেন, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে কী বার্তা পৌঁছাবে?”

নোয়াখালী নাগরিক কমিটির অন্যতম সদস্য তুহিন ইমরান বলেন, “এটি দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও প্রহসনের শামিল। প্রশাসন যদি সত্যিই প্লাস্টিকমুক্ত পরিবেশ গড়তে চায়, তাহলে তাদের নিজেদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে।”

এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালায় PVC ব্যানারের ব্যবহার প্রশাসনের অসংগতি প্রকাশ করে। পরিবেশ রক্ষার নীতিমালার আলোকে সরকারি দপ্তরগুলোকে অবশ্যই প্লাস্টিকমুক্ত উপকরণ ব্যবহারে উদ্যোগ নিতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের উচিত নিজেদের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে এমন ভুল না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই কর্মশালার প্রতিশ্রুতিগুলো কি বাস্তবে কার্যকর হবে, নাকি এটি ছিল শুধুই আনুষ্ঠানিকতা? প্লাস্টিক দূষণ রোধে শুধু বক্তৃতা নয়, বরং প্রশাসনকে প্রথমেই নিজেদের কার্যক্রমে পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

সচেতন নাগরিকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে প্রশাসনের এমন দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি হবে না এবং পরিবেশ রক্ষার বার্তা কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বাস্তবেও প্রতিফলিত হবে।